সাভারে পরিবেশ দূষনের মাত্রাতিরিক্ত বিপর্যয় হুমকির মুখে জনস্বাস্থ ! পাকিজা, আনলিমা, ব্লুটেক্স, বাংলাদেশ টেক্সটাইল, আল-মুসলিম গ্রুপের বর্জ্য দূষনের অন্যতম কারন

0
1337

নোমান মাহমুদঃ
প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষের ঘনবসতিপূর্ন ঢাকার পার্শ্ববর্তী উপজেলা সাভারের পরিবেশ মারাত্মক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শনে দেখা যায়, সাভার-আশুলিয়ায় অবস্থিত ডায়িং, ওয়াশিং ফ্যাক্টরি সহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি পরিবেশ দূষন প্রতিরোধে পরিবেশ অধিদপ্তরের ই.টি.পি (ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট)

Advertisement

mg-35

পরিচালনার মাধ্যমে তাদের কল-কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য মিশ্রিত দূষিত পানি পরিশোধনের কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছে না শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলো। এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে সৃষ্ট ড্রেন পাইপ লাইনের সাথে ফ্যাক্টরি অভ্যন্তর হতে গোপন সংযোগ দিয়ে তা পাশ্ববর্তী নদ-নদী, খাল, বিলে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফরমালডিহাইড (এইচ.সি.এইচ.ও), ক্লোরিন, ব্লিচ সহ ভারি ধাতু ও উচ্চমাত্রার এসিড ভ্যালু সম্পন্ন এই দূষিত পানি নদ-নদী ও ফসলি জমিতে মিশে গিয়ে ধংস করছে ফসলি জমির উর্বরতা, বিষাক্ত করে তুলছে নদ-নদী ও জলাশয়ের পানি, যা জনস্বাস্থের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর। সাভারের পাকিজা, আনলিমা, ব্লুটেক্স, বাংলাদেশ টেক্সটাইল, আল-মুসলিম গ্রুপসহ একাধিক শিল্প-কারখানাগুলো পর্যবেক্ষনে দেখা যায়, এসকল প্রতিষ্ঠানের কারোই নেই বর্জ্য ব্যাবস্থাপনার সরঞ্জাম অথবা ই.টি.পি প্লান্ট। অবাধে প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্জ্য অব্যাবস্থাপনা পরিবেশের প্রতি কেমন প্রভাব ফেলছে তা পার্শ্ববর্তী তুরাগ নদীর পানি পর্যবেক্ষনেই দেখা যায়। নদী দূষনের প্রধান কারন হিসাবে যে সকল বিষয় উল্লেখযোগ্য তার মধ্যে ডায়িং ফ্যাক্টরি অন্যতম। পরিবেশ দূষন আইন-১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুসারে ডায়িং ফ্যাক্টরিগুলো রেড ক্যাটাগরির অন্তর্ভূক্ত এবং ই.টি.পি পরিচালনায় বাধ্য। যা প্রতিনিয়তই প্রতিষ্ঠানগুলো উপেক্ষা করে চলেছে । বিশেষজ্ঞদের  মতে পরিবেশে দুষনের এই ধারাবাহিকতা অনতিবিলম্বে রোধ না করা হলে এলাকার পরিবেশ, জনজীবন ও পার্শ্ববর্তী জলাশয় তথা তুরাগ নদী মারাত্বক বিপর্যযের সম্মুখিন হবে। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর মোঃ আব্দূল হাইয়ের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, “পরিবেশ দূষন প্রতিরোধে ইতিমধ্যে আমরা বেশ কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠানকে চিঠি করে একটি তালিকা প্রস্তুত করেছি, অতিশিঘ্রই এ সকল আইন অমান্য করে পরিবেশ দূষনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here