নোমান মাহমুদঃ
সাভারের বিরুলিয়া মইস্তাপাড়া এলাকায় সরকারী খাস জমি ও নবাব খাজা সলিমুল্লাহ বাহাদুরের নামে রেকর্ডকৃত সম্পত্তি অবৈধ দখল করে চলছে দক্ষিনা সিটি রিয়েল ষ্টেট প্রকল্প। শুধু তাই নয়, কুমারখৌদা নামে পরিচিত তুরাগ নদীর সংযোগ খালটিও এখন দক্ষিনা সিটির গর্ভে। সরেজমিনে দক্ষিনা সিটি রিয়েল ষ্টেট প্রকল্প পরিদর্শনে এমন চিত্রই ধরা পড়ে অপরাধ বিচিত্রার ক্যামেরায়। প্রকল্পটি পরিদর্শনে দেখা যায়, দক্ষিনা সিটি রিয়েল ষ্টেট প্রকল্পের সীমানা ঘেষে প্রবাহিত ঐতিহাসিক কুমারখৌদা খালটিও ড্রেজার দ্বারা
বালু ফেলে ভরাটের কাজ চলছে। বিশাল আয়তনের এই প্রকল্পটির সীমানায় অবস্থিত খালের অধিকাংশই ভরাট করে চলছে প্লট বিক্রির প্রক্রিয়া। তাছাড়া অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিরুলিয়া মইস্তাপাড়া মৌজায় অবস্থিত এই প্রকল্পটির অধিকাংশই বৃটিশ শাষনামলের ঢাকার চতুর্থ নবাব খাজা সলিমুল্লাহ বাহাদুরের নামে রেকর্ডকৃত সম্পত্তি। যা বৃটিশ শাষনামলের অবসান, দেশভাগ ও পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর তৎকালীন নবাবদের যাবতীয় সম্পত্তি সরকার তথা কোর্ট অব ওয়ার্ড’স এর অন্তর্ভুক্ত হয়,। এছাড়া প্রকল্পটি ঘীরে রয়েছে নানান অভিযোগ। প্রকল্পটির আশে পাশে বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাবেক অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল আরিফুল আজমের মালিকানাধীন দক্ষিনা সিটি রিয়েল ষ্টেট প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রকল্পের পাশে সরকারী জমিতে প্রায় ১৫০ বছর যাবৎ বসবাসরত ভারতের নাগপুর থেকে আগত সনাতন ধর্মালম্বি আদিবাসীদের উচ্ছেদের জন্য তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন সময় একাধিকবার সন্ত্রাসী হামলা চালায়। সেসময় হামলায় বেশ কয়েকটি ককটেলের বিষ্ফোরনও ঘটানো হয়। আদিবাসী পল্লির সাথে দক্ষিনা সিটির বিরোধের প্রসঙ্গে সেখানকার বাসিন্দাদের সাথে কথা বললে তাদের দাবী, ঢাকার তৎকালীন নবাব খাজা সলিমুল্লাহ বাহাদুর তাদের পূর্বপূরুষদের বসবাসের জন্য প্রায় ৫০ শতাংশ ভূমির নিয়ে গঠিত আদিবাসী পল্লির জায়গাটি দান করেন। বর্তমানে ঐ স্থানে প্রায় ৩২৫ জনের ৮০ টি আদিবাসী পরিবার বসবাস করছে। ঐ স্থানে বসবাসরত আদিবাসী বাসিন্দারা বলেন, “আমাদের এই জমিটি বর্তমানে কোর্ট অব ওয়ার্ড্সের। শুধু আমাদের জমিটুকুই নয়, দক্ষিনা সিটি প্রকল্পের অধিকাংশ জমিই কোর্ট অব ওয়ার্ড’স ও সরকারী খাস জমি। দক্ষিনা সিটি কতৃপক্ষ এই সরকারী জমি থেকে আমাদের উচ্ছেদ করে দখল নিয়ে প্লট বিক্রয়ের পায়তারা করছে। আমাদের অন্যত্র আর থাকার জায়গা নেই, এখান থেকে চলে গিয়ে আমরা কোথায় গিয়ে উঠবো? আর দক্ষিনা সিটি জাল কাগজপত্র করে আমাদের উচ্ছেদ করে অবৈধ ভাবে এই জমির দখল নিতে চাইছে, যেমনটি তারা তাদের প্রকল্পের ভিতর কোর্ট অব ওয়ার্ড’স ও সরকারী খাস জমি দখল করে নিয়েছে। এমনকি তারা বর্তমানে সরকারী কুমারখৌদা খালটিও ভরাট করে চলেছে।” তাছাড়া জানা যায়, দক্ষিনা সিটি প্রকল্পসহ কর্নেল আরিফুল আজমের অধিকাংশ সম্পত্তি তাহার স্ত্রী মোনা হকের নামে। অভিযোগ রয়েছে ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব গোপন করতেই তিনি এই পন্থা অবলম্বন করেন। এ বিষয়ে দক্ষিনা সিটি কতৃপক্ষের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা এ ব্যাপারে কোন কথা বলতে বা মন্তব্য করতে রাজী হননি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনতিবিলম্বে দক্ষিনা সিটি রিয়েল ষ্টেট প্রকল্পের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহন জরুরী, অন্যথায় সরকারী খাস জমিসহ কোর্ট অব ওয়ার্ড’সের সম্পত্তিগুলো সম্পুর্নভাবে অবৈধ দখলে চলে যাবে। তাছাড়া পরবর্তীতে প্রতারিত হতে পারে দক্ষিনা সিটি প্রকল্পের ক্রেতাগন। অস্তিত্ব সংকটে পড়বে ঐতিহাসিক কুমারখৌদা খাল, বিপর্যস্ত হবে পরিবেশ।
