আশিকুর রহমান, রূপগঞ্জঃ রূপগঞ্জ উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ-বিএনপির নতুন কমিটি গঠন নিয়ে চলছে নানা লবিং তদবির। পদ-পদবী পেতে দলের জন্য ত্যাগীদের পাশাপাশি সুবিধাভোগীরাও চালাচ্ছেন চেষ্টা তদবির। শীঘ্রই আওয়ামীলীগ ও বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে এমন আশায় প্রত্যাশিত পদ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন আওয়ামীলীগ ও বিএনপির নেতারা। কাঙ্খিত পদ পেতে ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমসহ (ফেইসবুক) বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছে তাঁরা। যেসব নেতা এতদিন কর্মীদের কোনো খোঁজ খবর নেননি এখন তারাও তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা জানান, প্রকাশ্যে কেউ পদের দাবি না করলেও প্রত্যেকেই ভেতরে ভেতরে আওয়ামী লীগের শীর্ষ মহলে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ সরাসরি নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতীক)-এর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। আবার কেউ কেউ তার আস্থাভাজন নেতাদের মাধ্যমে নিজের কাঙ্খিত পদটি নিশ্চিত করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, যাঁরা ওয়ান ইলেভেন থেকে এ পর্যন্ত জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) সুসংগঠিত করে, দলীয় কর্মসূচিতে রাজপথে সক্রিয় ছিল এবং দলের জন্য ত্যাগী ও মামলা-হামলার শিকার এমন নেতাদের অগ্রাধিকার ও যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে যোগ্য নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা নেতাকর্মীদের। জানা গেছে, উপজেলার তারাব পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে ছিলেন হাজী রফিক উদ্দিন ও সাধারন সম্পাদক ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান মোল্লা। সভাপতি হাজী রফিক উদ্দিন মারা যাওয়ার পর মোফাজ্জল হোসেন ভুঁইয়া সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এ পৌরসভায় শীঘ্রই আওয়ামীলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে এমন আশায় প্রত্যাশিত পদ পেতে অনেকেই মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এ পৌরসভায় সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক হিসেবে যাদের নাম সর্বাধিক আলোচনায় এসেছে তারা হলেন, সাপ্তাহিক রূপকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক আওয়ামীলীগ নেতা নজরুল ইসলাম চৌধুরী, আওয়ামীলীগ নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, মোফাজ্জল হোসেন ভুঁইয়া, মোস্তাফিজুর রহমান মোল্লা, মোসাদ্দেক হোসেন পান্নু, আলতাফ হোসেন গোলবক্স, মোখলেসুর রহমান ভুঁইয়া। কাঞ্চন পৌরসভায় আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে আছেন নজরুল ইসলাম মাষ্টার ও সাধারন সম্পাদক গোলাম রসুল কলি। এ পৌরসভায় সভাপতি হিসেবে রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী সদস্য এমায়েত হোসেন ও সাধারন সম্পাদক হিসেবে কাঞ্চন পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিকের নাম সর্বাধিক আলোচনায় রয়েছে। কায়েতপাড়া ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে আছেন মোঃ জাহেদ আলী ও সাধারন সম্পাদক হিসেবে আছেন এডভোকেট আব্দুল আউয়াল। এ ইউনিয়নেও অনেকে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক হতে তৎপরতা চালাচ্ছেন। ভোলাবো ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে আছেন আবুল হোসেন ও সাধারন সম্পাদক হিসেবে আছেন হাসান আশকারী। এ ইউনিয়নে সভাপতি হিসেবে এডভোকেট তৈয়বুর রহমানের নাম সর্বাধিক আলোচনায় রয়েছে। দাউদপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে আছেন আফাজ উদ্দিন খান ও সাধারন সম্পাদক হিসেবে আছেন নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর। এ ইউনিয়নেও অনেকে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক হতে তৎপরতা চালাচ্ছেন। ভুলতা ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে আছেন আমির হোসেন ও সাধারন সম্পাদক হিসেবে আছেন বাবুল ভুঁইয়া। এ ইউনিয়নে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক হিসেবে ব্যারিষ্টার আরিফুল হক ভুঁইয়া, আবু দাউদ মোল্লার নাম সর্বাধিক আলোচনায় রয়েছে। গোলাকান্দাইল ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে আছেন মঞ্জুর হোসেন ভুঁইয়া ও সাধারন সম্পাদক হিসেবে আছেন ছাত্তার চৌধুরী। এ ইউনিয়নে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক হিসেবে আলী আকবর, নাঈম ভুঁইয়ার নাম সর্বাধিক আলোচনায় রয়েছে। মুড়াপাড়া ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের সভাপতি শওকত আলী মারা গেছেন অনেক আগেই। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন গঞ্জর আলী। তিনি খুবই অসুস্থ। সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আলীমুদ্দিন। তিনিও অনেকটা রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়। এ ইউনিয়নে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক হিসেবে তোফায়েল আহমেদ আলমাছ, আলহাজ্ব বরকত উল্লাহ, ভিপি শাহরিয়ার পান্না সোহেলের নাম সর্বাধিক আলোচনায় রয়েছে। চনপাড়া পূনর্বাসন কেন্দ্র ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের সভাপতি আবু তাহের মারা গেছেন অনেক আগেই। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন আমির হোসেন। সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বজলুর রহমান বজলু। এ ইউনিয়নে আমির হোসেন, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, মনা, জাহেরসহ অনেকে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক হতে তৎপরতা চালাচ্ছেন। রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে রয়েছেন মশিউর রহমান তারেক ও সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাবিবুর রহমান হারেজ। এদের মধ্যে মশিউর রহমান তারেক রাজনীতিতে রয়েছেন অনেকটা নিষ্ক্রিয়। এ ইউনিয়নে সভাপতি হিসেবে সালাউদ্দিন ভুঁইয়া ও সাধারন সম্পাদক হিসেবে দলিল লেখক রবিউল আলম নবীর নাম সর্বাধিক আলোচনায় রয়েছে। এদিকে, কাঙ্খিত পদ পেতে তারা নানাভাবে লবিং ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন। বিশেষ করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এ দু’টি শীর্ষ পদে বেশ কয়েকজন করে প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তবে এসব ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নতুন কমিটিতে পুনরায় নিয়ে আসা হতে পারে বলেও জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অপরদিকে, উপজেলার ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুন অর রশিদ ভুঁইয়া, তারাবো পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই ভুঁইয়ার মৃত্যু ও তারাবো পৌরসভা বিএনপির সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চৌধুরীকে দল থেকে বহিস্কার করায় এসব এলাকায় বিএনপির কমিটি গঠনের গুঞ্জন রয়েছে।
