এম,পি চৌধুরীঃ
বনানী এলাকার ব্যবসায়ী বোরহানউদ্দিনের ছেলে ইভানের (২৮) বিরুদ্ধে বুধবার মামলা হওয়ার পর বৃহ¯পতিবার বিকালে নারায়ণঞ্জের মাসদাইরের পূর্ব দেওভোগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। ইভান মঙ্গলবার রাতে বনানী ২ নম্বর সড়কে নিজের বাসায় ডেকে নিয়ে টিভি অভিনেত্রী তরুণীকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। র্যাব ইভানকে বনানী থানায় হস্তান্তর করার পর শুক্রবার দুপুরে তাকে ঢাকার হাকিম আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই সুলতানা আক্তার। ইভান জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন বলে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এ সময় ইভানের আইনজীবী ফারুক মিয়া রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন জানান। শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম মাজহারুল ইসলাম চার দিনের হেফাজতে নিয়ে ইভানকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন বলে আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এস অই আব্দুল মান্নান জানান। কারওয়ান বাজারে এক ব্রিফিংয়ে র্যাবের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান (মিডিয়া) সাংবাদিকদের বলেন, “মামলার এজাহারে যেসব অভিযোগ এসেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সেসব বিষয়ে সে (ইভান) স্বীকারোক্তি দিয়েছে।” আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে তোলাপাড়ের দুই মাসের মধ্যে ওই এলাকায় আবারও ধর্ষণের মামলা হলে বৃহ¯পতিবার পুলিশ ইভানের বাসায় অভিযানে যায়। কিন্তু সেখানে তাকে না পেয়ে কয়েকজনের জবানবন্দি নেয় পুলিশ। তারা ওই তরুণীকে মঙ্গলবার রাতে বাসা থেকে বের হতে দেখার কথা পুলিশকে জানায়। মুফতি মাহমুদ জানান, বুধবার পুলিশ যখন ওই বাড়িতে গিয়েছিল, ইভান তখন ছাদে লুকিয়ে ছিলেন। পুলিশ চলে যাওয়ার পর তিনি বনানী চেয়ারমান বাড়ি এলাকায় আত্মগোপন করেন। সেখান থেকে উত্তরার দক্ষিণখানে গিয়ে এক আত্মীয়র বাসায় রাত কাটানোর পর বৃহ¯পতিবার নারায়াণগঞ্জে যায় ইভান। মাসদাইরের পূর্ব দেওভোগ এলাকায় এক খালার বাসায় আশ্রয় নেন ইভান। বিকালে ওই বাড়ি থেকেই র্যাব ইভানকে গ্রেপ্তার করে বলে মুফতি মাহমুদ জানান। ইভান ঢাকার ক্যাম্ব্রিয়ান স্কুলে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে। পরে বনানী আট নম্বর রোডে তার বাবা বোরহানউদ্দিনের ইলেকট্রনিক্সের দোকানে বসতে শুরু করেন। “বিভিন্ন অপকর্মের কারণে ২০০৮ সালে অল্প বয়সে তাকে বিয়ে দিয়ে দেয় পরিবার। তার পাঁচ ও দেড় বছর বয়সী দুটো সন্তান রয়েছে।” নিকট আত্মীয়দের বরাত দিয়ে মুফতি মাহমুদ জানান, ইভান ২০০৫ সাল থেকে মাদক সেবন করেন। দুইবার মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাও নিয়েছেন। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ইভানের বিরুদ্ধে নারী সংশ্লিষ্ট নানা অপকর্মের অভিযোগ ওঠে বলে আত্মীয়দের বরাতে জানান এই র্যাব কর্মকর্তা। এ ধরনের আসামিকে নিকট আত্মীয়দের সহযোগিতা ছাড়া গ্রেপ্তার করা সহজ নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমরা তার বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলাম, তিনি আমাদেরকে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন।” অভিযোগকারী তরুণীকে বৃহ¯পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে আনা হয়। মামলার এজহারে তিনি বলেছেন, ফেইসবুকের সূত্র ধরে ইভানের সঙ্গে তার পরিচয় এবং গত চার মাস ধরে তাদের প্রেমের স¤পর্ক গড়ে উঠেছিল। মঙ্গলবার (৪ জুলাই) রাত ৯টায় ইভান ফোন করে তার জন্মদিনের কথা বলে বাসায় ডেকে নিয়েছিল বলে ওই তরুণী জানান। ফোনে ইভান তার মা পরিচয় দিয়ে একজনের সঙ্গে কথাও বলিয়ে দিয়েছিলেন। মামলায় তিনি বলেছেন, রাত সাড়ে ১০টায় রিকশায় করে ইভানের বাসায় গিয়ে কাউকে দেখতে পাননি তিনি। তখন ইভান তাকে বলছিলেন, বাবা-মা অসুস্থ ঘুমিয়ে গেছে, চেঁচামেচি করা যাবে না। ওই তরুণী ইভানের বাসায় যাওয়ার পর জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কোনো নমুনা দেখতে পাননি। পরে ইভান তাকে জোর করে নেশাজাতীয় পানীয় পান করানোর পর ধর্ষণ করেন। এরপর তিনি চিৎকার করলে ইভান তার ব্যাগ রেখে রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাকে বাসা থেকে বের করে দেন। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ইভান এর আগেও তাকে ধর্ষণ করেছিল এবং তার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল বলেও মামলার এজাহারে অভিযোগ করেছেন ওই তরুণী। মুফতি মাহমুদ খান বলেন, “কিছু ভিডিও আছে, এবং সে (ইভান) বিষয়টি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। ধর্ষণের ওই ঘটনা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত স¤পর্কের আরও কিছু তথ্য র্যাবের হাতে রয়েছে এবং সেসব বিষয়ও সে স্বীকার করেছে।” ইভানকে জিজ্ঞাসাবাদের পর কয়েকটি ঠিকানায় অভিযান চালালেও কোনো ভিডিও উদ্ধার করা যায়নি।

