স্টাফ রিপোর্টার ঃ
যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আনিছুর রহমানের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। একের পর এক অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এ কর্মকর্তা। তার অপকর্মে নিয়ে সাধারন মানুষের মধ্যে নানাবিধ প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে। মাদক স্পট, ছিনতাইকারী, সন্ত্রাসী বাহিনী, অসামাজিক কার্যকলাপ চালানো বাসা বাড়ি থেকে মাসিক, সাপ্তাহিকভাবে চাঁদা উত্তোলন করে সাধারন মানুষকে হয়রানী করা তার নিত্যনৈমত্তিক ব্যপার হয়ে দাড়িয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কোন মানুষ সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের কাছ থেকে হয়রানীর স্বীকার হয়ে থানার পুলিশের সহযৌগিতা নিতে গেলে টাকা ছাড়া কথা বলে না যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আনিছুর রহমান। আরেকদিকে সন্ত্রাসীদের হামলার স্বীকারও হতে হয় ভুক্তভোগিদের। অনেকে থানা টাকা দিয়ে মামলা করতে গেলেও ওসি তার মনগড়া ভাবে এজাহার লিখে মামলা নেন। অথচ প্রকৃত ঘটনার ধারা আড়ালে রেখে দেন ওসি আনিছুর রহমান। তার শেল্টারে ওই এলাকায় কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপ সংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে। মাদক ও পতিতাবৃত্তি তো চলছে হরদমে। তবে এই অপরাধীদের থানায় ধরে এনে আইওয়াশ করে টাকা আদায় করে আবার ছেড়ে দেন। যারা তার চাহিদা মত টাকা দিতে না পারে তাদেরকে সল্প পরিমান টাকা রেখে ডিএমপি ধারায় কোর্টে চালান করে দেন। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে ক্ষমতা অপব্যবহার করে সন্ত্রাসীদের সাথে আতাঁতের ম্যাধমে টাকা রোজগারের অভিযোগ এনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগি।
তার ওই অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আনিছুর রহমানের শেল্টারে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা ফেইসবুক লাইভে হত্যার হুমকি দেন ওই এলাকার সাইদুর রহমানকে। তিনি এ ব্যাপারে থানায় মামলা করতে গেলে থানা পুলিশ মামলা নেন। অভিযোগ রয়েছে, ১. মোঃ আল আমিন শিকদার পিতা- মৃত নুরুল ইসলাম শিকদার, ২. সাহিদ আফ্রিদী ওরফে পুলক পিতা- আবুল কালাম, ৩. বাপ্পী পিতা- আমানউল্লাহ, ৪. আশিক পিতা- আবুল কালাম সর্ব সাং কাজলা (দক্ষিণ কাজলা নয়া নগর), উপজেলা/থানা যাত্রাবাড়ী, ঢাকা সহ আরো অজ্ঞাত ৮/১০ জন সন্ত্রাসী ১২/১১/২০১৬ ইং তারিখ রাত অনুমান ১০ঃ৩০ ঘটিকার সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে লাঠি, সোটা, লোহার রড, ছুরি চাপাতি সহ ভুক্তভোগি সাইদুর রহমানের বাসায় অনাধিকারভাবে প্রবেশ করে তার স্ত্রী ও তার মা এবং তাকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে জখম করে। ওই ঘটনার ব্যাপারে তার স্ত্রী থানা মামলা করতে গেলে ওসি মামলা না নিয়ে সন্ত্রাসীদের পক্ষ অবলম্ভন করে একটি জিডি এন্ডি করে রাখেন। এরপর সাইদুর রহমান নিজে মামলা করতে যাত্রাবাড়ী থানায় গেলে ওসি তার বর্ণনাকৃত লিপিবদ্ধ মামলা কপি বাদ দিয়ে ওসি নিজের মনগড়া একটি এজাহার লিপিবদ্ধ করে মামলা নেন। যার মধ্যে প্রকৃত ঘটনার কোন ধারা নাই। যার যাত্রাবাড়ী থানার মামলা নং ৩৬, ধারা- ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩৭৯/৫০৬ পেনাল কোড রুজু করে। এরপরের দিন আসামীরা জামিনে এসে সাইদুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করার হুমকি দিলেও থানার পুলিশকে একাধিকবার জানালেও ওসি কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এমনকি ফেইসবুক লাইফে সন্ত্রাসীরা আমাকে এর আগে হামলা করার কথা স্বীকার করে পুনরায় হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়। এই ঘটনা নিয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করতে গেলে ওসি মামলা নেন নি। উক্ত সন্ত্রাসী কর্তৃক হত্যার হুমকির ফেইসবুক লাইফ বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে আছে। এ ব্যাপারে সাইদুর যাত্রাবাড়ী থানার ওসির কাছে তথ্য প্রযুক্তি আইনে একটি মামলা করে সন্ত্রাসীদেরকে আইনের আওতায় আনতে বললে ওসি কোন ধরণের পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো সাইদুরকে জেলে দিবেন বলে হুমকি দেয়। বর্তমানে সন্ত্রাসীদের হুমকিতে সাইদুর পালিয়ে বেরাচ্ছে। যে কোন সময় উক্ত সন্ত্রাসীরা সাইদুর রহমানের পরিবারসহ তাকে হত্যা করতে পারে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে। সাইদুর রহমান তার নিরাপত্তা চেয়ে মহা পুলিশ পরিদর্শক, পুলিশ কমিশনার, মহা পরিচালক র্যাব, উপ-পুলিশ কমিশনার ওয়ারী জোন, চেয়ারম্যান জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, এর কাছে আবেদন করেন। আমাদের ব্যাপক অনুসন্ধান চলছে বিস্তারিত পরবর্তী সংখ্যায়।


