অপরাধ বিচিত্রাঃ
সারা দেশে খাবারে ভেজালের মধ্যে জনগণকে পুষ্টির স্বস্তি দিচ্ছে বাংলাদেশ দুগ্ধ উতপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড (মিল্ক ভিটা)। কিছু অসাধু কর্মকর্তার অসততায় এগিয়ে যেতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। চাহিদা থাকলেও বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মিল্ক ভিটার পণ্য জনগণের কাছে পৌঁছতে দিচ্ছে না। যন্ত্রপাতি স্থাপন, টেন্ডার, বিপণন প্রভৃতি ক্ষেত্রেই অনিয়ম চলছে। মেহনতি মানুষের কল্যাণে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া এ প্রতিষ্ঠানটি ক্রমেই ধ্বংসের পথে।
সাম্প্রতিক প্রতিষ্ঠানটির ৩৬তম বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বার্ষিক সভায় জেলা ও বিভাগীয় কমিটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিল। এ ছাড়া মিল্ক ভিটার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

মিল্ক ভিটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও অতিরিক্ত সচিব জাকির হোসেন বার্ষিক প্রতিবেদন পেশকালে বলেন, ‘১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেহনতি মানুষের উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলেন। এটিকে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের নানামুখী উদ্যোগ থাকলেও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অকারণেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যাদের ব্যয় নির্বাহ করতে প্রচুর অর্থ খরচ হচ্ছে। দক্ষ লোক নিয়োগ না দিয়ে অদক্ষদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অসাধু কর্মকর্তারা এক দিন অফিস না করেও নিয়মিত বেতন নিয়েছেন। কেউ কেউ খাতায় স্বাক্ষর করেই দায়িত্ব শেষ করেছে। সময় ঘণ্টার অপচয় কমেছে। দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই এগিয়ে চলেছি। তাদের চেয়েও ভালো করার চেষ্টা করছি।’
বিপণনে মিল্ক ভিটা অনেক পিছিয়ে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিপণনে চারজন ডিজিএম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে কোথাও একটা ফাঁক-ফোকরে পড়ে রয়েছি। বিপণন বাড়াতে ঢাকায় ১০০টি আউটলেট স্থাপন করা হবে। এতে বিপণনে স্থবিরতা কাটবে। এ সময় তিনি প্লাট ও চিলিং স্টেশন স্থাপনের নানা দুর্বলতা ও দুর্নীতি তুলে ধরেন।
মিল্ক ভিটার চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু ঢাকা বাইরে থেকে আসা প্রতিনিধি বিভিন্ন সমস্যা শুনে বলেন, মিল্ক ভিটার অস্তিত্ব রক্ষা করতে হবে। কিছু কর্মকর্তা এই প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংসের পাঁয়তারা করছেন। গত বছরের চেয়ে এ বছর পণ্য বিক্রি কমেছে। আগের বছর এই সময় পর্যন্ত ১১৫ কোটি টাকা বিক্রি হয়েছিল। তবে এ বছর হয়েছে মাত্র ৮৫ কোটি টাকা। যদিও বিপণনে চারজন ডিজিএম, ১১ জন মাঠকর্মী ও প্রায় অর্ধশত পরিদর্শক রয়েছেন। বাজারে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পণ্য বিক্রি হচ্ছে না। বিপণনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের একটা নির্দিষ্টসীমা দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে শর্ত পূরণ করতে না পারলে সবাইকে বাড়ি ফিরে যেতে হবে। কোথাও তদবির করেও ফল আসবে না।
শেখ নাদির হোসেন আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি বিভাগে পূর্ণাঙ্গ প্লান্ট স্থাপন ও জেলায় জেলায় চিলিং স্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিন হাজার কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দও দিচ্ছে সরকার।
ব্যবস্থাপনা কমিটির ভাইস চেয়্যারম্যান শেখ আব্দুল হামিদ লাবলু বলেন, ‘অসৎ কর্মকর্তাদের কারণে মরতে বসেছে মিল্ক ভিটা। তবে আমরা সেটা হতে দেব না।’
