স্টাফ রিপোর্টার ঃ
কুমিল্লা জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহি প্রতিষ্ঠান বাখরাবাদ গ্যাস কোম্পানি। এই গ্যাস ফিল্ডের কার্যক্রম তাদের নিজস্ব গতিতে পরিচালিত হয়। এখানে রাজনৈতিক মহল তাদের জেলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে কখনও বাখরাবাদ গ্যাস কোম্পানির কোনো কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ পর্যন্ত করে না। যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সাথে এলাকাবাসীর সেবা দিয়ে আসছিল। এ সেবায় এলাকাবাসী তুষ্টও ছিল। একইসাথে এ গ্যাস ফিল্ড থেকে সরকারের রাজস্ব আসে কয়েকশ’ কোটি টাকা। আর সেটাই ছিল কুমিল্লাবাসীর গর্ব এবং যুগ যুগের ঐতিহ্য। হঠাৎ করে প্রকৌশল রেজাউল ইসলাম খাঁন ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে বাখরাবাদে যোগদান করার পর থেকে প্রতিষ্ঠানে নেমে আসে এক দুর্যোগ মূহুর্ত। প্রতিষ্ঠানে তার স্বেচ্ছাচারিতার কারণে কর্মচারীরাও তার প্রতি ক্ষুব্ধ। কিন্তু কেউ তার প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। যদি ভুক্তভোগী কেউ তার প্রতিবাদ করেন, তাহলে তাকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশল রেজাউল ইসলাম খাঁন ইচ্ছা অনুযায়ী বদলী করে থাকেন। শুধু তাই নয়, তিনি অত্র স্থানে যোগদান করার পরই প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার ও সিবিএ নেতাদের সাথে বিভিন্ন কাজের সময় মতপার্থক্য দেখা দেয়। ঠিকাদার সূত্রটি এক বাক্যে জানায়, আগের বাখরাবাদ আর নাই। কেন প্রশ্ন করলে তারা জানায়, এই প্রতিষ্ঠান শুরুর লগ্ন থেকে আমরা সততার সাথে কাজকর্ম করে মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তানদেরকে নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলাম। কিন্তু বর্তমানে কোনো কাজকর্ম নাই, বিধায় অনেক সমস্যার মধ্যে জীবন-যাপন করতে হচ্ছে। জানা গেছে, ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশল রেজাউল ইসলাম খাঁন’র সাথে সিবিএ নেতা ও ঠিকাদারদের সাথে মতবিরোধ দেখা দিলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে এমডির ওয়েলেশার তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করে ঝামেলা মিটিয়ে দেন। বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক এর কার্যক্রমের বিষয়ে কুমিল্লার বিভিন্ন মহলের ব্যক্তিদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, এলাকাবাসী চায় কুমিল্লার সুনাম অক্ষুন্ন রেখে বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ডের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হোক। কিন্তু উক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এলাকাবাসীর কথা না ভেবে শুধুমাত্র স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন। সিএনজি পাম্প মালিকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, তারা বর্তমানে অনেক সমস্যার মধ্যে আছে। কর্তৃপক্ষ কোনো নোটিশ ছাড়া পাম্পের মিটার নিয়ে যায়। আবার কারোও মিটার তাৎক্ষণিক ফেরতও দেয়। এছাড়াও সিএনজি পাম্প মালিকদের মোটা অঙ্কের জরিমানাও করে। বিনা নোটিশে এ উদ্দেশ্যমূলক অভিযান মেনে নিতে পারছেন না সিএনজি পাম্প মালিকরা। বর্তমানে যে পাম্পগুলোর লাইন কেটে দিয়েছে তাদের ব্যাংক এর ঋণ বাড়ছে, অপরদিকে সিএনজি পাম্প মালিক-কর্মচারীরা তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে অতিকষ্টে জীবিকা নির্বাহ করছে। এমডি রেজাউল খাঁন তার সুবিধার জন্য যে কাজটি করেছেন তা হল, চেয়ারে বসেই তার ইচ্ছা মতো কর্মচারীদেরকে বদলী করান। যার প্রেক্ষিতে নিজের সুবিধার্তে জিএম মার্কেটিংকে বদলী করে পাঠিয়ে দেন অন্য এক কোম্পানীতে। এই অভিযান কি কোন মহলের ব্যক্তি স্বার্থে, নাকি সরকারের স্বার্থে? যদি সরকারের স্বার্থে হয়, তাহলে যুক্তি তর্কে না যেয়ে এমডির দুরদর্শিতার দিকে লক্ষ রাখবে এলাকার সচেতন নাগরিকগণ। প্রকৌশল রেজাউল ইসলাম খাঁন পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস ফিল্ডে চাকুরী করেছেন। এরপর সিলেট জালালাবাদ গ্যাস ফিল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বেও ছিলেন। উক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিষয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে অপরাধ বিচিত্রা‘র অনুসন্ধান চলছে।
