আতোয়ার রহমান মনির,লক্ষ্মীপুর
বিরোধ বাড়লেই আতœহত্যা লক্ষ্মীপুরে গত একবছরে জেলায় অস্বাভাবিক ঘটনায় মারাগেছেন ৫৭ জন। স্বজনদের প্রতি আস্থার সংকট,একাকিত্ব,বিষণœতা,সামাজিক বঞ্চনা,দাম্পত্য কলহসহ পারিবারিক ও সামাজিক সহিংসতা বেড়ে অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে অপমৃত্যুর সংখ্যা।
জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পরিসংখ্যান মতে জানাগেছে,গত বছরে ৫৭টি অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গলায় ফাঁস দিয়ে ৩৮ জন,পানিতে ডুবে মারাগেছে ৫ জন, বিষপানে ৮ জন।,বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১জন,অজ্ঞাত কারণে ৫ জনসহ ৫৭ টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছেন এসবই অপমৃত্যুর ঘটনায় মারাগেছেন। পুলিশের পরিসংখ্যান সূত্রে জানাগেছে,জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ২০১৭ সালে গলায় ফাঁসদিয়ে সদর উপজেলায় মারাগেছেন,চন্দ্রগঞ্জ এলাকার সাইদা বেগম(১৯),ৃশামীন আক্তার(১৮),জাহিদুল (২৩),শাহেদা আক্তার (২৩),শাহাদাত হোসেন(২২), আবুল কালাম (৬০), নুরে আলম ,জেসমিন আক্তার (২৩),আসমা উল হাসনা (২৮),লাভনী আক্তার (১৪), আব্দুর রহিম (২৫),শাহনাজ বেগম(১৯),আইনুল বাহার লুছনা (৪৫), আব্দূল মালেক (২৫),মিতুরানী (২০),মেহেদী হাসান (১৪),তাহমিনা আক্তার(২১),শাহিনুর আক্তার (১৩),রামগতিতে নামজমা বেগম (১৬), তাসলিমা বেগম (২৫),হাসি আক্তার (২০),শাহিন আলম রনি (২৫), উর্মি আক্তার (২৪), রিমন (২৮),অহিদা বেগম বেগম (২০),সুমাইয়া আক্তার(২৪),রায়পুরে ঝণা বেগম (২৩), শারমীন আক্তার (২২),আসমা আক্তার (২৭),রিয়া আক্তার (১৯), রফিক উল্যাহ্ ,রামগঞ্জে গলায় ফাসদিয়ে মাহবুব আলম মিলন(১৭), সেলিনা আক্তার (২৯),কমলনগরে গলায় ফাসদিয়ে মমিন উল্যাহ্ (৭৫),মহিম (৩৯),ইব্রাহিম (২৮),সোলেমান (৭৫),ফারজানা বেগম (৩০),বিবি রহিমা (২৬),জান্নাতুল ফেরদৌস (১৪)সহ ৩৮ জন।
পুকুরের পানিতে ডুবে সদর উপজেলায় নিরব(৫),ইয়াসিন আরাফাত,রুনা আক্তার (২), জাহিদুল ইসলাম(৪),রামগতিতে ফাতেমা বেগম (১৮)সহ ৫ জন। বিষপানে রামগতিতে হাসনা বেগম (৩৫),হাসনা বেগম (৩৫),রায়পুরে বিষপানে পান্না আক্তার (১৬),আলেহা বেগম (৩৫) বিউটি রানী (৪৫),সদর উপজেলায় টুটুল (২৩),কুলসুমা বেগম মুন্নী(২১),কমলনগরে হোসনে আরা বেগম (১৮)সহ ৮ জন। বিদ্যুত পিষ্ঠ হয়ে সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জে আব্দুল হালিম (২৩) পেটে অসুস্থতায় সদর উপজেলায় পলিবেগম (২৮),অঙ্গাতকারণে রায়পুরে মোস্তফা খান,ইয়াসিন হোসেন,সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জে অঙ্গাত শিশু মারা যায়।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, নানা কারণে এক শ্রেণির মানুষ সামান্য বিরোধকে কেন্দ্র করে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। এ জেলায় সামাজিক সচেতনা না থাকায় রীতিমতো সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়ে অস্বাভাবিক মৃত্যুর হার বেড়েই চলছে। আবার কখনো কখনো খুন করে আত্মহত্যা কিংবা দুর্ঘটনাজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে চালিয়ে দিচ্ছে ঘাতকরা।রহস্যজনক মৃত্যুর নামে অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটেই চলেছে। এভাবে প্রতিনিয়ত অপমৃত্যুর শিকার হচ্ছে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। এসব অপমৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের পক্ষ থেকে করা হয় সাধারণ ডায়েরি (জিডি)কিংবা অপমৃত্যু(ইউডি)মামলা। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঠিকমতো হয় না তদন্ত। শেষ হয়ে যায় জিডি কিংবা মামলার মধ্যেই যেন বিচার।
এছাড়া স্থানীয়রা বলছেন,সদরে অঙ্গাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় অপমৃত্যু দেখানো হয়। এসব জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পরিসংখ্যান মতে অধিকাংশ ঘটনা অপমৃত্যু মামলা হিসেবে নথিভুক্ত পুলিশের নিকট রেকড রয়েছে।
অপরদিকে, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা ঘটছে অহরহ। নির্যাতনের পর মারা গেলে তা অস্বাভাবিক মৃত্যু বলে চালিয়ে দেয়া হয়। এমনকি পুলিশও এসব ঘটনায় হতাহতের পরিবার হত্যা মামলা করতে চাইলেও পুলিশ তা ইউডি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেন।
সম্প্রতি কমলনগর উপজেলায় চর কাদিরার রব বাজার এলাকায় নিউ হক বিক্্রস (ফারুক কোম্পানীর ইট ভাটায়) দুর্ঘটনায় ইটভাটা শ্রমিক মহসিন নিহত ঘটনা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাপন করা হয়েছে। নিহতের পরিবারকে মামলা করতে না দিয়ে সোয়া লাখ টাকায় রফাদফা করার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। নিহত মহসিন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা কুশাখালী ইউনিয়নের ঝাউডগি এলাকার মৃত হানিফের ছেলে। ১৭ জানুয়ারি বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার চর কাদিরার রব বাজার এলাকায় নিউ হক বিক্্রস (ফারুক কোম্পানীর ইট ভাটায়) দুর্ঘটনায় নিহত হন শ্রমিক মহসিন। ওইদিন খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।
নিহত স্বজন ও মহসিনের ভাই মোসলে উদ্দিনের অভিযোগ,কমলনগর থানায় উপস্থিত হয়ে ইটভাটায় দুর্ঘটনার নিহত তাদের ভাই মহসিন মৃত্যুর ঘটনার বিচার দাবী করে মামলার প্রস্তুতি নেন তারা। একটি প্রভাবশালীর চক্র থানায় মামলা করতে দেয়নি। এমনকি তাদেরকে নানা ভাবে হুমকি ধমকি দেওয়া হয়েছিল তখন। এ ঘটনার একদিন পর সোয়ালাখ ্টাকাসহ মহসিনের মৃত্যুদেহ পৌঁছে দেন ইট ভাটার মালিক ফারুক কোম্পানী।
নিউ হক ব্রিক্্েরর মালিক মো. ফারুক জানান,তার ইট ভাটায় মহসিনের দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়। সকলকে ম্যানেজ করে সোয়া লাখ টাকাসহ ক্ষতিগ্রসস্ত পরিবারের নিকট মহসিনের মৃতদেহ পৌঁছে দেয়া হয়। এ জন্য ময়না তদন্তের প্রয়োজন হয় নাই।
কমলনগর থানার ওসি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান,ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে যদি দেখা যায়, এটি অস্বাভাবিক মৃত্যু নয়, পরিকল্পিত হত্যা, তাহলে সে মামলা সচল করা হয়। তখন ইউডি মামলা, নিয়মিত মামলার মতো গুরুত্বসহ তদন্ত করা হয়। আর প্রতিবেদনে কোনো নেতিবাচক তথ্য না পাওয়া গেলে মামলাটি এমনিতেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন,অপরাধ ও অপমৃত্যুর প্রবণতা রোধে পরিবারের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যাতে করে তাদের সন্তানকে অশ্লীল আচরণ,নেতিবাচক আচরণ এমনকি পারস্পরিক বিবাদ-বিসম্বাদ থেকে সন্তানদের দূড়ে রাখতে হবে। সে সাথে খেলায় রাখতে হবে সন্তান কোথায় থাকে,কার সাথে চলে তা পিতা মাতাদের খেলায় না করলে সন্তানদের ক্ষতি ডেকে নিয়ে আসবে। এ জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি সভা সেমিনারে অভিভাবকদের বুঝানো হয়। আর তা অভিভাবকরা পালন করলে অস্বাভাবিক হারে অপমৃত্যুর সংখ্যা হ্রাস পাবে।

