বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী জনতা লীগের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

0
1915

রিয়াজউদ্দিন আহাম্মেদ ঃ
কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের উদ্যোগে মতিঝিলের কেন্দ্রীয় অফিসে (সাবেক বাংলার বাণী) পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ঘরোয়াভাবে দোয়া ও ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়। উক্ত ইফতার মাহফিলে সভাপতির আসন গ্রহণ করেছিলেন কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সহসভাপতি আমিনুল ইসলাম তারেক। ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন দলের মহাসচিব হাবিবুর রহমান তালুকদার বীর প্রতিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করে ছিলেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার। ইফতার পার্টিতে আরো যারা উপস্থিত ছিলেন তারা হলেন, কেন্দ্রীয় সদস্য সিনিয়র নেতা খোকন জসিম, বরিশালের জেলা সভাপতি ছাত্তার চৌধুরী, কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হাসমত আলী, যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাবিব উন নবী সোহেল, কেন্দ্রীয় ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাতুল ইসলাম দীপ, দরবারের বঙ্গবীরের মুখপাত্র মাহবুবুর রহমান পারভেজ, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর বীর উত্তমের ভক্ত বিশিষ্ট সাংবাদিক এনামুল হক রাঙ্গা। ইফতার মাহফিলের অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেছিলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মতিঝিল শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ শামসুর রহমান (ভোলা)। ইফতার মাহফিলের মোনাজাতের পূর্বে সূচনা ও শেষ বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের সভাপতি আমিনুল ইসলাম তারেক। উপস্থিত নেতারা তাদের বক্তব্যের পূর্বে উল্লেখ করেন পবিত্র রমজান মাস হলো মাগফিরাতের মাস। প্রতিদিন রোজা রাখা, দোয়া-দরুদ ও মোনাজাত প্রার্থনা করে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করাই হলো প্রতিটি মুসলমানের প্রথম কাজ। আমাদের দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো রোজার মাস শুরু থেকে শেষ লগ্ন পর্যন্ত রাজকীয় হোটেল রেস্তোরায় হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে নোংরা রাজনীতি করে যাচ্ছেন। আমাদের জনতা লীগের প্রাণপ্রিয় নেতা দেশের সূর্য সন্তান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম যা নাকি মোটেও সমর্থন করেন না। বঙ্গবীর রোজার শুরুতেই ঘোষণা করেছিলেন তিনি কোন ইফতার পার্টিতে অংশগ্রহণ করবেন না। দলের ও  দেশের মান সম্মানের দিক বিবেচনা করে তিনি শুধু পবিত্র সৌদি আরবের দূতাবাসের আমন্ত্রণে তাদের দেয়া ইফতার পার্টিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। বিভিন্ন দিক চিন্তা করে স্বাস্থ্যগত কারনে নিজ দলের ইফতার মাহফিলেও শরীক হননি। তিনি শুধু কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সকলের দোয়া প্রার্থনা করেছিলেন। তাই জনতা লীগ কর্তৃক আয়োজিত ইফতার পার্টিতে অংশ গ্রহণকারী সকল নেতা-কর্মীরা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর দীর্ঘায়ু ও সু-স্বাস্থ্য কামনা করেছিলেন। দেশে পূর্ণ গণতন্ত্র কায়েম না হওয়া পর্যন্ত তিনি যেন নিরলসভাবে কাজ করে যেতে পারেন, এ জন্যে পরম করুণাময় আল্লাহর আর্শীবাদ কামনা করেন। উপস্থিত নেতা কর্মীরা পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উদযাপনের পর বঙ্গবীর যে নির্দেশ দিবেন তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন বলে ওয়াদা ঘোষণা করেন। সারাদেশে বঙ্গবীরের লাখো লাখো ভক্ত গভীর আগ্রহের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি ডাক দেয়া মাত্র গণতন্ত্র পূনরায় উদ্ধারের জন্যে রাস্তায় বের হয়ে পড়বেন। তখন সরকারের কোন বাহিনীই বঙ্গবীরের জনতা লীগকেই থামিয়ে রাখতে পারবে না। ইফতার ও দোয়া মাহফিলের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিভিন্ন বক্তারা বর্তমান সরকারের সীমাহীন ঝুলুম অত্যাচারের বিভিন্ন দিক তোলে ধরেন। সারাদেশ থেকে আগত অসংখ্য নেতা-কর্মী ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে বঙ্গবীরের উক্ত নেতা-কর্মীরা রাজধানীর কেন্দ্রীয় অফিসে ঝড়ো হন। কেন্দ্রীয় অফিসিটি তীল ধরনের ঠাই ছিল না। কেন্দ্রীয় অফিসের সিড়ি থেকে নিয়ে নীচতলা পর্যন্ত বহু লোকের আগমন ঘটে।  টাঙ্গাইলসহ সারাদেশ থেকে আগত নেতা-কর্মীদেরকে কেন্দ্রীয় নেতৃবর্গ তাদেরকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানান। কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা তাদের ভাষণে উল্লেখ করেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এমন মহাদুর্যোগ কখনো পরিলক্ষিত হয়নি। দেশের সর্বত্র ঘুষ-দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। বিএনপি ও চারদলীয় সরকারের আমলে ১টি হাওয়া ভবন ছিল। বর্তমান সরকারের আমলে সারাদেশেই হাওয়া ভবনে পরিণত হয়েছে। কেলেংকারির যেন শেষ নেই। যতই দিন যাচ্ছে, সরকারের ভাবমূর্তি ততই নষ্ট হচ্ছে। এমন কোন সেক্টর নেই, যেখানে দুর্নীতি হচ্ছে না। ব্যাংকিং খাত সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। হাজার হাজার কোটি টাকা দেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। সরকার বাহিনী সরকারী ব্যাংক থেকে টাকা লুট-পাট করে আবার বেসরকারী ব্যাংক খুলছে। এটা কোন ধরনের রাজনীতি যেখানে বাক-স্বাধীনতা বলতে কিছু নেই। প্রতিদিন খবরের কাগজ পড়লে দেখা যায় হত্যা-গুম, চার বছরের শিশু থেকে নববধূরা পর্যন্ত ধর্ষণের শিকারে পরিণত হচ্ছে। সরকারী বাহিনী  কয়েকদিন পর পর বিশেষ দিনে অনুষ্ঠানের সমাবেশ করছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। সরকার বিরোধী কোন পার্টিকে সভা সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। বিভিন্ন অজুহাতে আইন বিঘœ ঘটবে বলে সোরাওয়ার্দী উদ্যানকে অন্য কোন দলকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করে পৃথিবীর কোন সরকারই বেশীদিন টিকে থাকার নজির ইতিহাসে নেই। সরকারের পেটুয়া বাহিনী বলে বেড়াচ্ছে তাদের আমলে উন্নয়নের জোয়ার সারাদেশের মানুষ সুফল পাচ্ছে। আসল কথা হচ্ছে সমস্ত কথাগুলো লোক দেখানো এবং ধুকাবাজী ছাড়া আর কিছুই না। আমরা চাই স্বপ্নের পদ্মা সেতু, অবিলম্বে চালু হয়ে দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষগুলো উপকৃত হউক কিন্তু এক পদ্মা সেতু ও মালিবাগ-মৌচাক, মগবাজার ফ্লাইওয়ার ব্রীজ করতে দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। এর নাম উন্নয়ন? গত কয়েকদিন পূর্বে খবরের কাগজে দেখলাম, আজকে যেই শিশুটি জন্ম গ্রহণ করেছে তার উপরও কয়েকশত ডলার বিদেশী ঋনের বুঝা বহন করতে হবে। আরো কয়েক বছর পূর্বেই দুর্নীতিতে আমাদের দেশ এক নম্বরে আত্মপ্রকাশ করত কিন্তু শুধুমাত্র একজনের লোকের কারণে সেই অভিশাপ থেকে দেশ রক্ষা পাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনি ছদ্ম বেশে কয়েকটি গ্রাম ঘুরে আসুন এবং প্রত্যক্ষভাবে বিচার করুন দেশের মানুষ কতটা শান্তিতে বা অশান্তিতে আছে। সহজ সরল মানুষগুলো এক বেলা  পেটভরে ভাত খেতে পারছে কি না? অকাল বন্যায় সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ আরো কয়েকটি জেলার ধানসহ সমস্ত ফসলাদি সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে অথচ ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোকে আপনি দুর্গত এলাকা ঘোষণা না করে প্রতিমাসে ৩৫ কেজি চাল এবং পাঁচশত টাকা মুঞ্জুর করেছেন। উপরোক্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলো চার ভাগের একভাগ লোক অর্থাৎ আপনার দলের লোকেরাই ৩৫ কেজি চাল ও পাঁচশত টাকা পাচ্ছে। বাকী মানুষগুলো আল্লাহর উপর নির্ভর করে বেঁচে আছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোকে আপনি যদি স্ব-চোখে দেখার জন্য হেলিকাপ্টারযোগে দেখে আসতেন তাহলেও অর্ধাহারে অনাহারে থাকা মানুষগুলো ক্ষনিকের জন্যে হলেও আনন্দ অনুভব করত। আল্লাহর কাছে প্রার্থীনা করত আপনি আরো কয়েক যোগ ক্ষমতার মসনদে যেন টিকে থাকতে পারেন। আপনি আপনার কর্তব্য ও দায়িত্ব পালন না করে আমাদেরকে সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে পর পর বিলাসী কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করে মনের সাধ মিটিয়েছেন। তা হলে কি সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগবে কি না আপনি কি আমাদের সাধারণ জনগণের প্রধানমন্ত্রী নাকি শুধু কতিপয় আওয়ামী নামধারী নেতা-কর্মীদের প্রধানমন্ত্রী? গত কয়েকদিন হলো বৃহত্তর চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটিতে মহাদুর্যোগ বিরাজ করছে। এর পূর্বে অত্র অঞ্চলে একজন আওয়ামী লীগ নেতার মৃতকে কেন্দ্র করে কয়েকশত ঘরবাড়ী আগুনে পুড়িয়ে অসংখ্য লোককে নিজেদের ভিটামাটি ছেড়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, সেই অবস্থায় অসহায় মানুষকে জিম্মি করে আপনি বিদেশ সফর বাতিল না করে সুইডেন সফরের নামে লন্ডন সফর করে আবারো দেশের মাটিতে ফিরে  এলেন। আপনি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে এবং বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় বহুবার লন্ডন আসা যাওয়া করেছেন। অসংখ্যবার লন্ডন সফর করার পরও আপনার মত জননেত্রীর পক্ষে লন্ডন সফরের তৃপ্তি মিটেনি। নিজের বিবেককে নিজেই জিজ্ঞেস করুণ এ সমস্ত কান্ড জ্ঞানহীন সফর বাতিল করা যেত কিনা? রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধ্বসে সেনা বাহিনী সদস্যসহ প্রায় ১৭০জন লোকের প্রাণহানি ঘটেছে। বন্দর নগরী চট্টগ্রাম পানিতে তলিয়ে যাওয়াতে বহু লোকের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আপনার মান সম্মানের কথা বিবেচনা করে অনতি বিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সফর করে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহানুভুতির হাত বাড়িয়ে দেন। আপনার ৮ বছরের শাসন আমলে সব চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষা ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক বিভিন্ন ধরনের গুম-হত্যা হয়রানি, চাঁদাবাজী ইত্যাদি। শিক্ষার নামে শিক্ষক কর্তৃক কোচিং বাণিজ্য, বিদ্যালয়ে না পড়িয়ে বাধ্যতামূলক কোচিং এ ভর্তি করানো। যে ছেলে-মেয়েটি এবার এসএসসি পাস করেছে সে শিক্ষার্থী এসএসসির পুরো শব্দটি এবং ইংরেজীতে এসএসসির সম্পূর্ণ বানান শতকরা কত জন লিখতে পারবে তা না হয় আপনি নিজে সদ্য পাসকরা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ডেকে এনে ইন্টারভিউ নেন। তা হলে বুঝতে পারবেন তারা কি লিখে পাস করেছে নাকি খাতার মধ্যে আবল-তাবল লিখে পৃষ্ঠা ভর্তির উপর নাম্বার পেয়েছে। যতটুকু শুনেছি আপনি নাকি শিক্ষা মন্ত্রীকে ডেকে বলেছেন শিক্ষার্থীরা খাতায় যা ইচ্ছা তাই লিখুক এর উপর নাম্বার বেশী দিয়ে পাসের হার বৃদ্ধি করতে হবে। এবার আসুন পুলিশ বাহিনীতে ভর্তি বাণিজ্যের কথা। আপনি ক্ষমতা  গ্রহণের পর যতবারই পুলিশে লোক নেয়া হয়েছে ঠিক ততবারই নিজনিজ এলাকার সংসদ সদস্য কর্তৃক টাকার বিনিময়ে পুলিশে চাকুরী দেয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে এমপি কর্তৃক যাচাইয়ের পর চাকুরী হয়েছে। যে ছেলেটি  সহায় সম্পত্তি বিক্রি করে টাকার বিনিময়ে চাকুরী নিয়েছে তার দ্বারা রাষ্ট্রের ক্ষতি ছাড়া মানুষের মঙ্গল বা শান্তি কিভাবে আশা করা যেতে পারে। টাকার বিনিময়ে যে ছেলেটি পুলিশে চাকুরী নিয়েছে সে প্রথম কয়েক বছর নিরীহ লোকদের ধরে প্রথমত পিটিয়ে অর্ধ মৃত অবস্থায় থানায় বা অন্যত্র আটকিয়ে নিরীহ লোকটির অভিভাবককে খবর দিবে পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করেছে, আমাকে বাঁচাতে হলে দাবীকৃত পঞ্চাশ বা এক লক্ষ টাকা অতি সত্ত্বর নিয়ে আস। অভিভাবক ছেলেকে বাঁচানোর জন্যে
ধার দেনা করে কাংখিত টাকা পুলিশকে দিয়ে ছেলেকে ছাড়িয়ে আনবে। বাস্তব চিত্রটা তাই হচ্ছে। পুলিশে লোক ভর্তির ব্যাপারে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা সম্পূর্ণ অন্যায় ও অবিচার। আমার জানা মতে অনেক এসপিরা ঘুষ নিয়ে পুলিশে নিয়োগ দেন না। পুলিশে লোক নেয়ার ব্যাপারে যোগ্যতার মাফ কাঠিতে এসপিরাই এই মহান দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশে লোক নেয়ার ব্যাপারে এমপিদের হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে না পারলে সমাজে কোনদিন শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা সন্তান। আপনি সুইডেন থেকে দেশে ফিরে এসে বলতে শুরু করলেন বিএনপির নেতা কর্মীরা দেশের সাধারণ জনগণের প্রতি কোন মমতাবোধ নেই। দেশে ভয়াবহ অকাল বন্যা বয়ে গেল। রাঙ্গামাটিতে ভূমি ধসে বহুলোক আহত নিহত হলো কিন্তু ক্ষতি গ্রস্ত লোকদের প্রতি কোন রকম সহানুভূতি নেই। তারা শুধু ক্ষমতা দখলের জন্য রাজনীতি করছে। আপনার দেয়া এ বক্তব্যের ঠিক পরের দিন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও তাদের দুঃখ দুর্দশা দেখার জন্যে চট্টগ্রাম থেকে নেতা কর্মীদের গাড়ী বহর নিয়ে রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। গাড়ী বহরটি রাঙ্গামাটিতে পৌছার পূর্বেই সকাল ১০টার দিকে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা ইছাখালির উপজেলা এলাকায় দুর্বৃত্তরা লাটি ছোটা, রানদা ও বিভিন্ন প্রকারের অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সম্পূর্ণ অমানবিকভাবে বহরটির উপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা নিষ্ঠূরভাবে মির্জা ফখরুলসহ অন্যান্য নেতাদের বেদমভাবে পিটাতে থাকে। হামলাকারীদের মনে প্রাণে নূন্যতম দয়ামায়া ছিল না। পূর্ব কল্পিত এ বর্বরচিত হামলা পাক বাহিনীকে হার মানিয়েছে। হামলাকারীদের ইচ্ছে ছিল মির্জা ফখরুল, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের জীবন্ত মেরে ফেলা। এ নরকীয় হামলায় মির্জা ফখরুল, আমির খসরুসহ প্রায় ১০/১২জন গুরুতর আহত হন। পূর্ব ঘোষিত বিএনপির নেতা-কর্মীরা যেন রাঙ্গামাটিতে পৌছাতে না পারেন এ জন্যে আওয়ামী লীগ নেতা ড. হাছান মাহমুদের নির্দেশে স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা ইতিহাসের জঘন্যতম হামলা চালায়। অত্যন্ত জঘন্য ও হৃদয় স্পর্ষকারী এ হামলায় গাড়ী বহরে থাকা সমস্ত মূল্যবান গাড়ীগুলো চুর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যায়। পুলিশ থাকলেও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুসহ অন্যান্য নেতারা স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় আশ্রয় নেন। একটি ফার্মিসিতে নেতা-কর্মীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর রাঙ্গামাটি সফর বাতিল করে চট্টগ্রামে ফিরে আসেন। বিএনপির নেতা-কর্মীরা পরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে মির্জা ফখরুল, আমির খসরু ও অন্যান্য নেতারা তাদের বক্তব্যে এ জঘন্য হামলার জন্যে সরকারকে দায়ী করে। নেতারা এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরকারকে হুশিয়ারী করে দেন আপনারা যত রকমের ষড়যন্ত্র করুণ না কেন আমরা আগামী সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় বা ছায়া সরকারের অধীনে করবই করব। এ নিমর্মতম ঘটনায় বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মানুষ অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখল এ সরকার শুধু ক্ষমতা লোভী নয়, সমগ্র বাংলাদেশের মানুষকে তীলে তীলে মেরে বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিশোধ নিয়ে বর্তমান বিশ্বের ১ নম্বর স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা একাই দেশে বসবাস করবেন। রাঙ্গুনিয়ার ঘটনায় বিএনরি চেয়ারপার্সন ও ২০ দলীয় জোটের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এ হামলা গণতন্ত্র, রাজনীতি, নাগরিক অধিকার ও পরমত সহিষ্ণুতার ওপর হামলা। এর পরিনাম শুভ হবে না। বিএনপির মহাসচিবের উপর ন্যক্কারজনক হামলার নিন্দা জানাবার ভাষা নেই। ও নিষ্ঠুরতম হামলার প্রতিবাদে তাৎক্ষনিক ঢাকাসহ সারাদেশে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী কুমিল্লা থেকে সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচীর ঘোষণা করেছিল। কর্মসূচী অনুযায়ী বিএনপি ও অংগসংগঠনের নেতা-কর্মীরা মির্জা ফখরুল ইসলামের গাড়ী বহরে হামলার প্রতিবাদে সমগ্র দেশেই প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। কিন্তু পুলিশের বাধার কারণে বিভিন্ন জেলায় বিঘœ ঘটে। এ রিপোর্ট লেখাকালীন সময়ে খবর পেলাম মির্জা ফখরুল ইসলামের গাড়ির বহরে হামলার ব্যাপারে একটি মামলা হয়। মামলাটি দায়ের করেন চট্টগ্রামের সাবেক পিপি ও বিএনপি নেতা এডভোকেট এনামুল হক। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম ও আইন শৃঙ্খলা বিঘœকারী আ স ম শহিদুল্লাহ কায়সারের আদালতে অভিযোগ দাখিল করা হয়। দ্রুত বিচার আইনে ৪ ও ৫ ধারায় অভিযোগটি দাখিল করার সময় ২৬ জনের নাম সহ অঞ্জাত নামা আরো অনেকের নামে মামলা করা হয়। বিএনপি মামলা করার পর একই আদালতে রাঙ্গুনিয়ার অটো রিকশা চালক মহসিন বিএনপির ২৬ নেতা কর্মির নাম উল্লেখ করে এবং অঞ্জাতনামা আরো ১০/১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাদির আইনজীবি এডভোকেট নিখিলনাথ বলেন মির্জা ফখরুল আসলামের গাড়ি বহর রাঙ্গুনিয়া যাওয়ার সময় অটো রিকশা চালক মহসিন ও আব্দুল আজিজের গাড়িতে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় উত্তোজিত জনতা দুটি গাড়ি ভাংচুর করে। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকির ভক্তদের প্রশ্ন এ অল্প সময়ের ব্যবধানে একটি কাল্পনিক নাটক সাজিয়ে কি করে এতবড় সত্য কাহিনীকে মিথ্যা বানিয়ে বিএনপির নেতা মির্জা ফখরুল ইসলামের গাড়ির বহরে থাকা ক্ষতিগ্রস্থ অসংখ্য গাড়ি এবং গুরুতর আহত নেতা কর্মিদের বিরুদ্ধে উল্টো মামলা করে দেশবাসিকে বোকা বানাচ্ছে। সত্যিকারের ঘটনা যদি তাই হয় তাহলে অল্প কয়েক

Advertisement

মিনিটের ব্যবধানে অটো রিকশা চালক কর্তৃক মির্জা ফখরুলরে গাড়ি বহরে লাঠি সোটা রাম দা বল্লম, হকিষ্টিক, পিস্তল হাতে নিমর্মভাবে নেতা কর্মিদের উপর হামলা চালায়। একটি অটো রিকশার চালকের ডাকে একসাথে এত সন্ত্রাসী কি করে মির্জা ফখরুলের গাড়ি বহরে হামলা চালায় তা একমাত্র ড. হাছান মাহমুদই ভাল বলতে পারবেন। জনগনের প্রশ্নও এখানেই। রাঙামাটি ও রাঙুনিয়ার ঘটনায় সরকারের জন সমর্থন আরো কয়েকধাপ নিচে নেমে আসল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি যদি সত্যিকারের এ দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে থাকেন তবে এ ঘটনার জন্যে অবিলম্বে ড. হাছান মাহামুদকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে তাকে সত্যিকারের ঘটনা জনসম্মুথে তুলে ধরার ব্যবস্থা করুন। শুধু তাই নয় গত অনির্দিষ্ট কালের হরতাল ও অবরোধ প্রত্যাহার করার পর বেগম খালেদা জিয়াকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে পরপর কয়েকদিন কাওরান বাজার, বাংলা মটর, ফকিরাপুল ও আরামবাগে সরকারের পেটোয়াবাহিনী নেত্রীর গাড়ীতে হামলা চালায় ও গুলি বর্ষণ করা হয়। ঐ ঘটনায় খালেদা জিয়ার দেহ রক্ষীরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে নেত্রীকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করা হয়। তখনকার ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি এবং কোন প্রকার মামলাও হয়নি। বিএনপির লক্ষ লক্ষ নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে নেতা-কর্মীদেরকে কখনো জেলে আবার কখনো জামিনে মুক্তি দিয়ে কয়েকদিন না যেতেই আবারো জেলে ঢুকানো হচ্ছে। হাজার হাজার নেতা কর্মীদেরকে এখনো জেল খানায় বন্দী কারাগারে আটকিয়ে রেখেছেন। গণতন্ত্র কাকে বলে বা গণতন্ত্রের সংজ্ঞা কি তা বোধ হয় আওয়ামী লীগের নেত্রীসহ কোন নেতা জানেন না। গণতন্ত্র কাকে বলা হয় তা নবম শ্রেণীর পৌরনীতি বইয়ে পরিষ্কার লেখা রয়েছে। তা হলে কি আওয়ামী লীগের সমস্ত নেতারা নবম শ্রেণীতে লেখাপড়া না করেই বড় বড় ডিগ্রী অর্জন করে এমপি, মন্ত্রী হয়েছেন। বর্তমান সরকারের সংবিধানেও লেখা আছে জনগণের ভোট ব্যতিত কেউ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারবেন না। অথচ গত নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে জনগণের ভোট ছাড়াই এমপি নিযুক্ত হয়েছেন। নিজেদের সংবিধান নিজেরাই মানেন না। তা হলে এ সরকার বৈধ না অবৈধ তা নিজেদের বিবেককে জিজ্ঞেস করলে এর সঠিক উত্তর পাওয়া যাবে। জনগণকে বোকা বানিয়ে অবৈধ পন্থায় ক্ষমতায় টিকে থাকা এর ফল শুভ হয় না এ কথা আওয়ামী লীগসহ ক্ষমতার অংশীদারী ১৪ দলের নেতা কর্মীরা ভাল করেই জানেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার নিকট দেশবাসীর বিনীত অনুরোধ আগামী সংসদ নির্বাচনটি সম্পূর্ণ নির্দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যবস্থা করে প্রমাণ করুণ আপনি নিরপেক্ষ, ক্ষমতা লোভী নন
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ার পূর্বে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে অনেক শপথ করেছিলেন আমার দল আওয়ামী লীগ যদি নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতার মসনদে আসতে পারে তা হলে জনগণের জন্যে সব কিছু বিলীন করে দিবেন। নির্বাচন হওয়ার পূর্বে ওয়াদা করেছিলেন আমি যদি কখনো বিরোধী দলেও থাকি তবে কোনদিন হরতালসহ দেশে কোন রকম নৈরাজ্য সৃষ্টি করবেন না কিন্তু পরে জনগণ কি দেখলো, জনগণের কাছে আপনার ওয়াদা ও সম্পর্ণ বেআইনী ও ধাপ্পাবাজী ছাড়া আর কিছ্ইু ছিল না। নির্বাচনের পূর্বে আপনি জনগণের কাছে ভোট ভিক্ষা কামনা করেছিলেন, জনগণের কাছে একাধিকবার পূর্ব অপকৃত্তির জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন। দেশের সহজ সরল জনগণ আপনার দলটিকে একচেটিয়া ভোট দিয়ে সিংহাসনে বসার সুযোগ করে দিয়েছিল। নির্বাচিত হওয়ার পর সরকার গঠনের পর দেশের জনগণের জন্যে কিছুই দিতে পারেননি। আপনার কর্তৃক দেয়া একটি মজার শ্লোগান ছিল “আমার ভোট আমি দিব, যাকে খুশী তাকে দিব”। আর বর্তমান ম্লোগান হলো “আমার ভোটটি আমি দিব, তোমার ভোটটিও আমি দিব”। আপনার কাছ থেকে জনগণ ভাওতাবাজি ছাড়া আর কিছুই পেল না। হত দরিদ্র জনগণ আবারো বিএনপি জোটকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনল। বিএনপি জোট ক্ষমতা গ্রহণের পর এক সপ্তাহ পার না করতেই আপনার দেয়া পূর্ববর্তী ওয়াদা বরখেলাপ করে হরতাল সহ নানান ধরনের অপর্কীতি শুরু করেছিলেন। দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেলেন। পূর্বের সমস্ত ওয়াদা স্বপ্নের মত ভুলে গেলেন। এর পর শুরু করলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার কায়েম করতে গিয়ে হাজারো হাজারো মায়ের বুক খালি করে দিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার কায়েমের জন্যে জামায়াতকে বন্ধু হিসেবে বেছে নিলেন। জামায়াত যে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী ছিলেন সে কথা সম্পূর্ণ ভুলে গেলেন। প্রথমবার ক্ষমতা গ্রহণের পূর্বে গোলাম আজমের পা ছুয়ে তার আর্শিবাদ কামনা করেছিলেন। মতিউর রহমান নিজামীকে পাশাপাশি বসিয়ে এক সারিতে আন্দোলন শুরু করলেন। সব কিছু ভুলে গেলে হবে না, পূর্বের ইতিহাস আপনাকে অবশ্যই স্মরণ করতে হবে। নবম শ্রেণীতে অধ্যায়নকালীন সময়ে পৃথিবীর একজন নাম করা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী উল্লেখ করেছিলেন অ যঁহমৎু সধহ রং ধষধিুং ড়হ যঁহমৎু সবহ অর্থাৎ   এর বাংলা হলো ক্ষুধার্ত মানুষের দল যখন ক্ষেপে উঠবে তখন কেউ রেহাই পাবে না। আগামী সংসদ নির্বাচন হতে এখনো প্রায় দেড় বছর বাকী রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এর মধ্যে আপনাকে বেঁচে নিতে হবে আপনি আগামী সংসদ নির্বাচনে কি পথ অবলম্বন করবেন। এ দেশে বহু সৎ ও যোগ্য ব্যক্তি রয়েছে, যারা কখনো ক্ষমতা লোভী নয়। দরকার হয় সমস্ত পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলের সম্পাদক, জ্ঞানী গুণী, কবি-সাহিত্যিক, দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সামরিক বিশ্লেষক, দেশের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও
বর্তমান ভিসি, রাজনৈতিক দলের প্রথম শ্রেণীর নেতৃবর্গ এবং সুশীল সমাজের ব্যক্তিদেরকে ডেকে একটি গোলটেবিলে বসে তাদের দেওয়া ফর্মুলা নিয়ে এমন একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন দেশে কি ধরনের নির্বাচন করলে জনগণ নির্ভয়ে তদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। অথবা নির্বাচনের অন্তত ছয় মাস পূর্বে আপনি ক্ষমতা ত্যাগ করে অথবা আপনার সরকার পরিপূর্ণ ৫ বছর অতিক্রম করে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতা ও সুশীল সমাজের সবাইকে নিয়ে একটি অন্তবর্তী সরকারের রূপ রেখা তৈরী করতে পারেন, যে সরকারের মেয়াদ থাকবে ছয় মাস বা আরো কম বা বেশী। এ ফর্মুলা অনুযায়ী একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ সরকারের মাধ্যমে আগামী সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে দেশসহ সারা বিশ্ববাসী আপনার আত্মত্যাগের কথা চিরদিন ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখবেন। আর যদি জনগণকে অন্ধকারে রেখে গত নির্বাচনের মত ভোটার বিহীন নির্বাচন করেন তবে বিশ্বের ইতিহাসে আপনার নাম এমনভাবে মুছে যাবে যা নাকি অদূর ভবিষ্যৎ এ আপনি তীলে তীলে অনুভব করবেন। কাজেই আপনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে সমস্ত হিংসা-বিদ্বেশ, হানাহানি ভুলে গিয়ে সারা দেশের জনগণকে নিয়ে এক কাতারে শামিল হয়ে অন্ধকার জগৎ থেকে আলোর পথ অনুস্বরন করে দেশে শান্তিময় পরিবেশ তৈরী করবেন, যেন জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়।
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর (বীর উত্তম) অবদান
বাংলাদেশের ইতিহাসে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নাম ঐতিহাসিক দিক থেকে চির ভাস্কর ও নক্ষত্রের মতই ভেসে বেড়াচ্ছে। দিনের পর যখন রাত হয় তখন পৃথিবীর বুকে অসংখ্য তারা ঝিকমিকি করতে থাকে। কোটি কোটি তারার মাঝে একটি ছোট চাঁদ বড় হতে হতে সমস্ত পৃথিবী আলোকিত হয়ে অন্ধকারকে ছেদ করে সেই আলো দিনের মত রূপদান করে। ঠিক তদ্রুপ এদেশের বাঙ্গালীদের মনে বীর মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর আর্বিভাব হয়েছিলো টাঙ্গাইলের এক সম্ভ্রান্ত ও প্রখ্যাত শিক্ষিত পরিবার থেকে। আলোর দিশারী দেশের সূর্য সন্তানের মধ্যে অন্যতম বঙ্গবীর বাল্যকাল শুরু হয়েছিল টাঙ্গাইলের কালিহাতির উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের ছায়া ঘেরা লতাপাতা বেষ্টিত শান্তশিষ্ট সেই ছোট্ট গ্রাম থেকে। একাধিক ভাই বোনের মধ্যে ভাইদের মধ্যে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম ছিলেন দ্বিতীয় সন্তান। তিনি ছিলেন বাবা-মায়ের খুবই আদরের সন্তান। ষড়যন্ত্রের শিকার বড় ভাই আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বর্তমান সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও একজন বড় রাজনীতিবিদ। শুধু মাত্র বঙ্গবীরের বড় ভাই বলে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাকে অন্যায়ভাবে মন্ত্রী থেকে বহিষ্কার করেছিলেন। শুধু তাই নয়, সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে লতিফ সিদ্দিকীকে জেলে রাখা হয়েছিলো। ছোট ভাই মুরাদ সিদ্দিকীও একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ। বঙ্গবীর ও বীরউত্তম খেতাব প্রাপ্ত কাদের সিদ্দিকী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক অধ্যায়ন শেষে দেশের প্রখ্যাত বিদ্যাপিঠ টাঙ্গাইলের করটিয়ার সাদত কলেজে ভর্তি হন। স্কুল ও করটিয়া সাদত কলেজে লেখাপড়াকালীন সময়ে বঙ্গবীর রাজনীতি শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি কলেজের ভিপি নিযুক্ত হন। তখন পাকিস্তান আমল। ১৯৪৭ সনে ব্রিটিশ থেকে ভাগ হয়ে ভারত এবং পাকিস্তান নামে দুটি আলাদা রাষ্ট্র গঠন করা হয়। পাকিস্তানের একটি অংশের নাম পশ্চিম পাকিস্তান ও অপর অংশের নাম পূর্ব পাকিস্তান। পাকিস্তানের জাতির পিতা কায়দে আজম জিন্নাহ ঘোষণা করলেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ভাষা হবে উর্দুতে। এ  ঘোষণার পর পূর্ব পাকিস্তানের ১৯টি জেলায় দাবানলের মত মাতৃভাষার আন্দোলন শুরু হয়। বাংলা ভাষার দাবীতে টাঙ্গাইলেও ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। ভাষার দাবীতে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯৫২ সনে বাংলাভাষার জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে সালাম, বরকত, রফিকসহ বেশ কয়েকজন শহিদ হন। বাংলা ভাষার দাবী আদায় করতে গিয়ে পর্যায়ক্রমে ১৯৭১ সনে ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পড়ন্ত বিকেলে স্বাধীনতার ডাক দেন। ১৯৭০ সনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাঘরিষ্ঠ অর্জন করার পরও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে টালবাহানা শুরু করেন। পশ্চিম পাকিস্তানের নেতারা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে অসহায় নিরপরাধ বাঙ্গালীদের উপর ১৯৭১সনে ২৫ শে মার্চ কালো রাতে ঢাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জেলায় পাক বাহিনী নিরস্ত্র বাঙ্গালীদের উপর ঝাপিয়ে পড়েন। তারা ঢাকা ক্যান্টনমেন্টসহ সাবেক ইপিআর এবং রাজারবাগ পুলিশ বাহিনীর উপর অতর্কিত হামলায় চালায়। সেই বিভীষিকাময় কালো রাতের কথা এখনো মন থেকে ভুলে যাওয়ার কথা নয়। ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালোর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শেখ মুজিবের পক্ষে শহীদ জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তার ঘোষণায় বলা হয় আপনারা যে যেখানেই থাকেন না কেন পাকিস্তানী বর্বর বাহিনীর উপর ঝাপিয়ে পড়–ন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের সহযোগিতায় ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করা হয়। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর অবদান সবচেয়ে বেশী উল্লেখযোগ্য। তিনি পাক বাহিনীর সাথে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে বহু জায়গা থেকে শত্রুকে বিতাড়িত করেন। ১৯৭১ সনে  জুন মাসে কাদেরিয়া বাহিনী গঠন করা হয়। দেশের সর্বত্র এখনো কাদেরিয়া বাহিনীর অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা জীবিত আছেন। দেশে পূর্ণগণতন্ত্র কায়েমের জন্যে কাদেরিয়া বাহিনী বঙ্গবীরের ডাকের অপেক্ষায় রয়েছেন। বঙ্গবীরের সমস্ত নেতা কর্মীরা ঈদের পর বঙ্গবীরকে সঙ্গে নিয়ে দেশের গুম, হত্যা, রাহাজানি ইত্যাদি অবসান করে তীব্র আন্দোলন শুরু করবেন। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর উপযুক্ত সম্মান বর্তমান সরকার দিতে পারছেন না। ১৯৭৫, ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারী ছিলেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম। বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদ করার জন্য বঙ্গবীরকে দীর্ঘ ১৫টি বছর ভারতের মাটিতে নির্বাসনে থাকতে হয়েছিল। সুদীর্ঘ ১৫ বছর পরে বাংলার মাটিতে বঙ্গবীর ভারত থেকে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের পর ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে বঙ্গবন্ধুর বাড়ী পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ জনতা তাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার তাকে কোন রকম সম্মান দেখাচ্ছেন না। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর থেকে তিনি মাছ মাংস ও ডাল খাওয়া বিরত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের পর তিনি মাংস  খাওয়া শুরু করেন।
সাম্প্রতিক চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের গাড়ী বহরে হামলার জন্যে সরকারের প্রতি তীব্র নিন্দা জানান। তিনি উল্লেখ করেন একটি বড় দলের উপর যদি এমন জঘন্য হামলা করতে পারে তবে সাধারণ মানুষের অবস্থা কি হবে। বিএনপির অঙ্গ সংগঠন ২০ দলীয় সমস্ত নেতা কর্মী এবং অন্যান্য দলের নেতারা রাঙ্গুনিয়ার ঘটনায় গভীর ভাবে মর্মাহত ও তীব্র নিন্দা জানান। কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে সারা জাহানের শান্তি কামনা করা হয়। বিশেষ করে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here