অপরাধ বিচিত্রাঃ
নামেই শুধু রাজনীতিমুক্ত জনকল্যাণমুখী সামাজিক সংগঠন। আসলে কি সত্যি তাই? অনুসন্ধানে জানা যায় ভয়াবহসহ চমকপ্রদ কাহিনী। বাংলাদেশে তাই ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমান ও ধর্মভীরু কিন্তু র্ধমান্ধ নয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে এবং মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীন হয়েছিল আমাদের এ প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর এ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধীরা শুরু ধর্মকে পুঁজি করে স্বাধীনতার মূল্যবোধকে ভুলুণ্ঠিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসেছ। আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ সত্ত্বেও ইসলামিক মিডিয়া সোসাইটি নামে এ অবৈধ সংগঠনের আড়ালে কি হচ্ছে এসব যেন দেখার কেউ নেই। নামেই শুধু কল্যাণমুখী সামাজিক সংগঠন। অনুসন্ধানে জানা যায়, তাদের কোন নিবন্ধনই নেই। বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য ফোনে কথা হয়। সংগঠনের সম্পাদক মন্ডলীর সভাপিত হাফেজ মাওলানা মুফতি হেমায়েত উদ্দিনের সাথে। নিবন্ধান না হওয়ার ব্যাপারটি তিনি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের সংগঠন চালানোর জন্য নিবন্ধনের কোন প্রয়োজন নেই। ইসলামীক মিডিয়া সোসাইটি বাংলাদেশের প্রায় সকল জেলায় সংগঠনের নামে কল্যাণ তহবিল বাবদ সংগ্রহ করছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে সংগঠনের নামে কমিটি তৈরি করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। এ কমিটির কাজ কি? তারা কি কর্মসূচী পালন করছে তা খতিয়ে দেখার জন্য সময় এসেছে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। ইসলামের লেবাসে তারা নানা রকম অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ আছে। তাদের অপকর্মের ফলে এ সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ৫/৬ মাস জেল খেটে জামিনে আসে। মাঝে কিছু দিন তাদের কর্মকান্ড শিথিল হয়ে পড়লেও বর্তমানে আবারও তারা সংগঠনের নামে বিপুল পরিমান অর্থ সংগ্রহ করা শুরু করেছে। আর এসব অর্থ ব্যবহৃত হচ্ছে সরকার বিরোধী নানা প্রকার প্রচারনায় ও কর্মকান্ডে। বিভিন্ন সময়ে তারা অফিস পরিবর্তন করে নিজেদের নিরাপদ রাখায় অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদনহীন এ সংগঠনের কিছু সদস্য জঙ্গি তৎপরতায় চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে। আর এর মূল হোতা হিসেবে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন এবং সংগঠনের অর্থ যোগানদাতা হিসেবে বড় ভূমিকা পালন করছেন নামধারী মাওলানা সাইফুদ্দিন মোঃ ফারুকী। জানা যায়, ২০১২ ইং শুরুর দিকে এ সংগঠনের মাধ্যমে শুরু হয় প্রতারনার এক মহা কর্মযজ্ঞ। তারা একে একে গড়ে তোলেন কিছু অনুমোদ বিহীন প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, কোয়ালিটি মিডিয়া লিমিটেড, মিডিয়া সম্পর্কে কিছু না জেনেই তিনি হয়ে পড়েছেন। মিডিয়ার সবজান্তা সমশের। জানা যায়, বাসাবো এলাকাতে রয়েছে তার একটি মাদ্রাসা। এ মাদ্রাসাকে পুঁজি করে বিভিন্ন শিল্পপতিদের নিকট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাহায্য গ্রহণ করে চলেছে এ চক্রটি। আর এ অর্থের বেশিরভাগই ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যক্তিগত উন্নয়নের কাজে। মাদ্রাসা বা ছাত্রদের কল্যাণে নামে মাত্র কিছু অর্থ ব্যয় করে বেশিরভাগ অর্থই ব্যয় হচ্ছে সরকার বিরোধী কর্মকান্ড ও জঙ্গী অর্থায়নে। নামধারী ইসলামী লেবাসের এই মাওলানা সাইফুদ্দিন মোঃ ফারুকী গড়ে তুলেছেন এক জঙ্গী তৈরীর আস্তানা। তার অফিসে অবাধে চলছে আরও অনেক অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকান্ড। সুন্দরী মেয়েদের চাকুরী দেওয়ার নাম করে তাদেরকে কুপ্রস্তাব ও তার লালসার শিকার হতে বাধ্য করেন। ভুক্তভোগী মেয়েদের অনেকেরই অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীরা কোন প্রতিকার পাচ্ছে না। মুখ খুললে মহাবিপদের ভয় দেখিয়ে কণ্ঠরোধ করে এই চক্রটি। কিছু হলুদ সাংবাদিক ও সন্ত্রাসীদের ক্যকহার করে এই অপতৎপরতা বেশ জোরে শোরেই চালিয়ে যাচ্ছে। জানা যায়, ইসলামিক মিডিয়া সোসাইটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক মাওলানা সাইফুদ্দিন মোঃ ফারুকী প্রচার করছেন তিনি নাকি একটি টেলিভিশন চ্যানেল অনুমোদন পেয়েছেন। সেটা নাকি কিছুদিন সম্প্রচারও ছিল। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোন প্রকার সরকারী অনুমোদন ছিল না টিভি চ্যানেলটির। এর মাধ্যমে তিনি সরকারের বিপুল পরিমাণ ট্যাক্স, ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ডাউন লিংকের মাধ্যমে এই কাজটি করেছেন মিডিয়ার কিছু না জানা এই সবজান্তা সমশের। স্বাধীনতার স্বপক্ষের এই সরকারের শাসনামলে তাদেরমত প্রতারক লেবাসধারী মাওলানারা কি করে এই অসম্ভবকে সম্ভব করে চলেছে প্রশাসনের নাকের ডগায়। অনেকের মনে এ জিজ্ঞাসা। (চলবে)

