আশিকুর রহমান ,রূপগঞ্জ ঃ রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভার তেঁতলাবো, মাসাবো, আড়িয়াবো ও গোলাকান্দাইলের বিভিন্ন এলাকায় জমি কিনে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে নানা শিল্প-কারখানা। আর এসব শিল্প-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে তারাব পৌরসভার তেঁতলাবো, মাসাবো উত্তর নামাপাড়া, কান্দাপাড়া ও গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের গোলাকান্দাইল ৫নং ক্যানেল, নাগেরবাগ এলাকাসহ বহু গ্রামে জলাবদ্ধতাসহ বিপন্ন হয়েছে পরিবেশ। এতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এখানকার বসবাসরত হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। বসবাসকারীরা আক্রান্ত হচ্ছেন নানা ধরনের চর্মরোগে। এসব কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য শোধনহীন অবস্থায় তেঁতলাবো, মাসাবো উত্তর নামাপাড়া, কান্দাপাড়া ও গোলাকান্দাইল ৫নং ক্যানেল, নাগেরবাগ এলাকাসহ কয়েকটি এলাকার নিম্নাঞ্চলে ফেলে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করা হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ের মাঠ ও শ্রেণীকক্ষ পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। এতে বিষাক্ত বর্জ্যরে পানিতে হাবুডুবু খেতে হয় স্কুল-মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের। আর এসব থেকে মুক্তি পেতে আশপাশের লোকজন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বারবার সরকারি দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। সরেজমিনে দেখা গেছে, তারাব পৌরসভার তেঁতলাবো, মাসাবো উত্তর নামাপাড়া, কান্দাপাড়া ও গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের গোলাকান্দাইল ৫নং ক্যানেল, নাগেরবাগ এলাকায় জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারন করেছে। কোনো কোনো এলাকায় এখনও হাঁটু পানি জমে আছে, আবার কোথাও জমে আছে কোমর পানি। এসব এলাকায় শুধু স্থায়ী জলাবদ্ধতা নয়, বিষাক্ত বর্জ্যে পানির উৎকট গন্ধে এলাকায় বাস করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী অনেকেই বলেন, ‘কী করব, ডিসি অফিস, ইউএনও অফিস, পরিবেশ অধিদফতরসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি কারখানা রয়েছে এ এলাকায়। এসব কারখানা অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। কারখানার দূষিত বর্জ্যে সাধারণ মানুষের পেটের পীড়া, আমাশয়, কলেরা, ডায়রিয়ার মতো নানা রোগ এখানে মহামারী আকার ধারণ করেছে। স্কুল ছাত্র আরেফিন জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই স্কুলের ভিতর পানি জমে থাকে। আর এসব পানিতে থাকে বিষাক্ত বর্জ্য। পানি গায়ে লাগলে গা চুলকায়। গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নাসির উদ্দিন ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ফেলে সাধারণ মানুষের বসবাসে ব্যাঘাত ঘটানো হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, বিষাক্ত বর্জ্য এখন ঘরবাড়ি-স্কুল-মাদ্রাসায় প্রবেশ করায় বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীসহ সবাই। তারাব পৌরসভার কাউন্সিলর রাসেল সিকদার জানান, এখানকার সব শিল্পকারখানার বর্জ্যই নিষ্কাশনের বিষয়ে যথেষ্ট প্রতিবাদ করা হলেও কোনো কাজে আসেনি। উপজেলার গোলাকান্দাইলের ৫নং ক্যানেল এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেন হতাশা আর ক্ষোভের সুরে বলেন, ‘আমরা জীবনেও বুঝি শান্তি পামু না। শিল্পকারখানার বর্জ্যরে দূষিত পানিতে ডুইবা মরতাছি। জন প্রতিনিধি আসে, ‘জন প্রতিনিধি যায়। তেঁতলাবো এলাকার বাতেন মিয়া বলেন, ‘স্কুলে যাইতে পারে না পোলাপান। পানি ভাইঙ্গা স্কুলে যায়। ওগো লইয়া হগল সময় ডরে থাহি। বৃষ্টির পানি আর বর্জ্যরে দূষিত পানি একাকার।’ বর্তমানে স্থানীয় অলটেক্স, এইচ এইচ টেক্সটাইল, এসিএস টেক্সটাইল, নান্নু টেক্সটাইল, পদ্মা ডাইং, রবিনটেক্সসহ কয়েকটি শিল্পকারখানার বর্জ্যের দুষিত পানিতে তলিয়ে গেছে এসব এলাকা। সরেজমিনে আরো দেখা গেছে, পচা পানি দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এলাকার লোকজন নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের জানিয়েও ভুক্তভোগীরা কোনো সুফল পাচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোলাকান্দাইলের ৫নং ক্যানেল এলাকার বাসিন্দা হাবিব মিয়া বলেন, বাড়িঘরে যাওয়ার রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সাকু দিয়ে বাড়িতে যেতে হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারনে বহু কষ্টে রয়েছি আমরা। স্থানীয়রা জানায়, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নাজুক হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট, বাসা-বাড়িতে পানি প্রবেশ করায় এ এলাকায় বসবাসকারীরা চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এখানকার অধিবাসীর জন্য এখন অভিশাপ হয়ে দাড়িয়েছে জলাবদ্ধতা। হাঁটু পানিতে তলিয়ে গেছে অনেক ঘরবাড়ি। বাসা বাড়ীতে পানি ঢুকে যাওয়ায় রান্না নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে গৃহিনীরা। চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এখানকার মানুষ। বর্তমানে শিল্পকারখানা গুলোর দুষিত বর্জ্য মিশ্রিত পানির কারণে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকারে রূপ নিয়েছে। এসব এলাকার হাজার হাজার মানুষের জন্য জলাবদ্ধতা অবর্ণনীয় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন পানির সঙ্গে ময়লা পানিও মানুষের ঘরবাড়িতে প্রবেশ করছে। এখানকার জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে-এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
