চৌধুরী ঃ
মানবিক কারণেই হিজড়াদের সাধ্যমত সাহায্য-সহযোগিতা করে থাকে। তবে সেই সাহায্য-সহযোগিতা পাওয়া হিজড়ারা যেন দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। চাঁদাবাজিতে রূপ নিয়েছে। হিজড়া বাহিনী বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নামে বিভক্ত হয়ে অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে চাঁদাবাজি করছে, শিশু নাচানোর নাম করে পরিবারের কাছ থেকে জোর করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। তাদের মাত্রাতিরিক্ত অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন রাজধানীবাসী। হিজড়াদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খখলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না, যে কারণে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বিভিন্ন অভারব্রিজের নিচে, স্কুল কলেজের সামনে, রাস্তার পাশে দোকানে, ফুটপাতের দোকানে জোর করে তারা চাঁদাবাজি করছে। টাকা না দিলে হিজরাদের কাছে অপমানতি হয় দোকানিদের। বিভিন্ন স্কুলের সামনে অবস্থান করে ছাত্র-ছাত্রীদের জিম্মি করে টাকা আদায়ের ঘটনাও ঘটছে। এমনকি মায়েদের ব্যাগ থেকে জোর করে টাকা নিয়ে যায়। কেউ টাকা দিতে অস্বীকার করলে ছেলে-মেয়ে অপহরণের হুমকি দেয়। বাসাবাড়ি গিয়ে হিজড়ারা চাঁদা চাচ্ছে, টাকা না দিলে হুমকি দেয় তাদের। বাসার সামনে ময়লা ফেলে যাওয়ার কথাও বলে তারা। এ দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, হিজড়াদের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অভিযোগ পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। মানুষ সাধ্যমতো তাদের টাকা ও বিভিন্ন মালামাল দিয়ে সহযোগিতা করে আসছে। কয়েক বছর হিজড়াদের আচরণ বদলে গেছে। তারা এখন কম টাকা নিতে চায় না। এক ছাত্রীর মায়ের কাছে টাকা দাবি করে কয়েকজন হিজরা, তিনি ২০ টাকা বের করে দিলে, নিতে অস্বীকার করে তারা পরে জোর করে তার কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে ১০০ টাকা নিয়ে ব্যাগ ফেরত দেয়। ভুক্তভোগীরা বলছেন, হিজড়াদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না, ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, হিজড়াদের টাকা তোলার বিষয়টিকে অনেকে স্বাভাবিক মনে করে থাকেন। এটি নিয়ে কোনো মামলা বা জিডি করা হয় না। কয়েক বছর হিজড়াদের আচরণ বদলে গেছে। আগের সাহায্য চেয়ে টাকা তোলা এখন জবরদস্তি চাঁদা আদায়ে পরিণত হয়েছে। শুধু রাজধানীর বাসা-বাড়ি, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন অফিস-আদালতেই হিজড়াদের চাঁদাবাজি সীমাবদ্ধ নয়, ইদানীং তারা সংঘবদ্ধভাবে চড়াও হচ্ছে চলন্ত বাস, ট্রেনেও। সিটে সিটে যাত্রীদের কাছে হাজির হয়ে তারা ১০-২০ টাকা হারে হাতিয়ে নিচ্ছে। হিজড়াদের চাঁদা তোলা সহজ তাই অনেক সক্ষম লোকও হিজড়া সেজে এই ব্যবসায় নেমেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হিজড়াদের কমবেশি উৎপাত থাকলেও খিলগাঁও, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা, ফার্মগেটসহ গনবসতি এলাকায় হিজরা বেশি অত্যাচার করছে। অনুসন্ধানে বলা হয়, দুই শতাধিক ভারতীয় হিজড়া ক্যাডার খোদ রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করছে। তারা পুরান ঢাকার মাহুতটুলী, শ্যামপুর, চকবাজার, শ্যামবাজার, যাত্রাবাড়ী, সূত্রাপুর ও গেন্ডারিয়ার বিভিন্ন পয়েন্টে রীতিমতো ঘাঁটি গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দেশে ২০ সহস্রাধিক হিজড়া থাকার কথা উল্লেখ করা হলেও প্রকৃত হিজড়ার সংখ্যা খুবই কম। রাজধানীতে চাঁদাবাজি ও এলাকার আধিপত্য নিয়ে সম্প্রতি হিজড়া সম্প্রদায়ের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ব্যপক আকার ধারণ করেছে। শ্যামবাজার, মাহুতটুলী, যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর, বাড্ডাসহ রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে হামলা, মারধর ও সংঘর্ষে নেত্রী দিপালীসহ অন্তত ৩০ জন হিজড়া জখম হয়েছে। আহত হিজড়া সুইটি, নীহার, টু¤পা, সীমা, নদী, চুমকি, রীতু, আঁখি, সুন্দরী, স্বপ্নাসহ কয়েকজন জানান, প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া প্রকৃত হিজড়ারা এখন হিজড়াবেশী পুরুষ মেজবাহ-রমজান চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে লিঙ্গচ্ছেদ করে কৃত্রিমভাবে হিজড়ায় রূপান্তর হওয়া পুরুষরা জোট বেঁধে প্রকৃত হিজড়াদের ওপর জোরজুলুম ও নির্যাতন চালাচ্ছে। রাজধানীর ১৭টি থানায় হিজড়া গ্রুপগুলোর মধ্যে অন্তত ৩০টি মামলা রয়েছে। চক্রের সদস্যরা দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে রাস্তার মোড়, বাজারমুখ, বাসস্ট্যান্ডসহ অলিগলিতে ওতপেতে থাকে। এসব স্থানে একাকী কোনো পথচারীকে পেলেই নানাভাবে নাস্তানাবুদ করাসহ ছিনতাই চালায় তারা। তৃতীয় লিঙ্গের এই ব্যক্তিরা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে উৎপাত করছে। এসব পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। তাদের প্রশিক্ষিত করে কাজে লাগালে তারা স¤পদ হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।

