রাজধানীর জোায়ারসাহারা, বাড্ডাসহ অন্যান্য মৌজার অচলাবস্থা নিরসনে সাংবাদিকদের সাথে প্রেস ব্রিফিং করলেন ভূমি মন্ত্রী

0
1381

ভূমি মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এম.পি. সাংবাদিকদের সাথে আজ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রেস ব্রিফ করেন। প্রেসব্রিফিংকালে মন্ত্রী বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার জনভোগান্তিতে বিশ্বাসী নয়। এর আগে বহু সরকার এসেছে কিন্তু এ বিষয়ে কাগজে কলমে সুনির্দিষ্ট কোনো সুরাহা করে যায়নি। জটিল করে রেখেছে, ঝুলিয়ে রেখেছে। মানুষজন নামজারি, জমি কেনা বেচা করতে পারছে না। রাজধানীর  জোয়ারসাহারা, বাড্ডাসহ অন্যান্য মৌজার দীর্ঘ ৫৬ বছরের অধিগ্রহণভুক্ত এলাকার অচলাবস্থা নিরসন চান। প্রধানমন্ত্রী জনস্বার্থে আইনসঙ্গত ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আজ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৃহত্তর ঢাকার বাড্ডা, জোয়ারসাহারা, ভাটারা, ভোলা ও সুতিভোলা মৌজার হুকুমদখলকৃত জমি হতে ১৩৮৫.২৫ একর জমি প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ঢাকা জেলার এল.এ. কেস নং-১৩৮/৬১-৬২, ৯১/৫৭-৫৮ ও ২৩/৬৬-৬৭ এর সম্পত্তি অবমুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ বলেন, কিছু কিছু পত্র-পত্রিকায় খবরাখবর আসে, কিন্তু মাঝে মাঝে বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ ছাপা হয়। মানুষের ভোগান্তি হয়েছে এবং চলছে। উল্লিখিত জায়গা প্রত্যর্পণের কাজ শুরু হয় আরও এক বছর আগে। প্রকৃত মালিকদের কাছে জমি প্রত্যর্পণ হবে। তারা সহজ ও সাবলিলভাবে নামজারি, জমাখারিজ, জমি বেচা কেনা করতে পারবে।  সরকার চায় এদেশের মানুষ যেন অসহায় না হয়। এমন কিছু যাতে না করা হয়, যার সুযোগে অন্য স্বার্থান্বেসী মহল অবৈধ কিছু করার সুযোগ নেয়। জনভোগান্তি দুর করতে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গ্যাজেট নোটিফিকেশন দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন করা হবে। মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। জনস্বার্থে এ জটিলতার নিরসন অতি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। মন্ত্রী বলেন,
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটি বিগত ২১ অক্টোবর ১৯৬১ খ্রি. তারিখের সভায় বৃহত্তর ঢাকায় আবাসনের জন্য ভোলা, মহাখালী, করাইল, লালা সরাইল, উলুন, ভাটারা, বাড্ডা, সামাইর, জোয়ার সাহারা ও সূতিভোলা মৌজায় ২৭৬০ একর জমি অধগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন করে। এর মধ্যে ১৫১৮.২৮ একর জমির মধ্যে স্থানীয় লোকজন ঘরবাড়ি সৃজন করে ঘনবসতি এলাকা হিসেবে বসবাস করে আসছে। এই সমস্যার সমাধানকল্পে ১৩৮ নং এল.এ. কেসের অধিগৃহীত ১৫১৮.২৮ একর জমি হতে ১৩৮৫.২৮ একর জমি পুরাতন মালিকদের কাছে প্রত্যর্পণ করার সিদ্ধান্ত হয়। ৭ জানুয়ারি ১৯৯৩ খ্রি. ৯৬১.২৪ একর জমি অবমুক্তির জন্য পত্রিকার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিটি এতকাল ধরে গ্যাজেট নোটিফিকেশন আকারে প্রকাশ হয়নি। গ্যাজেট নোটিফিকেশন হলে এলাকাবাসীর সকল সমস্যার নিরসন হবে।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here