এসডি.বাবু ঃ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (কাস্টমস নীতি) গ্রেড-১ সদস্যের স্বাক্ষরিত বাণিজ্যিক পণ্য চালান ঘোষণায় দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির কর্মকান্ড- সংক্রান্ত বিষয় উল্লেখ করে গত ২ অক্টোবর ১৬ইং তারিখে একটি চিঠি ইস্যু করা হয় কাস্টমস কমিশনার, শুল্ক গোয়েন্দা মহাপরিচালক ও তদন্ত অধিদপ্তর বরাবরে, যার নথি নং-০৮.০১.০০০০.৫৩.১২.০২৫.১৫/৪৬২ তাং-০২/১০/১৬ইং। এই চিঠিতে কতিপয় বাণিজ্যিক পণ্য বিশেষতঃ খেলনা, জুতা, তালা, কসমেটিকস, বিডস, টর্চলাইট, অটো রিকসা ইত্যাদি পণ্যের ক্ষেত্রে কিভাবে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয় সে বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রাপ্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের চালান অবশ্যই শুল্ক স্টেশনের নূন্যতম যুগ্ম কমিশনার ও শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের নূন্যতম সহকারী কমিশনার পর্যায়ের কর্মকর্তার উপস্থিতিতে কায়িক পরীক্ষা করে অতঃপর কমিশনার পর্যায়ে শুল্কায়ন আদেশ প্রদান করতে হবে। তাছাড়া এসোর্টেড গুডস (একের অধিক পণ্য) চালানের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতিমাসের/মেয়াদের রাজস্ব পর্যালোচনা সভায় কমিশনারকে এসব পণ্য চালান সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করার জন্য বলা হয়েছে।
কাস্টমসের তথ্যানুসারে, ৪৮৭ জন এসিসটেন্ট রেভিনিউ অফিসারের মধ্যে ১৫৬ জন এবং ৬৩ জন এসিসটেন্ট/ডেপুটি কশিনারের মধ্যে ১৮ জন বর্তমানে এ দপ্তরে কর্মরত রয়েছে, যা জেটিতে কায়িক পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত নয়।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, গুটি কয়েকজন অসাধু ব্যবসায়ী, আমদানীকারকের জন্য সবাইকে যেমন দোষারোপ করা ঠিক নয় তেমনি পুরো চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস হাউজকে কালো তালিকাভুক্ত করাও সমীচিন নয়। যেসমস্ত আমদানীকারক, ব্যবসায়ী এই কাজে জড়িত, তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমসে আমদানীকারক, ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহিত করতে এমন অভিযোগ করা হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখাও দরকার। যেহেতু বাংলাদেশের বেশিরভাগ রাজস্ব আহরিত হয় চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমস দিয়ে, তাই কেউ বন্দর নিয়ে অপরাজনীতি করলে তা জরুরিভাবে বন্ধ করতে হবে। নইলে এর খেসারত দিতে পুরো জাতিকে। চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমস চট্টগ্রামে হলেও এসব প্রতিষ্ঠান সারাদেশের সম্পদ।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবরে নামোল্লেখ না করে সাধারণ ব্যবসায়ীদের পক্ষে দেয়া অভিযোগে বলা হয়, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে রাজস্ব ফাঁকি চরম পর্যায়ে। বেশ কিছুদিন আইসিডি, পানগাঁও, মংলা বন্দরে রাজস্ব আদায়ের জন্য কমিশনাররা তৎপর হওয়ার কারণে বড় বড় দুর্নীতিবাজ-আমদানীকারকদের বেশ কিছু রাজস্ব ফাঁকি ধরে ফেলে এবং বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করে। পূর্বে ১০০টি কন্টেইনারে যে রাজস্ব আদায় হতো সেখানে এখন ১০-১৫টি কন্টেইনারে সে রাজস্ব আদায় হচ্ছে এবং এই দুর্নীতিবাজরা এসব বন্দরে ব্যবসা করতে পারছে না। এই মুহুর্তে তারা বেছে নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজকে।
আইসিডি, পানগাঁও, মংলা বন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের প্রতিযোগী কোন প্রতিষ্ঠান নয় বরং সহযোগী। তাই ব্যবসায়ী, আমদানীকারকদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার অপপ্রয়াস চালিয়ে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করা এবং চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা একই কথা। চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমসকে অকার্যকর ও আমদানিকারক, ব্যবসায়ীদের জন্য হয়রানিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করার যে চেষ্টা চলছে তা বন্ধ করা প্রয়োজন। অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আমদানীকারক এবং সিএন্ডএফ চট্টগ্রামে এসোর্টেড কন্টেইনারের মুখের সামনে ইনভয়েস,প্যাকিং লিস্টে সেযব পণ্য থাকে প্রতিটি আইটেমে একটি করে কার্টুন কন্টেইনারের মুখের সামনে রেখে দেয়। এটা একটা পুরো ছক। বিসিএস ক্যাডার, এসি (এক্সামিন) গণনায় কিছু মালামাল দেখেন কিন্তু নন টেকার কোন মালামালই দেখেন না শুধু দেখেন টাকার পরিমাণ। এসকল পণ্য চালান চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর ৪-৫ দিন পূর্বে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বন্দরের এ.আই.আর (অডিট ইনভেষ্টিগেশন এন্ড রিসার্চ) ও শুল্ক গোয়েন্দা সংস্থার সাথে যোগাযোগ করে দীর্ঘদিন যাবৎ এসব কর্মকান্ড- চালাচ্ছে। কারণ চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমসে একটা যোগাযোগেই কাজ চলে। কন্টেইনার পোর্টে ল্যান্ড করার আগেই এ.আই.আর ও গোয়েন্দা সংস্থাকে কন্টেইনার নম্বর দিতে হয়। তাহলে তারা কোন রেড ব্লক ফেলে না এবং ঐসব ডকুমেন্টে এমন একটি এইচ.এস কোড থাকে যা পেপার এন্ট্রি করার সময় পরিদর্শনে পরে না। যদিও পরে এই দুই সংস্থা যেহেতু আগে থেকেই কন্টেইনার নাম্বার জানে এবং তাদের সাথে যোগাযোগ হয়ে থাকে সে কারণে কোন সমস্যা হয় না। বর্তমানে গুটিকয়েক আমদানিকারক, ব্যবসায়ী এবং দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারাই অবৈধ পন্থায়, অসৎভাবে পণ্য আমদানী করার জন্য উৎসাহ দিয়ে থাকেন। কারণ এই পথে উভয়েরই লাভ বেশি।
একজন কাস্টমস কর্মকর্তা অভিযোগের সুরে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে কাজ করে লাভ কি, লাভের লভ্যাংশ বেশির ভাগই এন.বি.আর, অর্থ-বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, উপরের কর্তা-ব্যক্তিদের পকেটে দিতে হয়, আবার অনেক ক্ষেত্রে আমাদের ঘুষের টার্গেট দেওয়াও হয়। সিএন্ডএফ প্রতিনিধিদের সাথে চট্টগ্রাম বন্দরে কাস্টমস কর্মকর্তাদের এ নিয়ে বাকবিতন্ডা হলেও তখন অনেক অফিসার বলেন, ঘুষ দিয়ে চাকরি নিয়েছি, ঘুষ দিয়ে পোষ্টিং,পদোন্নতি নিয়েছি। আবার ঘুষের ভাগ উপরের কর্মকর্তাকে দিতে হবে।
সরকারের প্রতি আমার বিনীত আবেদন, ঘুষ-দুর্নীতি, হয়রানি ছাড়া মেধার ভিত্তিতে স্বজনপ্রীতি ছাড়াই নিরপেক্ষভাবে একজন বেকার যুবক কি পেতে পারেন চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ, বন্দরের লোভনীয় চাকরি? সমগ্র বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্রকে এখন ঘুষ, দুর্নীতি, হয়রানি, স্বজনপ্রীতি এমনভাবে আকড়ে ধরেছে যে দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। সমস্যার মূলে, গোড়ায় গিয়ে এর কারণ খুঁজতে হবে। শুধুমাত্র সমস্যার মূলে না গিয়ে ডাল-পালা কাটলে হবে না। দুর্নীতির শিকড়ে পৌঁছুতেই পারলেই দুদক বাংলাদেশকে সমৃদ্ধশালি করতে পারবে।
এক/এগার এর সময় যৌথবাহিনীর আমলে চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমসে দুর্নীতিবাজরা গা ঢাকা দিয়েছিল, অনেকে চাকুরিচ্যুত হয়েছিল; তা নিশ্চই কেউ ভুলে যায়নি। তাই বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমসে তখনকার মতো যৌথবাহিনীর তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক তদারকির ব্যবস্থা করলে আমদানীকারক/ব্যবসায়ী এবং সিএন্ডএফ প্রতিনিধিদের কাজ করতে সুবিধা হবে। এই বিশেষ টিমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা, অর্থ-বাণিজ্য, স্বরাষ্ট্র-নৌ-তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, এনবিআর এর কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, সিএমপি, সিআইডি, ডিজিএফআই, এনএসআই, দুদক, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমইএ, চেম্বার এবং সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতে কাজ করা চাই। গুটিকয়েকজন শুল্ক গোয়েন্দা, এই.আর.আই, আনস্টাফিং, এআরও, এসি কর্মকর্তা ঘুষ, দুর্নীতি, হয়রানি করে চলেছে, তাদেরকে চাকরিচ্যুত, জেল-জরিমানাসহ দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি প্রয়োগের বিধান নিশ্চিত করতে হবে দুদক, র্যাব, সেনাবাহিনী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তার মাধ্যমে। তেমনি আমদানীকারক/ব্যবসায়ী যাদের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকিতে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলবে তাদেরকেও আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিলেই অন্যরা অবৈধ কাজ করার সাহস পাবে না।
তবে চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমসে ছোট-খাটো সাধারণ মানের আমদানীকারক/ব্যবসায়ীরা ঘুষ, দুর্নীতি, হয়রানির শিকার হয় বেশি এবং এর প্রতিকার পায় না-এ কথা সত্য। যাদের প্রতিদিন কাজ থাকে না তাদের বেলায়ও একই অবস্থা। অভিযোগ বলা হয়েছে, সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করলে দেখতে পাবেন এসোর্টেড কমার্শিয়াল প্রতিষ্ঠানগুলো যার ঠিকানা ঢাকা কেন্দ্রিক সেইসব ঠিকানায় চট্টগ্রাম বন্দরে প্রচুর এলসি খোলা হচ্ছে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্টরা আমদানিকারকদের সাথে যোগাযোগ করে উৎসাহ দিচ্ছে এখন চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস দিয়ে অনেক কিছু করা সম্ভব। এছাড়াও কিছু অসাধু সিএন্ডএফ এজেন্টরা নিজে দর কষাকষির মাধ্যমে পণ্য খালাস নিয়ে থাকে। চট্টগ্রামেও যে আমদানীকারক/ব্যবসায়ী রয়েছে তা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়নি এবং ঢালাওভাবে দোষারোপ করা হয়েছে। তবে দোষারোপের বিষয়টি আমলে নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সচিবরা বিষয়টি বিবেচনা করে দেখবেন। নইলে আমদানীকারক/ব্যবসায়ীরা নেতিবাচক ধারণা পোষণ, ঘুষ, দুর্নীতি, হয়রানির শিকার থেকে পরিত্রাণ না পেলে জাতীয় রাজস্ব আহরণে ঘাটতি দেখা দিবে। কমার্শিয়াল পণ্য আমদানিতে আগ্রহের ভাটা পড়বে। এর বিরুপ প্রভাব পড়বে জাতীয় অর্থনীতিতে। একবার চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস সম্পর্কে আমদানিকারক/ব্যবসায়ীরা নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করলে তার ফল ভুগতে হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস শুধুমাত্র চট্টগ্রামের সম্পদ নয়, সমগ্র বাংলাদেশের জনগণের সম্পদ যা বিশে^র দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে আমাদেরকে। মহেশখালীর গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি করতে পারলে বাংলাদেশ চীনের সাংহাই হতে বেশি দিন লাগবে না। কর্ণফুলী নদীর উপর স্থায়ী পিলার সেতু (৩য় সেতু) শাহ আমানত সেতুটি নির্মাণে শর্ত ছিল নিয়মিত ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা হবে কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল ড্রেজিং করতে গিয়েই নদীর দুইপাশ ভরাট করে ফেলা হয়েছে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের নদীর গভীরতা চরম ঝুঁকিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখন বড় ড্রাফটের ফিডার জাহাজ ভিড়তেই পারে না বন্দরে। চট্টগ্রামের রাজনীতিবিদ, নীতিনির্ধারকদের অদক্ষতা, পরিকল্পনায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস যেই তিমিরে ছিল বর্তমানে সেখানে রয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, রেডিমেড গার্মেন্টস এর কন্টেইনারে দুর্নীতি-এই কন্টেইনারে বেশী থাকে গবহং ঞ-ঝযরৎঃ ও গবহং চধহঃ. কিন্তু বাস্তবে বেশী দেখানো হয় ইধনু ঞ-ঝযরৎঃ ও ইধনু চধহঃ এবং প্রতি কন্টেইনারে ৪০-১০০ কার্টুন পর্যন্ত বেশী থাকে। এখানে অভিযোগকারী এটি কি আমদানী নাকি রপ্তানী পণ্যের বেলায় ঘটে থাকে তা উল্লেখ করেননি। এছাড়াও জুতা, স্যান্ডেল ও লেস ঘোষণা দিয়ে রেডিমেড গার্মেন্টস পণ্য চালান আমদানি করে থাকে। কারণ জুতা, স্যান্ডেল ও লেসের ডিউটি কম। খেলনার কন্টেইনারের দুর্নীতি-খেলনার কন্টেইনারগুলোতে খেলনার ঘোষণা দিয়ে তালা, ইমিটেশন ও কসমেটিক পণ্য চালান আমদানি করে থাকে। এছাড়াও ঋৎরপঃরড়হ দেখিয়ে ইধঃঃবৎু ঙঢ়বৎধঃবফ ও জবসড়ঃব ঈড়হঃৎড়ষ খেলনা পণ্য চালানে আমদানি করে থাকে।
জুতা, স্যান্ডেল এর কন্টেইনারের দুর্নীতি-ফুটওয়ার এ ৬৪০২৯৯০০ এবং ৬৪০২১৯০০ এইচ.এস.কোড দিয়ে বিভিন্ন প্রকার ফুটওয়ার আসলেও পরীক্ষা প্রতিবেদন শুধুমাত্র ইনফ্যান্ট ও বেবি দেখিয়ে পণ্য খালাস নেওয়া হয়। প্রকৃতপক্ষে ১টি কন্টেইনারের ফুটওয়ারে ১০ লক্ষের উপর শুল্ক হওয়ার কথা কিন্তু সামান্য শুল্ক দিয়ে পণ্য খালাস নিচ্ছে।
ইমিটেশন কন্টেইনারের দুর্নীতি- ঐধরৎ ঈষরঢ়, ঐধরৎ ইধহফ, ঐধরৎ চরহ ঘোষণা দিয়ে মালা, আংটি, বেসলেট, এয়ার রিং পণ্য চালানে আমদানি করে থাকে এবং প্রতি কন্টেইনারে ৩০-৭০ কার্টুন মালামাল বেশি থাকে।
তালা কন্টেইনারে দুর্নীতি-ঝঢ়ৎরহম খড়পশ,ডধংযবৎ খড়পশ, ঐধসসবৎ, ডড়ড়ফ ঈঁঃঃরহম ইষধফব, ঐধপশংধি ইষধফব চষরবৎং ঘোষণা চধফ খড়পশ, ঈুপষব খড়পশ, উড়ড়ৎ খড়পশ পণ্য চালানে আমদানি করে থাকে এবং এই সমস্ত পণ্য চালানে ওজন ও কার্টুন কম দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে থাকে।
কসমেটিক কন্টেইনারের দুর্নীতি-খরঢ় এষড়ংং, খরঢ় খরহবৎ, খরঢ় এবষ, ঊুব খরহবৎ, গধংপধৎধ, গধশব টঢ় করঃ, ঊুব ঝযধফড়,ি ঋড়ঁহফধঃরড়হ, ঋধপব চড়ফিবৎ, ঐধরৎ ঈৎবধস, ঐধরৎ এবষ, ঐধরৎ ঈড়ষড়ৎ, ইড়ফু খড়ঃরড়হ, ঊউঞ ঝযধসঢ়ড়ড়, ঈড়হফরঃরড়হবৎ, চড়ফিবৎ-এই সমস্ত কন্টেইনারে ঋধপব ডধংয, ঝযধারহম এবষ, জড়ষষ ঙহ, ইড়ফু ঝঢ়ৎধু, ঝযড়বিৎ এবষ, অরৎ ঋৎবংযবহবৎ, ঝষরসরহম ঞবধ, ঐবহধ গবযবফর চধংঃব, গঁংযৎড়ড়স এই পণ্যগুলো বেশী ঘোষণা করে খালাস নিয়ে প্রচুর পরিমাণে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে থাকে।
বিডস কন্টেইনারে দর্নীতি-প্লাস্টিক বিডস কন্টেইনারে ইঁঃঃড়হ ও ডড়ড়ফবহ ইবধফং দেখিয়ে এবং কার্টুন ও ওজন কম দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে থাকে।
টর্চ লাইট কন্টেইনারে দুর্নীতি-টর্চ লাইট কন্টেইনারে পিস ও এলইডি চুরি করে। উদাহরণ স্বরূপ ৬০ পিস এর কার্টুন বেশী দেখিয়ে ১২০ পিস এর কার্টুন কম দেখানো হয় এবং বেশীর ভাগ পণ্য একাধিক এলইডির থাকলেও তারা এক এলইডি ঘোষণা দিয়ে থাকে।
অটোরিকশা কন্টেইনারের দুর্নীতি-ইধঃঃবৎু ঙঢ়বৎধঃবফ ঞৎু-ঈুপষব চধৎঃং ঘোষণা দিয়ে ইধঃঃবৎু, গরৎৎড়ৎ, ঞরৎব ডরঃয ডযবষষ, ঋৎধসব পণ্য চালানে আমদানি করে থাকে। এছাড়াও অটো রিকশা কন্টেইনারে কেজি কম দেখানো হয়।
আর্টিফিশয়াল ফ্লাওয়ার কন্টেইনারের দুর্নীতি-অৎঃরভরপরধষ এৎধংং অহফ অৎঃরভরপরধষ ঞৎবব উল্লেখ করে অৎঃরভরপরধষ ঋষড়বিৎ শুল্কায়ন করে এবং এসেসমেন্ট ভ্যালু অন্যান্য পোর্টে ৩.০১/কেজি থাকা সত্বেও চট্টগ্রাম পোর্টে তা ১.০০-১.৫০/কেজি শুল্কায়ন করা হয়। কয়েকদিন আগে বন্দরের এনসিটি ইয়ার্ডে একটি বন্ডেড সুবিধায় আমদানিকৃত কেমিক্যাল-এ কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট কর্তৃক নিধারিত এইচ.এস.কোড বন্ড লাইসেন্সে উল্লেখিত মোতাবেক বিল অব এন্ট্রিতে ঘোষণা দেন। কিন্তু বাধ সাধেন আনস্টাফিং অফিসার এবং এসি। তাদের দাবি হল, বন্ড কশিনারেট কর্তৃক উল্লেখিত এইচ.এস কোড ঘোষণা থাকলেও তা দিয়ে পণ্য বন্দর থেকে ডেলিভারী নিতে পারবেন না। কাস্টমস হাউজে এসেসমেন্ট গ্রুপ কর্তৃক বিল অব এন্ট্রি এসেসমেন্ট করা হয় সেখানেও এইচ.এস কোড দেখেই। অতঃপর আনস্টাফিং এআরও এবং এসি’র চাহিদা মোতাবেক দিতে হয় ঘুষ। এক লক্ষ টাকা ঘুষ দেওয়ার পরও হয়রানি শিকার হতে হয় আমদানিকারক এবং সিএন্ডএফ প্রতিনিধিকে। চট্টগ্রাম বন্দরে এফসিএল কন্টেইনার সার্টিফাই করা ডকুমেন্টস বাস্তবে গিয়ে ঐ সংশ্লিষ্ট ইয়ার্ডে গিয়ে পাওয়া না গেলে অথবা অনেক খোঁজাখুজি করে অন্য ইয়ার্ডে কন্টেইনার পাওয়া গেলে ্তখন সংশোধনি ফরমালিটিজ করতে অতিরিক্ত ঘুষ প্রদান, হয়রানি, দুর্নীতির শিকার হতে হয় সিএন্ডএফ প্রতিনিধিকে। এসব ক্ষেত্রে ইয়ার্ডে সংশ্লিষ্ট টিআই, ইনচার্জ, কর্মকর্তা এবং বার্থ অপারেটররা কেউ সহযোগীতা করেন না সিএন্ডএফ প্রতিনিধিদের। ডকুমেন্টস সার্টিফাইকৃত কন্টেইনার যদি ঐ ইয়ার্ডে পাওয়া না যায় তখন টিআই/ইনচার্জকে অবহিত করে নথিভুক্ত করার জন্য বলা হয়ে থাকে। কিন্তু বাস্তবে কোন সিএন্ডএফ প্রতিনিধি কন্টেইনার না পাওয়ার বিষয়টি টিআই/ইনচার্জকে অবহিত করে নথিভুক্ত করার জন্য অনুরোধ করলে তা এড়িয়ে যান এবং চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিটা কন্টেইনার কিপডাউন করার জন্য অতিরিক্ত ঘুষ প্রদান করেও হয়রানির শিকার হতে হয়।
বন্দরের বাস্তব সমস্যাগুলো এড়িয়ে গেছেন অভিযোগকারী। চট্টগ্রাম বন্দর সংরক্ষিত এবং নিষিদ্ধ এলাকা কিন্তু এই এলাকায় চোর, ছিনতাইকারী, হিরোইন সেবী, এমনকি দাগী সন্ত্রাসী-আসামিও বন্দরে ঢুকে অনায়াসে বিভিন্ন অপকর্ম করে চলেছে। এ পর্যন্ত অনেকবার সিএন্ডএফ প্রতিনিধিদের উপর হামলা, ছিনতাই ঘটেছে যা বন্দরকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে। প্লাস্টিক দানা, ইনকর্ড এলয়, এলুমিনিয়াম টুকরো ছোটখাট পণ্য যখন ডেলিভারী নেওয়া হয় তখন চোর, ছিনতাই, হিরোইন সেবীদের দেখা মেলে। অথচ চট্টগ্রাম বন্দরে হাজার হাজার নিরাপত্তা সদস্য, আনসার সদস্য বন্দরের নিরাপত্তা দানে ব্যস্ত রয়েছেন।
চট্টগ্রাম বন্দরে একজন সিএন্ডএফ প্রতিনিধি/জেটি সরকার লাইসেন্স দেওয়া হয় বন্দরের ১৯৫৯ শিডিউলে ৫১ সেকশনে যা পুলিশী তদন্ত সাপেক্ষে। নতুন বুকলেট ফি ৪০০টাকা হলেও ঘুষ দিতে হয় প্রায় পাঁচ হাজারের উপর। প্রক্সিমিটি আইডি কার্ড প্রতিবছর ফি ৩০০ টাকা আর ঘুষ দিতে হয় প্রায় ৫০০টাকার উপর। কিন্তু বর্তমানে সেখানেও পুলিশী তদন্তের নামে চলছে রমরমা ঘুষ বাণিজ্য। প্রথমত ঘুষ দিতে হচ্ছে বন্দরের লাইসেন্স সেকশনে, যেখানে হয়রানি-দুর্নীতি গ্রাস করে ফেলেছে বন্দরের লাইসেন্স সেকশনকে। এরপর পুলিশী তদন্তের জন্য থানায় ধর্না, ঘুষ প্রদান, হয়রানি এবং প্রায় ৫-৬ মাস আসা-যাওয়া করলেই হয়তো মিলবে জেটি সরকার লাইসেন্স।
কাস্টমস সরকার লাইসেন্স পেতে প্রায় ২০ হাজার ঘুষ দিতে হয়। কাস্টমস আইনে ১৯৬৯ সনের ২০৮ সেকশনে কাস্টমস সরকার এবং ২০৭ সেকশনে কাস্টমস এজেন্সী লাইসেন্স ইস্যু করা হয়। বর্তমানে জাল সনদ দিয়েও অনায়াসে কাস্টমস লাইসেন্স ইস্যু করা যায় শুধু অতিরিক্ত ঘুষ দিলেই হয়। এক/এগার এর তত্ত্বাবধায়ক আমলে লাইসেন্স ইস্যুর জন্য সনদ যাচাই, তাত্ত্বীক, ব্যবহারিক, লিখিত, মৌখিক পরীক্ষায় পাশের মাধ্যমে ব্যবস্থা ছিল যা বর্তমানে কেবল ঘুষ প্রদানের মাধ্যমে দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম বন্দরে লাইসেন্স শাখায় কি পরিমাণ ঘুষ লেনদেন হয় তা ভুক্তভোগীরাই জানেন। বন্দরে লাইসেন্স ইস্যু-নবায়ন-ট্রান্সফার করতে অতিরিক্ত ঘুষ প্রদান না করলেই সময় ক্ষেপণ, হয়রানির শিকার হতে হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমসে প্রতিটা ঘাটে ঘাটে ঘুষ লেনদেন, হয়রানি,দুর্নীতির শিকার হতে হয়, যা অগোচরেই রয়ে যায়। সিএন্ডএফ প্রতিনিধিরা প্রতিটা ধাপে ধাপে বন্দর কাস্টমসে ঘুষ, হয়রানির শিকার হয়, তা দেখার কেউ নেই। এক-এগার তত্ত্বাবধায়ক আমলে বন্দর, কাস্টমসে যে আমুল পরিবর্তন হয়েছিল তা আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে এসেছে। পূর্বের থেকে এখন আরও বেশি ঘুষ, হয়রানি, দুর্নীতি আকড়ে ধরে বসেছে। শুধুমাত্র ঢালাওভাবে দোষারোপ করে এর প্রতিকার বা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমসকে স্থাণীয়ভাবে না দেখে সামগ্রিকভাবে এই প্রতিষ্ঠানগুলো সারা বাংলাদেশের সম্পদ হিসেবে দেখে এর উন্নয়নের জন্য কাজ করতে সকলকে এক জায়গায় মিলিত হতে হবে। এতে দেশের তথা জনগণের উন্নতি হবে। চট্টগ্রাম বন্দরে এখনও পর্যন্ত ফিডার জাহাজ উদ্ধারের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই। চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমসে সারা বাংলাদেশের প্রায় ৬৪ জেলার লোকজন কর্মরত রয়েছে এই প্রতিষ্ঠান গুলোতে কাজেই এই প্রতিষ্ঠান গুলোকে স্থানীয় দৃষ্টিতে আবদ্ধ রাখার অবকাশ নেই। চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমস থেকে আহরিত পুরোপুরি রাজস্ব কেন্দ্রীয়-জাতীয় ভাবে রাজস্ব জমা হচ্ছে। জাতীয় সম্মৃদ্ধি স্বর্ণধার চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমসকে যথাযথ উন্নয়নে রাজনীতিক,মন্ত্রী,সচীব দের জোরালো ভূমিকা চাই। চট্টগ্রামের বন্দর, কাস্টমসের প্রকৃত যথাযথ উন্নয়নই বাংলাদেশের উন্নয়ন। চট্টগ্রাম বন্দরে হাইষ্টার-ফোর্কলিপ্ট, ক্রেইন অপারেটরদের ঘুষ বাণিজ্য হয়রানি মাত্রাত্রিরিক্তভাবে সহ্য করতে হয় সিএন্ডএফ প্রতিনিধিদের। বিল অব এন্ট্রিতে ৩৭ কলামে সিপিসি-কাস্টম প্রোসিডিউর কোড ৭ ডিজিট বিশিষ্ট, ৩৩ কলামে এইচএস কোড, হারমোনাইজড বা সামঞ্জস্যপূর্ণ্য নামকরণ কোডগুলো বেলজিয়াম সদর দপ্তর থেকে সুনির্দিষ্টভাবে দেয়া হয়। ২৮ কলামে সেকটর এন্ড ফাউন্ড, ০১২-তে কর্মাশিয়াল ক্যাশ, ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ক্যাশ এর সুনির্দিষ্টভাবে কলাম রয়েছে। ৪৫ কলামে এডজাজমেন্ট এ ইনভয়েস ভ্যালুর উপর লোড ভ্যালু দেওয়া হয়, এখানে এসেসমেন্ট গ্র“পের এআরও আরও গণঘুষের দরদামের উপর বনিবনা হলেই তখন বাড়তি লোড দেন না। ঘুষ কম দিতে চাইলেই অতিরিক্ত লোড দিয়ে বসেন। প্রতিটা এইচএসকোড-কে সিপিসি ভ্যালু নির্ধারণে সহায়তা করে থাকে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কয়েকজন দুর্নীতিবাজ এইআইআর, শুল্ক গোয়েন্দা, আনস্টাফিং এআরও, এসির দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য, হয়রানির দোষারোপ সবার উপর যেমন চাপিয়ে দেওয়া যায় না তেমনি কিছু অসৎ আমদানিকারক/ব্যবসায়ীর অবৈধ কার্যক্রমকেও ঢালাওভাবে দোষারোপ করা ঠিক নয়।
চট্টগ্রাম বন্দরে ১নং-১৩নং বার্থ (মেইন জেটি বা জেনারেল কার্গো বার্থ ) এখন প্রায়ই খালি, অলস দিন গুনছে। অন্যদিকে সিসিটি-এনসিটি বার্থগুলোতে জাহাজ জট, কন্টেইনার জট লেগেই রয়েছে। এর কারণ কি-তা খতিয়ে দেখা দরকার। এনসিটিতে নবনির্মিত সিএফএস শেড পুরোপুরি লজিষ্টিকস সাপোর্ট দেওয়ার উপযোগী হিসেবে গড়ে না তুলে কোনমতে দায়সারাভাবে এটি দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। এনসিটি-সিএফএস শেডে ধুলো-বালি, ময়লার জন্য হাটাচলা দায়। এআইআর, শুল্ক গোয়েন্দা, আনস্টাফিং অফিসারদের ঘুষ বাণিজ্য, হয়রানির যন্ত্রণায় চট্টগ্রাম বন্দরে কাজ করাই যাচ্ছে না। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস থেকে আমদানি পণ্যের বিল অব এন্ট্রি এসেসমেন্ট করার পরও একজন এআইআর, শুল্ক গোয়েন্দা,আনস্টাফিং কর্মকর্তা পুণরায় এসেসমেন্টের নামে সময় ক্ষেপণ করছে প্রতিদিন। আমদানিকৃত বিল অব এন্ট্রি কায়িক পরীক্ষাতো করছেই সেইসাথে এসেসমেন্টও করছে। যেমন : এইচএসকোড বাস্তব মালামালের সাথে শতভাগ মিলছে কিনা, সিপিসি-কাস্টমস প্রসিডিউর কোড সঠিক কিনা, আমদানীকৃত পণ্যটি কমার্শিয়াল নাকি ইন্ডাস্ট্রিয়াল তাও শতভাগ পরীক্ষা করছেন। কঠিন সত্য হল, এখন সিএন্ডএফ প্রতিনিধিদের প্রথমেই ভয় দেখান যে, এনবিআর এর নতুন অর্ডার এসেছে মালামাল এমনভাবে পরীক্ষা করতে হবে যেন মনে হয় আমদারীকারকদের মধ্যে সবাই চোরাচালানি নয়তো স্মাগলিং এর কাজে জড়িতে রয়েছে। এআইআর, শুল্ক গোয়েন্দা, আনস্টাফিং কর্মকর্তারা এখন রীতিমতো সিএন্ডএফ প্রতিনিধিদের সাথে অসভ্য আচরণ করে থাকেন এবং লোকবল সংকটের অজুহাত দেখিয়ে সকালে পোস্টিং নেওয়া হলে তা রাত্রে এমনকি না দেখার ছলচাতুরীর আশ্রয় নেন।
এসোর্টেড গুডসের পণ্যের জন্য কাস্টমস থেকে এসেসমেন্ট এর নোটিং সময় নির্দেশনা হল, আলোচ্য পণ্য চালাটি শতভাগ কায়িক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত/ অংংড়ৎঃবফ মড়ড়ফং বিধায় চালানটি কায়িক পরীক্ষার জন্য ঝরুব/ঞযরপশহবংং/ডরফঃয/উরধসবঃবৎ আর্ট নম্বর, মডেল নম্বর, তৈরী দেশ ও ঊংংবহঃরধষ ঈযধৎধপঃবৎ প্রতীয়মান হয় কিনা উল্লেখপূর্বক নমুনাসহ কায়িক পরীক্ষা প্রতিবেদন অনলাইনে প্রেরণের জন্য জেটি পরীক্ষণ শাখাকে অনুরোধ করা হয় মর্মে অবহিত করেন। পানগাঁও, পায়রা, কমলাপুর আইসিডি, মংলা দিয়ে আমদানিকৃত পণ্য একদিকে কন্টেইনারের ফ্রেইট চার্জ বেশি, অন্যদিকে আমদানিকৃত মালামাল পণ্য ছাড় করিয়ে ট্রান্সপোর্ট পরিবহন ব্যয় হয় অত্যধিক। ভৌগিলিকগত সুবিধাজনক অবস্থানে চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস অবস্থিত হওয়ায় আমদানিকারক/ব্যবসায়ীদের ট্রান্সপোর্ট পরিবহন ব্যয় সাশ্রয়ী এবং কন্টেইনারের ফ্রেইট চার্জ তুলনামূলক কম হয়। রপ্তানীজাত পণ্যের কন্টেইনার জাহাজীকরণের পর যদি কোন প্রকার সংশোধনী করতে হয় তাতে প্রায় ৮হাজার টাকা প্রতি বিল অব এন্ট্রিতে ঘুষ দিতে হয়। আমদানি পণ্যের আইজিএম সংশোধনী করতে প্রায় ২০হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়, সময় দিতে হয়। সেই সাথে রয়েছে হয়রানি। আমদানি বিল অব এন্ট্রি সংশোধনী নিতে প্রায় ২৫ হাজার টাকা ঘুষ খরচ করতে হয়। আনস্টাফিং এআরও, আরও, এসিকে এফসিএল কন্টেইনার বাহি পণ্যের বিএল কপির সাথে কন্টেইনারের সিল নম্বর মিলিয়ে দিতে হয়। পণ্যের নমুনা, ক্যাটালগও তাদের দেখাতে হয়। শুল্ক গোয়েন্দা, এআইআর, আনস্টাফিং অফিসাররা শতভাগ কায়িক পরীক্ষার ক্ষেত্রে সকালে পোস্টিং নিলে দেখা যায়, মালামাল পরীক্ষা করতে আসে রাত্রে। আমদানিকৃত মালামাল ঝড়/বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট-ক্ষতিগ্রস্থ হলে অফিসারদের জানানো হলে গুরুত্বই দেন না। জেটিতে পরীক্ষণ কর্মকর্তারা কায়িক পরীক্ষার প্রতিবেদন দিতে চাইলেও বাধ সাধেন শুল্ক গোয়েন্দা, এআইআর, আনস্টাফিং অফিসার। কারণ তাদের চাহিদা মোতাবেক অতিরিক্ত ঘুষ প্রদান করা চাই।
নাম প্রকাশ না করা অভিযোগকারী একটা সত্য প্রকাশ করেননি যে, শতভাগ ডকুমেন্টস ঠিক থাকলেও বন্দর, কাস্টমসে ঘুষ দুর্নীতি হয়রানি ছাড়াই এসেসমেন্ট, ডেলিভারী, শিপমেন্টে কাজ হবে না। ঘুষ দুর্নীতি হয়রানি ছাড়াই যেকোন ডকুমেন্টস কাজ করা যায় না যতই শতভাগ সঠিক থাকুক। এআইআর, শুল্ক গোয়েন্দা, আনস্টাফিং অফিসার পদে ট্রান্সফার নিয়ে আসতে মরিয়া হয়ে থাকে সবাই। আমদানি পণ্য ইউনিট হিসেবে ডিউটি/ট্যাক্স দিলে বন্দরে কেজিতে পরিমাপ করা হয়, অন্যদিকে কেজিতে ডিউটি/ট্যাক্স দিলে পণ্যে/সংখ্যা গণনা করা হয় ঘুষে পরিমাণ বাড়ানোর জন্য। আমদানি পণ্যে ওজনে বেশি পেলে তখন অতিরিক্ত ঘুষের জন্য আবদার করা হয় কিন্তু ওজনে কম পাওয়া গেলে সেটি আর উল্লেখ করতে চান না অফিসাররা। আমদানিকারক/ব্যবসায়ীরা অভিযোগের সুরে বলে থাকেন, পানিতে থেকে কুমিরের সাথে কি যুদ্ধ করা যায়? তাই এআইআর, শুল্ক গোয়েন্দা, আনস্টাফিং অফিসারদের অন্যায়, ঘুষ, দুর্নীতি মেনে নিতে হয়। কারণ প্রতিদিন তাদের সাথে কাজ করতে হবে। একশ গার্মেন্টস শিল্পের মধ্যে কয়েকজন যদি বন্ডেড সুবিধায় পণ্য এনে টেরিবাজার, রিয়াজউদ্দিন বাজারে বিক্রি করে দেয় তার জন্য কি সবাইকে ঢালাওভাবে দোষারোপ করা যায়? একশটি গার্মেন্টস পণ্যের বিল অব এন্ট্রিতে যে ডিউটি/ট্যাক্স দেওয়া হয় তার চাইতে অনেক বেশি ডিউটি/ট্যাক্স দেওয়া হয় একটি কমার্শিয়াল পণ্যের বিল অব এন্ট্রিতে। কিন্তু কমার্শিয়াল পণ্যের বিল অব এন্ট্রি এসেসমেন্ট/ডেলিভারি নিতে সবচেয়ে বেশি ঘুষ, হয়রানি, দুর্নীতির শিকার হতে হয়। চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমসে কর্মকর্তাদের অন্যায়, দুর্নীতি কখন কোন সময় থামবে তা কি কেউ বলতে পারবে?
চট্টগ্রাম বন্দরে একজন সিএন্ডএফ প্রতিনিধিদের বন্দরের অভ্যন্তরে প্রবেশের সময় প্রতিটা গেইটে অনেকবার চেক করা হয় গেইটপাশ। সেক্ষেত্রে সংরক্ষিত নিষিদ্ধ এরিয়ায় কিভাবে চোর, ছিনতাইকারী, সন্ত্রাসীরা বন্দরে প্রবেশ করে তা প্রশ্নবিদ্ধ। অস্থায়ী গেইট পাশ নিতে বন্দরের চাহিদা মোতাবেক ডকুমেন্টস দিয়েও সিএন্ডএফ প্রতিনিধিদের অতিরিক্ত ঘুষ প্রদান করতে হয়। আমদানীকারক/ব্যবসায়ী সিএন্ডএফ প্রতিনিধিদের মতামত হল সেনাবাহিনী, র্যাব, দুদক এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের দিয়ে বিশেষ টিম করে দিলে চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমসে কাজ করা অনেক সহজ হবে এবং রাজস্ব ফাঁকি দিতে সাহস পাবে না। আর এতে যারা ঘুষ, দুর্নীতি, হয়রানির শিকার হবেন, তারা অভিযোগ করতে পারবেন। বন্ডেড সুবিধায় নো-কমার্শিয়াল আমদানিকৃত এফসিএল কন্টেইনার গার্মেন্টস পণ্যে অবশ্যই এআইআর (অ.ও.জ-অঁফরঃ.রহাবংঃরমধঃরড়হ ্ জবপযবৎপয) কে বন্দরে ডেলিভারী নেওয়ার পূর্বে অবশ্যই ঘুষ দিয়েই ছাড়যোগ্য কিনা তা ছাড়পত্র নিতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমসে সিএন্ডএফ প্রতিনিধিদের মতামত, আমদানীকারক/ব্যবসায়ীদের মতামত জানাতে অভিযোগ বক্স দিলেই তখন কার কোথায় সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, তার বাস্তব চিত্র পাওয়া যাবে
এসডি.বাবু , প্রাবন্ধিক হবংি.ংফ.নধনঁ@মসধরষ.পড়স
