কাষ্টমের এম.এল.এস. (মাষ্টার রোল) কর্মচারীরর নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদের উৎস কোথা থেকে?

0
1154

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালী সদর উপজেলা ১১ নং নেওয়াজপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের সাবেক কাষ্টমের সিপাহী মোঃ সাবের আহাম্মদের স্ত্রী রেজিয়া বেগম ও তার ছেলে মেয়ের নামে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির উৎস কোথা থেকে? তাহা ভাবিয়ে তুলছে এলাকার জনগণকে। কারণ সাবের আহাম্মদ কাষ্টমের সিপাহী থাকলেও পৈত্রিক সূত্রে তিনি তেমন সম্পত্তি মালিক ছিলেন না। তাহার মরহুম পিতা একটি হিন্দু কালি বাড়ি কিনে বাস করতেন চার ছেলে-মেয়ে নিয়ে। সাবের আহাম্মদের চাচা নেওয়াজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার হওয়ার সুবাধে সেই সময় কালি বাড়ির নাম পরিবর্তন করে হাবিব উল্লাহ চৌকিদার বাড়ি রাখেন। হাবিব উল্লাহ চৌকিদারের পরে সাবের আহাম্মদের অর্থ কড়ি হওয়ায় বাড়ির নাম পরিবর্তন করে আবার সাবের আহাম্মদ কাষ্টমের বাড়ি রাখা হয়। তার মৃত্যুর পর স্ত্রীকে হজ্জব্রত পালন করে এনে বাড়ির সামনে আবার হাজী রেজিয়া ভিলার সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়, যা এখনো বিদ্যমান। বর্তমানে সাবেক কাষ্টামের সিপাহী মৃত সাবের আহাম্মেদের পুত্রদের অত্যাচারে শান্তিপ্রিয় মানুষের নিদ্রা হারাম হওয়ার পথে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সাবের আহাম্মদের পুত্ররা কাস্টমের গেইট পাশ নিয়ে ডেইর্লি লেবারি ও মাষ্টার রোলে কাজ করে নেওয়াজপুর ইউনিয়নের প্রতিটি মৌজা জমি বাড়ি কিনে শুধু ঝগড়া সৃষ্টি করছে না মাঝে মধ্যে জনগণকে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দিচ্ছেন জমি সংক্রান্ত ব্যাপারে। ইতিমধ্যে মাছিমপুর, দেবীপুর, কৃষ্ণপুর, বেলানগর, সাহাপুর, নেওয়াজপুর, ধর্মপুর মৌজা ৫টি বাড়ি ও ১০ একরের মত সম্পত্তি খরিদ করেছেন। তাছাড়া কবিরহাট থানাধীন এলাকায় একত্রে ১১ একর সম্পত্তি খরিদ করেছেন কালামুন্সি তহসিলের অধীনে। এছাড়াও নোয়াখালী জেনারেল পোষ্ট অফিসের সামনে নোয়াখালী পৌর ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতি লিঃ মাধ্যমে এ পরিবার দোকানের তিনটি রুম বন্দোবস্ত নেন। যাহা ১। এয়াকুব শরীফ, ২। জান্নাতুল ফেরদাউস, ৩। ইমাম উদ্দিন, সর্বপিতা ঃ মৃত সাবের আহম্মদ, সাং-কৃষ্ণপুর, সুধারাম, নোয়াখালী এর নামে বন্দোবস্তীকৃত। গত ০৪/০২/১৫ তারিখে ১০৩ নং দেবীপুর মৌজা, সাবেক ১০ হালে ১১ নং নেওয়াজপুরে ৩৩ শতাংশ জমি ৫০ লক্ষ টাকা দামে খরিদ করেও রেজিষ্ট্রির সময় সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার জন্য ২২ লক্ষ ৫ হাজার টাকা রেজিষ্ট্রি বাবদ দেখায়। এই রাজিয়া বেগমের ছোটা ছেলে এয়াকুব শরীফ মুন্সির সাথে সংসারে ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি হওয়ায় সে নিজ নামে এই সম্পত্তি খরিদ করেন। তাহার ছোট ভাই শফিক উল্লাহ কাস্টমের ডেইলি লেবার থেকে তার মায়ের মালিবাড়ির সম্পত্তির উপর ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৯ কক্ষ বিশিষ্ট ৩য় তলা ফাউন্ডেশনের ঘর নির্মাণ করেছেন। কিছুদিন আগে কাস্টমের ৩নং গেটে অনৈতিক কারণে জন্য তার যাতায়াত বন্ধ করে দেয়ার পর সে বর্তমানে বাড়িতে অবস্থান করছে। এয়াকুব শরীফের আরেক ভাইয়ের ছেলেও এই অনৈতিক কারণের জন্য কাস্টম এরিয়ায় আসা যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এই ক্ষোভে এয়াকুব শরীফের ভাতিজাকে দিয়ে কাস্টমের এক কর্মচারীর মেয়েকে ফুসলিয়ে এনে নোয়াখালীতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করেন। এর পিছনেও এয়াকুব শরীফের হাত ছিল। এছাড়া এলাকায় জমি-জমা কিনে স্থানীয় মানুষকে বহু জায়গা থেকে বেদখল করার চেষ্টা করছেন। যার প্রমাণ মিলছে তার নিজ বাড়িতেই। তিনি অজিউল্লাহ নামের এক ব্যক্তির জমি না কিনেও ৯শতক জমি থেকে তাকে বেদখল করেছেন। সচেতন মহলের দাবী হাজী রেজিয়ার স্বামী কাষ্টমের সিপাহী পদে চাকুরী করেও পৈত্রিক সূত্রে কোন মালিক না হয়ে এবং হাজী রেজিয়ার পিতার পৈত্রিক সম্পত্তি না থাকার পরও এত অর্থবিত্তের মালিক কিভাবে হলেন, কিভাবে এত কোটি টাকার মালিক হলেন, তাহা দুর্নীতি দমন সংস্থা ও স্ব-স্ব কর্তৃপক্ষের প্রতি জনগণের জিজ্ঞাসা।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here