মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিঃ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম দুদকে মামলা দায়ের

0
863

রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের অধীনে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড-এর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা আক্তার কামাল (আর এম ইনচার্জ) খুলনা ডিপোতে অনিয়ম নিজের ক্ষমতাবলে অবৈধভাবে ফার্নেস অয়েল, বিটুমিন এলপিজি গ্যাস সিলিল্ডার, জেবিওএর-অধিক টাকা আত্মসাৎ করে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার কারনে তাকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন সাবেক পরিচালক মোজাম্মেল হক সাসপেন্ড করা সহ জরুরী ভিত্তিতে তদন্ত করতে নির্দেশ দেন মেঘনার এমডিকে। আক্তার কামালকে সাসপেন্ড করেছিলেন মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিঃ-এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল খায়ের। বর্তমানে তিনি পদ্মা অয়েল কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে কর্মরত রয়েছেন। পদ্মা অয়েল কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল খায়ের এর মুঠোফোন নং-০১৭৭৭-৭০৩৩০০ নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান মেঘনা পেট্রোলিয়ামের এম.ডি থাকা অবস্থায় আক্তার কামাল (আর.এম) মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিঃ খুলনা ইনচার্জ পদে থেকে প্রতিষ্ঠানের শত কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি সাধন করেছেন। তাই তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল বলে তিনি জানান। আক্তার কামালের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা তদন্ত করছেন দুদক চট্টগ্রামের উপ-পরিদর্শক ও মেঘনার বর্তমান অবৈধ এমডি খালেদ সাইফুল্লার মামলা তদন্ত করছেন জনাব মানিক লাল সরকার। আক্তার কামাল এক সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিবিরের নেতা ছিলেন। ১৯৮০/৮২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিবির মুক্ত করতে আবদুল হামিদ নামের এক প্রতিবাদী ছাত্রলীগ কর্মীর নেতৃত্বে শত শত প্রতিবাদী ছাত্র আন্দোলন করলে তখন শিবির নেতা আক্তার কামাল হামিদের উপর হামলা চালায় এক পর্যায়ে হামিদের হাত কেটে ফেলেন। হামিদের হাত কাটার ঘটনায় চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানা তখন অঙ্গহানি মামলা হলেও সে মামলায় আক্তার কামাল ২নং আসামী ছিলেন বলে জানা গেছে। আক্তার কামালের বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও সে রাউজানের এক নেতার ছত্রছাঁয়ায় থেকে আত্মগোপন করেন। পরে জিয়াউদ্দিন বাবলুর মৌখিক সুপারিশে গত ১৯৮৫/৮৬ সালে বিনা ইন্টারভিউতে চাকুরী পায় মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিঃ চট্টগ্রামে অস্থায়ী পিয়ন পদে। আক্তার কামাল ছাত্রশিবিরের ক্যাডার হিসেবে ব্যাপক পরিচয় ছিলো ছাত্র জীবনে তার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এবং পেশী শক্তির জোরে মেঘনা পেট্রোলিয়ামে সামান্য বেতন অস্থায়ী কর্মচারী থেকে এজিএম সেলস্, পরবর্তীতে খুলনা ডিপোর আর.এম ইনচার্জ হিসেবে শেষ পদোন্নতি পায়। মেঘনা পেট্রোলিয়ামে কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে আক্তার কামালের নির্দেশে এবং ২ জন কর্মকর্তাকে অপহরণ করে সাসপেন্ড উড্রো করার হুমকি দিলে তখন তাহারা তার কথায় রাজী না হওয়াতে এমডি’র উপর ক্ষীত হয় আক্তার কামাল। তার পদোন্নতিতে সুপারিশের হুমকী দিলে তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ না করায় তার অপরাধ দ্বিগুণ হারে বেড়ে গেছে। বর্তমানে আক্তার কামাল সাসপেন্ড তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় সত্যতা উঠে এসেছে। চট্টগ্রাম নিমতলায় ৫ম তলা বাড়ী ও নাসিরাবাদের পূর্বকোণের পাশের গলিতে ২ কোটি টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট বাড়ীও রয়েছে তার। মেঘনা পেট্রোলিয়াম সিবিএ নেতারা জানান একজন এমডিকে রাতারাতি পরিবর্তন করে অবৈধভাবে খালেদ সাইফুল্লাহকে এমডি পদে দায়িত্ব প্রদান করা বেআইনী হলেও দুদকের আসামী আক্তার কামালকে পুনরায় একই পদে বহাল রাখতে এই এমডিকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তার বিরুদ্ধেও অসংখ্য অভিযোগ দুদকে তদন্ত চলছে।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here