পাবনা জেলা আ’লীগ সভাপতি ভূমি মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এমপির জীবন বৃত্তান্ত

0
2426

অপরাধ বিচিত্রাঃ
ঈশ্বরদী? বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুর রহমান শরীফ ১৯৪০ সনের ১০ মার্চ পাবনা জেলার সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের চর শানিরদিয়াঢ় গ্রামের মাতুলালয়ে এক সমভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম লুৎফর রহমান এবং মাতার নাম মরহুমা জোবেদা খাতুন। তাঁর পৈর্তৃক নিবাস পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের লক্ষ্মীকুন্ডা গ্রামে। তাঁর শৈশব-কৈশোরের পুরোটা সময়ই কাটে পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীকুন্ডায় ও পাবনা সদরে। শামসুর রহমান শরীফ লক্ষীকুন্ডা ফ্রী প্রাইমারি স্কুল ও পাকুড়িয়া মিডল ইংলিশ স্কুলে পড়াশুনা শেষ করে পাবনা জেলা স্কুলে ভর্তি হন। পাবনা জেলা স্কুল থেকেই ১৯৫৭ সালে ম্যাট্রিক পাশ করেন। উত্তরবঙ্গের বিখ্যাত পাবনা এ্যাডওয়ার্ড কলেজ থেকে ১৯৬০ সালে ইন্টারমিডিয়েট এবং ১৯৬২ সনে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। শামসুর রহমান শরীফ এর রাজনীতির হাতেখড়ি সেই ভাষা আন্দোলনের সময় থেকে। ছাত্র থাকা অবস্থায় ৯২ক ধারার বিরুদ্ধে রাজপথের লড়াকু সৈনিক হিসেবে আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে গ্রেফতার হন। সেই থেকেই শুরু রাজনীতির মাঠে এক বিরামহীন পথচলার। ১৯৫২ সন থেকে শুরু করে এমন কোন আন্দোলন-সংগ্রাম নেই যাতে তিনি অংশগ্রহণ করেননি। ১৯৫৯ সনের আইয়ূব খানের মার্শাল ল বিরোধী আন্দোলনে শরিক হবার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি হয়। ১৯৬২ সনে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে গ্রেফতার হন। ১৯৬৭ সনে আবারও তিনি কারাবরণ করেন ছয় দফা আন্দোলনের প্রচার করতে গিয়ে। এমনিভাবে ১৯৬৯ এর গণ অভ্যুত্থানে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন তিনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ১৯৭১ সনে আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অকুতোভয় বীরযোদ্ধা হিসেবে শামসুর রহমান শরীফ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সংগঠক হিসেবে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। শামসুর রহমান শরীফ ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ পাবনার মাধপুরে পাকসেনাদের প্রথম প্রতিরোধ সম্মুখ যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। তাঁর নেতৃত্বে তাঁর বাহিনীর ১৭ জন মুক্তিযোদ্ধা পাকসেনাদের গুলিতে শহীদ হন এবং পাকিস্তানি সেনাদের অনেকেই ঐ যুদ্ধে হতাহত হন। তিনি ৭ নং সেক্টরের অধীনে কাজীপাড়ায় সেনাবাহিনীর ব্রিগেড লিডারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। ভারতের জলঙ্গীতে তার রহভরষঃৎধঃরড়ৎ পধসঢ় ছিল। সাংগঠনিক মানুষ, ভাষা সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুর রহমান শরীফ পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে প্রথম বর্ষের ছাত্র থাকা অবস্থায় পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সেন্ট্রাল কমিটিতে স্থান পান। এছাড়া তিনি পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং ছাত্রাবস্থায় তিনি পাবনা শহর শাখা আওয়ামী লীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। পরবর্তী সময়ে শামসুর রহমান শরীফ ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ঈশ্বরদী উপজেলা রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সভাপতি, ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, রেল শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি, পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি সম্পাদক, পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। বর্ণাঢ্য রাজনীতিবিদ শামসুর রহমান শরীফ ২০০৫ সন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে অত্যন্ত বলিষ্ঠতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ১৯৭৫ সনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার পর সামরিক আদালতে একটানা ৫ বছরের সাজা ভোগ করেন। তিনি পরবর্তীতে এরশাদ সরকার এবং ২০০৭-০৮ সনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে কারাবরণ করেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দ্বারা বারবার নির্যাতিত রাজনীতিবিদ শামসুর রহমান শরীফ ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ এবং ২০১৪ সনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পাবনা-০৪ আসন থেকে ধারাবাহিকভাবে এযাবৎ চার বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯৬ সনের সপ্তম জাতীয় সংসদে বস্ত্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সনের অষ্টম সংসদে শিল্প মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ২০০৮ সনের ৯ম সংসদে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে পুনরায় সরকার গঠন করলে গত ১২ জানুয়ারি ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ ভাষা সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুর রহমান শরীফ এম.পি.কে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেন। ভূমি মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ নিজ নির্বাচনী এলাকায় অসংখ্য স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার সাথে যুক্ত থেকেছেন। তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকা ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলার প্রতি দুই কিলোমিটারের মধ্যে এক বা একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতি পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে এক বা একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুই উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এক বা একাধিক ডিগ্রী কলেজ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। এছাড়া তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ ও উন্নয়ন, অসংখ্য মসজিদ, মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ভূমি মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এর সহধর্মিনী মিসেস কামরুন নাহার শরীফ একজন আদর্শ গৃহিণী। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই মহিয়সী নারীর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। সুখী দাম্পত্য জীবনে তিনি পাঁচ ছেলে ও পাঁচ মেয়ে সন্তানের জনক। তিনি রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো, কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, চীন, পাকিস্তান, ভারত ও দুবাই সফর করেছেন। ভূমি মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ রাজনীতিতে সততা, দুর্নীতিমুক্ত ও নিঃস্বার্থভাবে দেশের মানুষের সেবা প্রদান করায় অবিচল থাকবেন।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here