নিজস্ব প্রতিবেদক: গত ৫ ফেব্রæয়ারি-২০২৪ইং তারিখ অপরাধ বিচিত্রা সংখ্যা – ৩৪, ২২ মাঘ, ১৪৩০ বাংলা তারিখ পৃষ্ঠা নং – ২৬ প্রকাশিত “
“সুন্দরী মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া লম্পট হেলালের পেশা”- শিরোনামসহ অপরাধ বিচিত্রা নামক পত্রিকায় একাধিক শিরোনামে বিভিন্ন সময় সংবাদ প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ ফেব্রæয়ারি-২০২৪ইং তারিখ সংখ্যা – ৩৬ মো: হেলাল উদ্দিন এর অপকর্মের বিরুদ্ধে অপরাধ বিচিত্রায় “সুন্দরী মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া লম্পট হেলালের পেশা”- শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। উল্লেখিত সংবাদের জের ধরে গত ২২ ফ্রেব্রæয়ারি-২০২৪ইং তারিখ আনুমানিক সকাল ১১:০৫ ঘটিকার সময় অপরাধ বিচিত্রার সিটি রিপোর্টার ফরমান উল্লাহ খান (৪৪) তার পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এবং ডা: শিলা বেগম (২৮) ঔষধ ক্রয় করার জন্য ওয়ারী থানাধীন জয়কালি মন্দির সংলগ্ন নেহাল হোমিও হল এর পাশে উপস্থিত হলে লম্পট মো: হেলাল উদ্দিন এর অপকর্মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার কারনে হেলাল ক্ষিপ্ত হয়ে তার নির্দেশে মো: ইব্রাহিম খলিল ওরফে সোহান (৩৩) এবং ১/২ জন অজ্ঞাতনামা লোক সংবাদকর্মী ফরমান উল্লাহ খান এবং ডা: শিলা বেগম এর পেছনে লেলিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে মো: ইব্রাহিম খলিল ওরফে সোহান এবং ১/২ জন অজ্ঞাতনামা লোক পেছন দিক থেকে ডাক দিয়ে গতিরোধ করে লম্পট মো: হেলাল উদ্দিন এর অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে মো: ইব্রাহিম খলিল ওরফে সোহান ক্ষিপ্ত হয়ে অজ্ঞাতনামা আরো ১/২ জন্য ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদকর্মী ফরমান উল্লাহ খান এবং ডা: শিলাকে এই বলে হুমকি প্রদান করে যে, উক্ত সংবাদ আর যাহাতে প্রকাশ না হয় আর প্রকাশ হলে সংবাদকর্মী ফরমান উল্লাহ খান ও ডা: শিলাকে নানারকম ভয়ভীতিসহ প্রাণনাশের হুমকি এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থান ত্যাগ করার নির্দেশ প্রদান করেন।

সংবাদকর্মী ফরমান উল্লাহ খান এর হাতে থাকা অপরাধ বিচিত্রা পত্রিকা ভরা ব্যাগটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করিলে সংবাদকর্মী দিতে অসম্মতি জানালে মো: ইব্রাহিম খলিল ওরফে সোহান সংবাদকর্মীকে মারধর করে এবং তার সাথে থাকা অপরাধ বিচিত্রা নামক পত্রিকা ভর্তি ব্যাগটি সংবাদকর্মীর হাত থেকে কেড়ে নিয়ে যায়। উল্লেখিত অপকর্মের ঘটনাটি ডা: শিলা বেগম ভিডিও করতে গেলে ডা: শিলার হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি মো: ইব্রাহিম খলিল ওরফে সোহান সহ অজ্ঞাতনামা ১/২ জন লোক কেড়ে নিয়ে যায় এবং গায়ে হাত তোলে। উক্ত ঘটনার ভিডিও ফুটেজ অপরাধ বিচিত্রার হাতে এসেছে। এ বিষয়ে গত ৭ এপ্রিল-২০২৪ইং তারিখ ওয়ারী থানায় অপরাধ বিচিত্রার সিটি রিপোর্টার ভুক্তভোগী ফরমান উল্লাহ খান একটি লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন। উক্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা রেজাউল করিম মো: হেলাল উদ্দিন এর অপকর্মের অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পায়। অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা রেজাউল করিম এ বিষয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিবে বলে ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীকে আশ্বাস প্রদান করে। অত:পর তদন্তকারী কর্মকর্তা রেজাউল করিম ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীকে বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক মো: হেলাল উদ্দিন গং এর অপকর্মের বিরুদ্ধে মামলা করার পরামর্শ প্রদান করেন। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী ফরমান উল্লাহ খান বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক একটি মামলা দায়ের করেন। যার সি,আর মামলা নং – ১৯৬/২৪, তাং ২৯/০৪/২০২৪ইং । এ অবস্থা হতে প্রতিকার পাওয়ার জন্য সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে ভুক্তভোগী ডা: শিলা বেগম গত ৮ মে-২০২৪ইং তারিখ বাংলাদেশ পরিবেশ পরিক্রমা সাংবাদিক সোসাইটিতে একটি লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় ৪৬/সি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মেরিন হোমিও হল, জয়কালী মন্দির ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হেলালের অপকর্মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের কারনে এলাকা বাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। হেলালের বিতর্কিত কর্মকান্ড এবং অপকর্মের সংবাদ নিউজের মাধ্যমে লোক সমাজে ফাঁস হওয়ার কারনে হেলালের আপন ভাই দুলাল ক্ষিপ্ত হয়ে ভুক্তভোগী মরিয়ম (আত্মমর্যাদা রক্ষায় ভুক্তভোগীর প্রকৃত নামের পরিবর্তে ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়) এর ভাই এবং পিতাকে মুঠো ফোনের মাধ্যমে কল করে নানারকম ভয়ভীতিসহ হুমকি প্রদান করে এবং হেলালের অপকর্মের ব্যপারে বাড়াবাড়ি না করার জন্য ভীতি প্রদর্শন করে। রাজধানীর ওয়ারী এলাকার নিবাসী মো: হেলাল উদ্দিন এর বিরুদ্ধে সম্পদশালী ব্যবসায়ী কিংবা সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়েদেরকে টার্গেট করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অন্তরঙ্গ মূহুর্তের ছবি ও ভিডিও চিত্র ধারণের পর বø্যাকমেইল করে বিয়ের পিড়িতে বসে অথবা বিয়ে করতে রাজি না হলে ভিডিও চিত্র ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি প্রদান করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মো: হেলাল উদ্দিন বিয়ে করলে বিভিন্ন সময় নানারকম অজুহাত প্রদর্শন করে এবং নির্যাতনের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদের হুমকি দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া মো: হেলাল উদ্দিন এর নিত্য নৈমিত্তিক ব্যপার। অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, ইতিমধ্যে মো: হেলাল উদ্দিন নামক এই যুবকের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন একাধিক যুবতী।
ভুক্তভোগী যুবতীরা প্রতারণাসহ অপকর্মের ফিরিস্তি তুলে ধরেন একাধিক ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগী মরিয়ম জানায়, ডেমরা থানাধীন কোনাপাড়া এলাকার ভুক্তভোগী মরিয়ম (২৮) মরিয়ম নামের উচ্চ শিক্ষিতা যুবতী হোমিও চিকিৎসক ওয়ারী থানাধীন জয়কালী মন্দির সংলগ্ন আল হেলাল হোমিও হলের ভিতর সুন্দরী যুবতীকে দেখা মাত্র মো: হেলাল উদ্দিন তাকে পছন্দ করে ফেলে। তারপর হেলাল ভুক্তভোগী মরিয়মকে জীবন সাথী হিসেবে পাওয়ার জন্য দীর্ঘ তিন বছর ধরে চেষ্টার পর ব্যর্থ হয়ে সুকৌশলে বিভিন্ন সময় নানারকম ছলছাতুরী ও প্রতারণার মাধ্যমে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করতে বাধ্য করেন। ভুক্তভোগী মরিয়ম আরোও জানায়, কয়েকমাস ধরে হেলালের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠার পর বিবাহের পূর্বে ভুক্তভোগীর সাথে অনৈতিকভাবে হেলাল শারীরিক সম্পর্ক করার চেষ্টা করে। ভুক্তভোগী মরিয়ম এতে রাজি না হয়ে কঠোরভাবে বাধা প্রদান করলে হেলাল ক্ষিপ্ত হয়ে ভুক্তভোগীর অভিভাবককে না জানিয়ে গোপনে বিয়ে করার জন্য ভুক্তভোগীকে চাপ প্রয়োগ করেন। ভুক্তভোগী বিয়ে করতে রাজি না হলে হেলালের আপন দুই বোন বিলকিস আক্তার এবং লিপি আক্তার এর সহযোগিতায় হেলাল নানারকম হয়রানিসহ ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন প্রকার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও চিত্র ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি প্রদান করে। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী মরিয়ম মানসম্মানের ভয়ে মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে গত ২০২০ সালের ৩ মার্চ ডিএমপির ওয়ারী থানাধীন হেলালের আপন বোনের বাসায় ইসলামি শরীয়ত মোতাবেক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। মো: হেলাল উদ্দিন এর সকল অপকর্মে সহযোগিতা করেন তার আপন ভাই দুলাল, মা ও দুই বোন এবং কিছু কুচক্রীমহল। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই মো: হেলাল হোমিও ঔষধ এর ব্যবসা আরো বড় করে রাতারাতি বড় লোক হওয়ার উদ্দেশ্যে হেলাল ভুক্তভোগীর নিকট হতে বিভিন্ন সময় নানারকম কলাকৌশলে বাইশ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী জানতে পারে তার স্বামী বিভিন্ন মেয়ের সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে ভুক্তভোগীর দেওয়া সমস্ত টাকা নষ্ট করে ফেলে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর স্বামী হেলাল নানারকম অজুহাত প্রদর্শন করে ব্যবসার কথা বলে ভুক্তভোগীকে আরো টাকা দেওয়ার জন্য শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করেন। ভুক্তভোগীর আর সামর্থ না থাকায় টাকা দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করলে এবং পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে পড়া মো: হেলালকে ভুক্তভোগী কঠোরভাবে বাধা প্রদান করে সুপথে ফিরে আনার চেষ্টা করলে তার পাষন্ড স্বামী এলোপাতাড়িভাবে ভুক্তভোগীকে কিল, ঘুসি, লাথি, থাপ্পর মেরে নীলাফুলাসহ জখম করে এবং বাসায় ব্যবহৃত বটি দিয়ে ভুক্তভোগীকে হত্যার হুমকি প্রদান করে। অত:পর ভুক্তভোগীর নিকট হতে মো: হেলাল যৌতুক হিসেবে দশ লক্ষ টাকা দাবী করেন অথবা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সাততলা ভবনের মালিক ভুক্তভোগীর বাড়িটি হেলালকে দিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব প্রদান করেন। অন্যথায় হেলালের দাবি পূরণ না করলে ভয়ভীতিসহ ভুক্তভোগীকে বিবাহ বিচ্ছেদের হুমকি প্রদান করে। অবশেষে ভুক্তভোগী লম্পট হেলালের চরিত্র বুঝতে পেরে তার চাহিদাকৃত দশ লক্ষ টাকা কিংবা বাড়ি দিতে রাজী না হলে হেলাল সংসার জীবনের স্বাভাবিক সম্পর্ক নষ্ট করে প্রায়ই ভুক্তভোগীকে হেলাল নানারকমভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। এক সময় হেলাল ভুক্তভোগীকে সুপরিকল্পিতভাবে কোনো কিছু বুঝতে না দিয়ে গত ১৬ অক্টোবর -২৩ইং তারিখ ডিভোর্সের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটায়। এ ব্যপারে ভুক্তভোগী সামাজিক মর্যাদার ভয়ে জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে সংসারের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার উদ্দেশ্যে হেলালের বিরুদ্ধে ডিএমপির ওয়ারী থানা, যাত্রাবাড়ী থানা, ডেমরা থানায় একাধিক অভিযোগসহ জিডি প্রদান করে। উল্লেখিত থানায় অভিযোগ ও জিডির দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা ভুক্তভোগী মরিয়মের নিকট বিস্তারিত ঘটনা জানার পর বিবাদী হেলালকে কঠোরভাবে সতর্ক করে এবং ভুক্তভোগী মরিয়ম নামে বিবাদীর সাথে দু:খ প্রকাশ করে থানা পুলিশ আপোষ করে ফেলার আদেশ প্রদান করে । কিন্তু বিধিবাম, চোর না শোনে ধর্মের কাহিনী। বরং হেলাল পুলিশের কোন কথা না শুনে ভুক্তভোগী মরিয়মের সাথে আপোষ করা তো দূরের কথা ভুক্তভোগী মরিয়মকে মিথ্যা অপবাদ প্রদান করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এমনকি ডেমরা থানার অপারেশন ওসি বিবাদী মরিয়মের অভিযোগের উপর ভিত্তি করে মো: হেলালকে ডেমার থানায় আসার জন্য আদেশ প্রদান করে। কিন্তু হেলাল ডেমরা থানার অপারেশন ওসির আদেশ উপেক্ষা করে ওসির সাথে হেলাল খারাপ ব্যবহার করে। ভুক্তভোগী মরিয়ম হেলালের অপকর্মের আশানুরূপ ফল না পেয়ে অবশেষে বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক একটি মামলা দায়ের করে। যার সিআর মামলা নং – ৪৭৭/২৩, তাং- ১৪/১২/২০২৩ইং। বিজ্ঞ আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আদালতের নির্দেশ থাকা স্বত্তে¡ও কোনো এক অজানা কারনে হেলাল গ্রেপ্তার না হয়ে বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক আদালতে উপস্থিত হয়ে গত ২০ডিসেম্বর-২৩ইং তারিখ জামিনে মুক্তি লাভ করে। বর্তমানে ভুক্তভোগী মরিয়ম হেলালের ফাঁদে পড়ে সবকিছু হারিয়ে রিক্ত, নি:স্ব এবং অসহায় অবস্থায় চরম উদ্বেগ এবং উৎকন্ঠায় এক অজানা আতঙ্কে দিনযাপন করছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী মরিয়মসহ অপরাধ বিচিত্রার সিটি রিপোর্টার ফরমান উল্লাহ খান জানমালের চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছে। এমতাবস্থায় সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক মো: হেলাল উদ্দিন গং এর বিরুদ্ধে দ্রæত ব্যবস্থ’া না নিলে ভুক্তভোগীসহ সংবাদকর্মী যে কোন সময় যে কোন ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে পারে এমনকি প্রাণহানির মতো আশঙ্কা বোধ করছে।
চলবে …

