দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪২টি জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি দাবদাহ বিরাজ করছে। বুধবার (১৫ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত গত
২৪ ঘণ্টায় দেশে কোথাও বৃষ্টি হয়নি। এদিকে দেশের পাঁচটি বিভাগের ওপর দিয়ে দুই দিনের তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তা
দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মে মাসের ২১ তারিখের পর সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির বার্তাও দিয়েছে সংস্থাটি। যা
পরবর্তীতে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। বৃহস্পতিবার সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
বুধবার দিনাজপুরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ডকরা হয়েছে। এদিন ঢাকার তাপমাত্রা ছিল
৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া রাজশাহীতে ৩৮, রংপুরে ৩৭ দশমিক ৭, ময়মনসিংহে ৩৬ দশমিক ২,
সিলেটে ৩৬ দশমিক ৫, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ৩৭ দশমিক ৫, খুলনায় ৩৬ দশমিক ৬ এবং বরিশালে ৩৫ দশমিক ৬
ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ডকরা হয়েছে। মাত্র পাঁচ দিন আগে ১০ মে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৮
ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ হিসাবে তাপমাত্রা বেড়েছে ৪ ডিগ্রির বেশি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পাবনা, দিনাজপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম এবং রাঙ্গামাটি জেলার ওপর
দিয়ে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী এবং বান্দরবান জেলাসহ
ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগ এবং রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অন্যান্য অঞ্চলের ওপর দিয়ে
মৃদু তা পপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এটি অব্যাহত থাকতে পারে ও বিস্তার লাভ করতে পা রে। সারা দেশে দিন এবং রাতের
তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে বুধবার সন্ধ্যা থেকে
শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাবে। এ সময় জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তিকর
পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
বাতাসে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সে লসিয়াসের কম হলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ ধরা হয়। ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রির
কম তাপমাত্রাকে বলা হয় মাঝারি এবং ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রির কম তাপমাত্রাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। আর
তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির ওপরে উঠলে তাকে বলা হয় অতি তীব্র তাপপ্রবাহ।
বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি/
বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পা রে। এ হাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক
থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায়
অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময়ের শুরুর দিকে বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা বয়েছে।
সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে আবহাওয়া অফিস জানায়, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তরপশ্চিম
বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
এদিকে আগামী ২০ মের পর সাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। যেটি শক্তি পেলে পরবর্তীতে সুস্পষ্ট লঘুচাপ,
নিম্নচাপ ও গভীর নিম্নচাপের ধাপ পেরিয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ভারতের আবহাওয়া অফিস বলছে, বঙ্গোপসাগরে
এই নতুন ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে, সেটির নাম রাখা হবে রেমাল। এই নামটি ওমানের দেওয়া। এটির বাংলা অর্থবালি।
পূর্বাভাস অনুসারে আগামী ২০ মে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে তৈরি হতে পারে একটি ঘূর্ণাবর্ত। সেটি সোজা উত্তর দিকে শক্তি
বাড়াবে। ২৪ মে সেটি ঘূর্ণিঝড়ের আকার নিতে পারে। ২৫ মে সন্ধের পর ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিমবঙ্গ বা বাংলাদেশের দিকে
যেতে পারে।
আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, আগামী দুই দিন বিক্ষিপ্তভাবে দেশের পাঁচ বিভাগে মৃদু থেকে
মাঝারি তাপপ্রবাহ বইবে। ঘূর্ণিঝড়ের বিভিন্ন মডেল পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে ২১ তারিখের পর দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে
একটা ঘূর্ণাবর্ততৈরি হতে পারে। যেটি পরবর্তীতে লঘুচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এটির গতি প্রকৃতি এখন
স্পষ্ট নয়। লঘুচাপ সৃষ্টির পর বলা যাবে।
তিনি বলেন, এখনো লঘুচাপ সৃষ্টি হয়নি। তাই আগে থেকেই এটির গতি প্রকৃতি বলা ঠিক হবে না। অনেক সময়
সাইক্লোনে রূপান্তরিত হওয়ার পর সেটির গতি প্রকৃতি পরিবর্তন হয়। তাই এটি এখন উপকূলের কোন অঞ্চলে বা কোন
দেশে আঘাত হানবে তা বলা উচিত নয়।
চলতি গরমে র মৌসুমে ১ এপ্রিল থেকে তাপপ্রবাহ শুরু হয়। ৬ মে পর্যন্ত প্রতিদিন দেশের কোনো না কোনো অঞ্চলের
ওপর দিয়ে বয়ে গেছে তাপপ্রবাহ। দেশের ইতিহাসে একটানা ৩৭ দিন তাপপ্রবাহের সবচেয়ে বড় রেকর্ডএটি। ধীরে
ধীরে বৃষ্টি বাড়ায় ৭ থেকে ১২ মে পর্যন্ত ছয় দিন কোথাও তাপপ্রবাহ ছিল না।

