‘মাদারীপুর-চরমুগুরিয়া-টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ নৌ-পথ খনন’ শীর্ষক প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য সাফল্য

0
1543

এম হোসেনঃ
“মাদারীপুর-চরমুগুরিয়া-টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ নৌ-পথ খনন’ শীর্ষক প্রকল্পের কাজ জুন ২০১৬ এ সমাপ্ত হয়েছে। প্রকল্পটির সংশোধিত বরাদ্দ ছিল ১৩৯.৬৭ কোটি টাকা। প্রকল্পের কাজ প্রায় ১৩.৭০ কোটি টাকা দিয়েই সমাপ্ত হয়েছে। এতে সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ৭ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১২০ কিলোমিটার নৌ-পথ ড্রেজিং করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় আড়িয়াল খাঁ ও কুমার নদীর মাদারীপুর হতে মোস্তফাপুর পর্যন্ত প্রায় ৯.০০ কিঃমিঃ, চরমুগুরিয়া হতে ওআইসি পল্লী পর্যন্ত প্রায় ৩.০০ কিঃমিঃ, লোয়ার কুমার নদীর মোস্তফাপুর হতে টেকেরহাট পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিঃমিঃ, বিলরুটে/মধুমতি নদীর টেকেরহাট হতে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৩৩.০০ কিঃমিঃ, আপার কুমার নদীর ২২.০০ কিঃ মিঃ, আড়িয়াল খাঁ নদীর ২০.০০ কিঃ মিঃ এবং মোস্তফাপুর হতে পয়সারহাট ১৫ কিঃমিঃ অর্থাৎ প্রায় ১২০.০০ কিঃমিঃ নৌ-পথের ড্রেজার দ্বারা ড্রেজিং কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, বর্ণিত প্রকল্পের আওতায় মাদারীপুর জেলার রাস্তী ইউনিয়নের রূপরাইয়া এলাকায় নদী খননের ড্রেজ স্পয়েল পলি মাটি হওয়ায় তা লক্ষীগঞ্জ, চরমুগুরিয়া ও রূপরাইয়া মৌজার অন্তর্গত রূপরাইয়া নামক বাওরের মধ্যে ফেলার ফলে উক্ত বাওরের প্রায় ৭৫-৮০ একর অনাবাদি জমি আবাদি হয়েছে। এছাড়া উক্ত প্রকল্পের আওতায় নদী ড্রেজিং করে প্রাপ্ত মাটি/বালি দ্বারা ইটের পুল পাঠককান্দি হিন্দুদের তির্থস্থান, মাদারীপুর পৌরসভার কবরস্থান (ইয়ার হাওলাদার জুট মিলের মধ্যে), ইউনাইটেড ইসলামিয়া স্কুল, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এর নীচু জায়গা, শীল্পকলা একাডেমী নীচু জায়গা, নাজিম উদ্দিন কলেজ মাঠ, পাবলিক স্কুল মাঠ, মোস্তফাপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খান কলেজ মাঠ, মোস্তফাপুর কৃষি মার্কেট, ঘটক চর বাজার এলাকা, কুকরাইল মসজিদ ও মাদ্রাসার নীচু জায়গা, চরমুগুরিয়ায় গরুর হাট, চরমুগুরিয়ায় ঈদ গাঁ মাঠ ও গার্লস স্কুলের মাঠ, নয়ারচর গুচ্ছ গ্রামের নীচু জায়গা, চরমুগুরিয়ায় শীপ পার্সোনেল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের নীচু জায়গা, গাছবাড়িয়ায় ৩টি ও নয়ারচরের ১টি মসজিদের নীচু জায়গা, গাছবাড়িয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পতিত প্রায় ২০ একর নীচু জায়গা, চোদ্দার ব্রীজ এলাকায় মসজিদ, মাদ্রাসা ও প্রাইমারী স্কুলের মাঠ ভরাট করে ভূমি উন্নয়ন করা হয়েছে।
বিলরুট/মধুমতি নদী খনন করে ড্রেজিং এর মাটি/বালি দ্বারা গোপালগঞ্জ জেলার মোকসুদপুর উপজেলার গঙ্গারামপুর প্রাইমারী স্কুলের মাঠ, কলিগ্রাম খৃষ্টানদের গীর্জার নীচু জায়গার সাথে প্রায় ১০ একর অনাবাদি জমি আবাদী হয়েছে, কলিগ্রাম খৃষ্টানদের কবর স্থান, তালবাড়িয়া হিন্দুদের মন্দিরের নীচু জায়গা, কলিগ্রাম গরিব লোকের বসতি স্থানের পাশ দিয়ে নীচু জায়গাসমূহ ও গঙ্গারামপুর, কংশুর, সাতপাড় এলাকায় পাউবো’র প্রায় ২৭ একর রাস্তার পাশে নীচু জায়গা, কনপাড়া পূর্ব নিদ্রা গ্রাম খেলার মাঠ, আশ্রয় কেন্দ্র, বৈলতৈলী বাজার সংলগ্ন ৮২ পরিবারের নীচু জায়গা ভরাট করে ভূমি উন্নয়ন করা হয়েছে।
আপার কুমার নদী খনন করে ড্রেজিং এর মাটি/বালি দ্বারা শাখার পাড় হাই স্কুল, প্রাইমারী স্কুল, মসজিদ ও ঈদ গাঁ মাঠ, রাস্তার দুই পাশে নীচ জায়গা, শাখার পাড় ভাঙ্গনরোধে মাটি ফেলা হয়েছে। হাসানকান্দি ইউনাইটেঢ হাইস্কুল মাঠ, হরিদাসদী মাতবর বাড়ী কবর স্থান, মহেন্দ্রদী উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ, পশ্চিম মহেন্দ্রদী মুন্সিবাড়ী কবর স্থান, হরিদাসদী গ্রামের রাস্তার দুই পাশে নীচু জায়গা, ভাটিয়াকান্দি গ্রামের রাস্তার দুই পাশে নীচু জায়গা, পশ্চিম মহেন্দ্রদী গ্রামের রাস্তার দুই পাশে নীচু জায়গা, হরিদাসদী, ভাটিয়াকান্দি, পশ্চিম মহেন্দ্রদী গ্রামের ডোবা, নালা, নীচু জায়গা, নীলামবারদীর খানকা শরীফ, নীলামবারদীর  শিশু ও পারিবারিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জায়গা ও ডোবা, নালা, নীচু জায়গা ভরাট করে ভূমি উন্নয়ন করা হয়েছে।
প্রকল্পের বিলরুটে/মধুমতি নদীর টেকেরহাট হতে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত চরমুগুরিয়া হতে ওআইসি পল্লী পর্যন্ত, মাদারীপুর লঞ্চ ঘাট হতে মোস্তফাপুর পর্যন্ত এবং লোয়ার কুমার নদীর মোস্তফাপুর হতে টেকেরহাট পর্যন্ত অংশের ড্রেজিং সম্পন্ন হওয়ায় সারাবছর ৮ ফুট ড্রাফটের নৌ-যান নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারছে। এতে করে টেকেরহাট হতে পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা এবং মাদারীপুর হতে পয়সার হাট ভায়া বরিশাল ইত্যাদি জেলায় সার, সিমেন্ট, পাট, কাঠ, খাদ্যদ্রব্য ইত্যাদি মালামাল স্বল্প ব্যয়ে নৌ-পথে আনা নেওয়া হচ্ছে। ফলে অত্র এলাকায় সার, সিমন্টে ও অন্যান্য মালামালের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। মৃত লোয়ার কুমার নদী খননের ফলে নদীর পানি পাশ্ববর্তী এলাকায় সেচকার্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে করে অত্র এলাকায় ফসল উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদীতে প্রয়োজনীয় গভীরতায় সারা বছর পানি থাকায় মাছের প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে মৎস জীবিরা সারা বছর মাছ শিকার করে তাদের স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি করতে পেরেছেন। নদীতে প্রয়োজনীয় গভীরতা থাকায় বর্ষাকালে পানি নদীর দুই পাড় উপচিয়ে প্রবাহিত না হওয়ায় বন্যার প্রকোপ হ্রাস পেয়েছে। ফলে এ অঞ্চলে ফসল, আবাসন ইত্যাদির ক্ষয় ক্ষতির পরিমান হ্রাস পেয়েছে এবং পরিবেশের ভারসম্য রক্ষা পেয়েছে।
প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের আইএমইডি বিভাগ কর্তৃক ইনডেপথ মনিটর করা হয়েছে। প্রকল্পের সফলতা দেখে আইএমইডি প্রতিবেদনে প্রকল্পটি গ্রহণ করা যুক্তিক হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে। এ ধরনের আরও প্রকল্প গ্রহণ করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here