বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, জার্মানীর সঙ্গে বাংলাদেশে সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ট। জার্মানী বাংলাদেশের বড় রপ্তানি বাজার। ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন বাংলাদেশকে এ্যাভ্রিথিং বাট আর্মস (ইবিএ)-এর আওতায় জিএসপি সুবিধা প্রদান করছে। বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৫৫ ভাগ আসে ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন থেকে। একক দেশ হিসেবে জার্মানী বাংলাদেশে দ্বিতীয় বড় রপ্তানি বাজার। অপ্রত্যাশিত রানাপ্লাজা দুর্ঘটনার পর সরকার এবং কারখানার মালিকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং গৃহীত পদক্ষেপের কারনে আর কোন এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও কর্মবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে শ্রম আইন সংশোধন করে সময়োপযোগি করা হয়েছে। ইপিজেড এ শ্রমিক ইউনিয়নের আদলে ওয়ার্কার্স ওয়েল ফেয়ার এ্যাসোসিয়েশন গঠনের অধিকার দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকরা সেখানে মালিক পক্ষের সঙ্গে বার্গেনিং করতে পারছে, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখছে। শ্রম আইন মেনেই এ এ্যাসোসিয়েশন গঠনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এতে শ্রমিক ও বিনিয়োগকারীরা সন্তুষ্ট। শ্রমিকরা কারখানায় নিরাপদে কাজ করছে। ইপিজেড এ শ্রমিক ইউনিয়ন গঠনের বিষয়ে সরকার বাস্তব সম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
মন্ত্রী আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে বাংলাদেশে সফররত জার্মানীর ঋৎরববফৎরপয-ঊনবৎঃ-ঝঃরভঃঁহম(ঋঊঝ) এর ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাইকেল সোমার(গরপযধবষ ঝড়সসবৎ)এর নেতৃত্বে ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় করে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে সব কথা বলেন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ সরকার শ্রমিকদের বিষয়ে খুবই আন্তরিক। অপ্রত্যাশিত রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর দেশের তৈরী পোশাক কারখানাগুলোকে নিরাপদ করতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ক্রেতা গোস্টির অনুরোধে এ্যাকোর্ড, এ্যালায়েন্স এবং ন্যাশনাল ইনিসিয়েটিভ দেশের তিন হাজার আটশত তৈরী পোশাক কারখানার মধ্যে তিন হাজার সাতশত আশিটি কারখানা পরিদর্শন শেষ করেছে। এর মধ্যে ৩৯টি কারখানা বন্ধু করে দেওয়া হয়েছে এবং ৪৭টি কারখানা আংশি ক্রুটি থাকায় সেগুলো সংস্কার করা হয়েছে। অযোগ্য কারখানার সংখ্যা দুই শতাংশের নীচে। আন্তর্জাতিক ভাবে দুই শতাংশের উপরে গ্রহন যোগ্য। বাংলাদেশে এখন গ্রীন ফ্যাক্টরি গড়ে উঠছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টহরঃবফ ঝঃধঃবং এৎববহ ইঁরষফরহম ঈড়ঁহপরষ পৃথিবীর যে ১০ তৈরী পোশাক কারখানাকে ঊহবৎমু ধহফ ঊহারৎড়হসবহঃধষ উবংরমহ (খঊঊউ) পবৎঃরভরপধঃরড়হ দিয়েছে তারমধ্যে ৭টিই বাংলাদেশের। গ্রীন ফ্যাক্টরি নির্মাণে বিপুল বিনিয়োগ হলেও ক্রেতারা পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করছে না, বরং মূল্য কমছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের আটটি ইপিজেড-এ প্রায় ৪ লাখ শ্রমিক কাজ করছে। বাইরের শ্রমিকদের চেয়েও তারা বেশি বেতন ও সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে। এখানকার শ্রমিকরা চান নিজেদের মধ্যে শ্রমিক সংগঠন তৈরী করতে। বাইরের কাউকে তারা নিজেদের নেতা নির্বাচন করতে চান না।
ডেলিগেশন প্রধান মাইকেল সোমার বলেন, জার্মানী বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগি এবং ভলো বন্ধু। জার্মানী বাংলাদেশের সাথে আরো বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে আগ্রহী। বাংলাদেশ শ্রমিকদের জন্য অনেক কিছু করেছে, তা প্রশংসা পাবার যোগ্য। বিগত যে কোন সময়ের চেয়ে এখন বাংলাদেশে শ্রমিকরা নিরাপদ। জার্মানী চায় আইএলও নির্ধারিত শ্রম আইন চালু থাকুক।
এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানীর রাষ্ট্রদূত ড. থমাস প্রিন্জ(উৎ. ঞযড়সধং চৎরহু), এফইএস এর এশিয়া এন্ড দি প্যাসিফিকের প্রধান জুর্জেন স্টেটিটেন(ঔঁৎমবহ ঝঃবঃঃবহ), বাংলাদেশের রেসিডেন্ট রিপ্রেজেনটেটিভ ফ্রানজিসকা কর্ন (ঋৎধহুরংশধ কড়ৎহ), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুন্সী শফিউল হক, অতিরিক্ত সচিব(এফটিএ) মো. শফিকুল ইসলাম এবং ডব্লিউটিও এর মহাপরিচালক মুনির চৌধুরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
