জঙ্গি প্রতিরোধে মিডিয়ার ভূমিকা মোঃ জসিম উদ্দিন চৌধুরী হায়দার সভাপতি বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স সোসাইটি ঢাকা মহানগর উত্তর

0
1175

গণমাধ্যম বা মিডিয়া হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের দর্পন, মিডিয়ার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের চাল চিত্র সহ বিনোদন জগতের সব উপকরণের সঙ্গে দেশ ও জাতি পরিচিত হয়। পৃথিবীর কোথায়, কখন কি ঘটছে সে খবরা-খবর নিমিষেই দেশ ও জাতির কাছে পৌঁছে দেয় গণমাধ্যম। আধুনিক মিডিয়ার কল্যানেই আজ দেশে দেশে সময়ের বাঁকে বাঁেক পাল্টে গেছে যুগ, প্রসারিত করেছে মানুষের চিন্তা জগতের ভাবনা, এগিয়েছে সভ্যতা, মানুষকে নির্মল বিনোদন দেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনে সংঘঠিত সব ঘটনার যৌক্তিক ও অর্থবহ রূপ দেওয়ার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে মিডিয়া। জাতির জানা শোনার পরিধিকে যেমন করেছে বিস্তৃত তেমন পরিশীলিত ও সংবেদনশীল চিন্তার খোরাক ও বর্তমান যুগের মিডিয়া। তাই বলা যায়, দেশ ও জাতির জীবনে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে আছে মিডিয়া জগৎ। আবার মিডিয়ার স্বত্বাধিকারী বা মালিকসহ কলাকুশলীরা এ মিডিয়াগুলো সুচারু রূপে পরিচালনা করছেন বলেই দেশ ও জাতি আজ সুষ্ঠু ও নির্মল বিনোদন পেয়ে থাকে। এমনকি সার্বিক মানবধিকার রক্ষার ঘনিষ্ট ও শক্তিশালী সহচর হচ্ছে মিডিয়া। ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯ এর গণ অভ্যূত্থান, ৭০ এর নির্বাচন, ৭১ এর স্বাধীনতা সংগ্রাম সহ অদ্যবধি পর্যন্ত এই মিডিয়া বাংলার ৬৪ জেলার ৬৮ হাজার গ্রাম বাংলার, টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া পর্যন্ত রোদ, বৃষ্টি, ঝড়, টিয়ার শেল, ইট-পাটকেলকে উপেক্ষা করে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে লড়াই করে জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক, ভূমিদস্যূ ও অন্যান্য অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে লিখে দেশ ও জাতিকে বস্তু-নিষ্ঠ সংবাদ উপহার দিয়ে থাকে। মিডিয়া যখনই এই ধরনের অপরাধমূলক তথ্য সংগ্রহ করে লিখে থাকে, তখনই মিডিয়ার সদস্যদের উপর নেমে আসে কালো ছায়া। মিডিয়ার সদস্যদেরকে হত্যা, গুম, অমানবিক নির্যাতনসহ অনেক কিছু আজ সেই মিডিয়ার সদস্যরাই মানবেতর জীবন যাপন করছে। নেই তাদের আবাসন, নেই তাদের সু-চিকিৎসা, নেই তাদের পেনশন ভাতা, নেই তাদের পরিমানমত বেতন-ভাতা, নেই তাদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। তারপরও মিডিয়া থেমে নেই, দেশ ও জাতিকে প্রতিনিয়ত উপহার দিয়ে যাচ্ছে বস্তু নিষ্ঠ সংবাদ। মিডিয়ার সদস্যরা আমি মনে করি একই পরিবারের সদস্য, একই পরিবারের সন্তান তাই সবাইকে ব্যক্তি স্বার্থের কথা চিন্তা না করে প্রতিহিংসামূলক কাজ থেকে বিরত থেকে, বাস্তব ও সত্য প্রতিযোগীতামূলক বস্তু নিষ্ঠ সংবাদ লিখে দেশ ও জাতিকে উপহার দিলে মিডিয়ার ভাব-মুর্তি আরো উজ্জ্বল হবে। আজ জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস নিয়ে শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু কেন? এটাও ব্যক্তি স্বার্থ ও প্রতিহিংসা। তাই আমি মনে করি, জঙ্গী ও সন্ত্রাসীরা কারো বন্ধু হতে পারে না, করো সঙ্গীও হতে পারে না, তারা দেশ ও জাতিরশত্রু। যারা জঙ্গী ও সন্ত্রাসকে আশ্রয়-প্রশয় ও সহযোগীতা করে থাকে, তারা ওসমান অপরাধী। আমাদের দেশের সরকার, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনকের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার জঙ্গী ও সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সর্বক্ষনেই জঙ্গী ও সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে বলে থাকেন এবং এই দেশে জঙ্গী ও সন্ত্রাসীদের মূলে শেষ করার ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জঙ্গী দমনে এই সরকার সফল হচ্ছে, তাই আমরা মিডিয়া এই সরকারকে ধন্যবাদ জানাই এবং আমরা মিডিয়ার সদস্যরা ও যত ঝড়-ঝাপ্টা, যত হুমকি-ধমকি আসুক না জীবনের বিনিময়ে হলেও জঙ্গী ও সন্ত্রাসের ব্যাপারে লিখে যাবো ইনশাল্লাহ ॥

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here