কে এই আতাউর রহমান লস্কর দীপু ফরেষ্টার?

0
1903

অপরাধ বিচিত্রাঃ
আমাদের অপরাধ বিচিত্রার অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ক্ষমতার দাপটের কাছে আমরা মানুষরা বরাবরই অসহায় যুগ-যুগ ধরে তাই ই প্রমান হয়েছে। আবার এটাও প্রমান হয়েছে ক্ষমতা দীর্ঘদিন থাকে না, অহংকার, ক্ষমতা আল্লাহর পক্ষ থেকে নিঃশ্বেষ করে দেয়া হয়। আতাউর রহমান লস্কর দীপু ফরেষ্টার ক্ষমতার অপব্যাবহারে এবং দুর্নীতিবাজ প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুছ আলীর দুর্নীতির সেনাপতি মাঝে অত্যন্ত আস্থাভাজন হওয়ায় ফৌজদার হাট চেক ষ্টেশনে অবৈধ ভাবে টাকা উপার্জনের জাল পেদেছেন এই দীপু। প্রায় ২ বছর ৮ মাস ধরে ফৌজদার হাট চেক ষ্টেশনে দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই অবৈধ ভাবে কাঠ পাচার, জ্বালানী কাঠ পাচার, বাঁশ পাচার থেকে শুরু করে ফৌজদার হাট চেক ষ্টেশনে ঘুষের বাজার খুলে বসে আছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, সমগ্র চট্টগ্রাম অঞ্চলের পোষ্টিং বাণিজ্যে মূল হোতা এই দীপু। এমন কি ফরেষ্ট রেঞ্জার, সহকারী বন সংরক্ষক, বিভাগীয় বন কর্মকর্তারাও তার বদলী নিয়ে কথা বলতে নারাজ। এমন অবস্থায় প্রিয় পাঠকবৃন্দ প্রশ্ন উঠতে পারে একজন নন ট্রেইন ফরেষ্টারের খুটির জোড় কোথায়? দীপু ফরেষ্টার চাকুরী জীবনের শুরু থেকেই সে অত্যন্ত স্বনামধন্য একজন নেত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে এবং ঐ নেত্রীর ভাগ্নি জামাই পরিচয় দিয়ে হুমকি ধামকি দিয়ে অদ্যবদি চাকুরী করে আসছেন। তাহার অপছন্দের লোকদের বিভিন্ন ভাবে সিনিয়র অফিসারদের দিয়ে হয়রানী করে আসছেন। বন বিভাগের বিভিন্ন লোকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তার চাকুরী যখন নেয়া হয়েছে তখন এডহক নিয়োগবন্দ, এবং ফরেষ্টার নিয়োগে শিক্ষাগত যোগ্যতা ডিপ্লোমা ইন ফরেষ্টি থাকতে হবে। তাহার কোনটাই ছিল না দীপু ফরেষ্টারের। তা হলে কি তার নিয়োগ অবৈধ? বিষয়টি দুদক কর্তৃক তদন্ত করলে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বের হয়ে আসবে। প্রিয় পাঠক আমাদের হাতে অসংখ্য আপত্তিকর আবেদন আছে দীপুর বিরুদ্ধে। তদন্ত স্বাপেক্ষে আপনাদের কাছে তুলে ধরবো। চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী ফৌজদারহাট চেক স্টেশনের স্টেশন কর্তার পদটি ডেপুটি রেঞ্জার পদ মর্যদার কর্মকর্তা থাকার কথা। ডেপুটি  রেঞ্জার না থাকিলে সিনিয়র ফরেষ্টার অথবা রেঞ্জার পদ মর্যাদার কর্মকর্তা স্টেশন কর্মকর্তার পদে থাকার বিধান রয়েছে। অথচ বন বিভাগের সব চাইতে জুনিয়র নন ট্রেইন একজন ফরেস্টার ২ বৎসর ৮ মাস যাবৎ স্টেশন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব পালন করে আসছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, হাটহাজারী ও বদ্ধার হাট হইতে প্রতিরাতে ৩-৫টি চিটড়াইকাঠ বুঝাই কাভার ভ্যান চট্টগ্রাম শহর অতিক্রম করিয়া মিরশরাই বারইয়ারহাট ফেনী, নোয়াখালী ও ঢাকার উদ্দেশ্যে পাচার  হয়। আর এই পাচারে মূলবাধা হয় ফৌজদারহাট চেক ষ্টেশন তাই এই ষ্টেশনের ষ্টেশন কর্মকর্তা আতাউর রহমান লস্কর দিপুকে ম্যানেজ করতে কাঠ চোরেরা প্রতি গাড়ী কাঠ পাচারের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে দিয়ে থাকে। বদ্ধার হাটের কাঠ ব্যবসায়ী ও হাটহাজারী, নাজিরহাটের কাঠ ব্যবসায়ীর নিকট হইতে আরো জানা যায়, আতাউর রহমান (দিপু) ফরেস্টার এখন আরো বেশি টাকা দাবি করে যাচ্ছেন। এছাড়া ট্রিপমূলে পরিবাহিত কাঠের গাড়ি, বাঁশের গাড়ি হতে  প্রতি টিপে  ৫০০ টাকা হইতে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত উৎকোচ আদায় করে থাকেন এই ফরেস্টার। তিনি সি.এফ আব্দুল লতিফ মিয়া ও সি.সি.এফ মোঃ ইনুছ আালীর সব চাইতে কাছের লোক হওয়া কোন কাঠ ব্যবসায়ী আতাউর রহমান লস্কর (দিপু) ফরেস্টারের এই সকল অনৈতিক কাজে বাঁধা দিতে সাহস পান না। এমনকি ডিএফও কে বললেও নাকি ডিএফ.ও ব্যবসায়ীদের উল্টো ধমক দেন। কারন ডি.এম.ও সাহেব নিজের চেয়ার নিয়েই আতংকে থাকেন এই ফরেস্টারের ভয়ে। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, মোঃ আতিকুর রহমান ফরেস্টার ফৌজদারহাট স্টেশন কর্মকর্তা হওয়ার জন্য সি.এফ আব্দুল লতিফ মিয়ার কাছে তদবির করিলে ফরেস্টার আতিককে ডেকে লতিফ মিয়া খুব বকাবকি করেন এবং পরেরদিন সিসিএফ ইউনুছ আলী ফরেস্টার আতিককে বগুড়া সার্কেলে বদলী করে দেন। এছাড়া ফরেস্টার নাজমুল হাসান ফৌজদার হাট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা হতে চাইলে তাহাকেও বকাবকি করে হাটহাজারী রেঞ্জে স্বর্ত্তা বিটে বদলী ও নিয়োগ করা হয়। ফরেস্টার দিপু এতই ক্ষমতাধর যে কেহ যদি ফৌজদারহাট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা হওয়ার জন্য তদবীর করে তাহলে তার কপালে দু:খ সহ নানা হয়রানী শুরু হয়ে যায়। এর মূল কারন হল ফৌজদার হাট স্টেশনের অবৈধ আয়ের সিংহভাগ টাকাই সিএফ আব্দুল লতিফ মিয়া ও সিসিএফ ইউনুছ আলীর পকেটে যায়। এভাবে যদি অনিয়ম চলতে থাকে তাহলে বনবিভাগ ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই বন বিভাগকে রক্ষা করার জন্য মাননীয় বনমন্ত্রী সহ সচিব মহোদয়ের হস্তক্ষেপ একান্ত প্রয়োজন। (চলবে)

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here