মাঃ আবু তাহের পাটোয়ারীঃ
নোয়াখালী অঞ্চলের জনসেবা ও সমাজউন্নয়নের বিভিন্নমূখী কর্মকান্ড অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে এখন সুখ্যাতির শীর্ষে রয়েছেন সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এমাদুর রহমান চৌধুরী। বিশেষ করে শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ও মেধা বিকাশের ক্ষেত্রে সফল এই সমাজসেবীর রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। নিজ উপজেলা নোয়াখালীর সেনবাগের বিভিন্ন ইউনিয়ন এমনকি প্রত্যন্ত গ্রাম জুড়েও তার সেবাধর্মী কর্মকান্ডের অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। সমাজ ও মানুষের কল্যাণে তার নিবেদিত ভূমিকা পালনের বিষয়টি এখন তাঁর এলাকার বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের মুখে-মুখে বিশেষভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। তাঁকে নিয়ে সেনবাগের বেশকটি ইউনিয়নে গণমানুষের যে উচ্চাশা ও অকৃত্রিম শ্রদ্ধাবোধ পরিলক্ষিত হচ্ছে সত্যিকার অর্থেই তা অসাধারণ। মাটি ও মানুষের পরম কান্ডারী এই মানুষটিকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে নিঃস্ব ও হতদরিদ্র মানুষের বেঁচে থাকার নিরন্তর জীবন-সংগ্রাম। তাদের আশা-আকাঙ্খা ও উজ্জীবিত প্রেরণার উৎস হিসেবে শিক্ষানুরাগী সমাজসেবক এমাদুর রহমান চৌধুরী নোয়াখালীর এই অঞ্চলটিতে দারিদ্র বিমোচন ও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই হাতে নিয়েছেন। তাঁর সুচিত এসব উদ্যোগ-আয়োজন বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বিশেষ বৈশিষ্ট্যমন্ডিত এই অঞ্চলটির হত-দরিদ্র মানুষের মুক্তিকল্যাণ অনেকাংশেই নিশ্চিত হতে পারে।
সমাজসেবী এমাদুর রহমান চৌধুরীর বহুমূখী কর্মকান্ডের মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে শিক্ষা ও মেধা বিকাশের বেশ কিছু বাস্তবধর্মী উদ্যোগ আয়োজন। গত ১০ই আগস্ট তিনি সেনবাগের কানকির হাট বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন।
এই স্কুলটির উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে তাঁর রয়েছে অত্যুজ্জ্বল ভূমিকা। পাশাপাশি, কানকির হাটের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নেও তার রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। বিশেষ করে কানকির হাট কলেজ ও কানকির হাট বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তিনি অনেকটা অন্তরালে থেকেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অবশ্য কানকির হাটের শেষোক্ত দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্বে অধিষ্ঠিত রয়েছেন যথাক্রমে স্থানীয় সংসদ সদস্য বেঙ্গল গ্রুপ এবং আর টিভির চেয়ারম্যান, আলহাজ্ব মোরশেদ আলম, ঢাকা ওয়াসার সাবেক এমডি ডঃ খন্দকার আজহারুল হক, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও কল্লোল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সেনবাগস্থ কেশার পাড়ের কৃতি সন্তান গোলাম মোস্তফার অবদান ও অনুদানের কথা এই অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারে বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। আরো এগিয়ে এসেছেন কেশারপাড় গ্রামের প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা প্রয়াত রহুল আমিন ভূঁইয়ার ভাই মজিবুল হক ভূঁইয়া ও বীরকোট গ্রামের কৃতি সন্তান ইউনুস পাটওয়ারী বাচ্চু। এমাদুর রহমানের উদার অনুদানে সমৃদ্ধ হয়েছে সেনবাগের অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। জড়াজীর্ণ ও ভগ্নদশা থেকে এসব প্রতিষ্ঠানকে মান সমৃদ্ধ করে শিক্ষার প্রসারে তিনি পালন করে যাচ্ছেন অনন্য সাধারণ ভূমিকা। একইভাবে জড়া-জীর্ণ ও অবহেলিত মটবী মাদ্রাসার অবকাঠামোর উন্নয়নেও তার রয়েছে মোটা অংকের অনুদান। তার উদার অনুদানে সমৃদ্ধ আজকের সুদৃশ অবকাঠামোর উপর প্রতিষ্ঠিত ডমুরুয়া ইউনিয়নের মটবী মাদ্রাসা। অন্যদিকে সমাজের হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের কল্যাণেও তিনি পালন করে যাচ্ছেন নিবেদিত ভূমিকা। তাদের যে কোন সমস্যা ও প্রয়োজন মেটাতে তিনি সর্বোচ্চ তাগিদ অনুভব করেন। অভাবী ও নিরন্ন মানুষের কল্যাণে এবং এলাকার রাস্তা-ঘাট উন্নয়নেও এমাদুর রহমান চৌধুরীর অবদান নিঃসন্দেহে অবিস্মরণীয়। আর এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি সেনবাগ কল্যাণ সমিতির মাধ্যমে বেশ কিছু বাস্তবধর্মী কর্মকৌশল গ্রহণ করেন। ২০০৫ সালে তিনি এ সমিতির সহ-সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রধানত তার নিরলস ভূমিকা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলেই এই সমিতির সঙ্গে রাজধানী ঢাকায় বসবাসকারী সেনবাগের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের গড়ে ওঠে নিবিড় যোগাযোগ। ঢাকাস্থ বিভিন্ন আঞ্চলিক সমিতির মধ্যে সেনবাগ কল্যাণ সমিতিই বিশেষভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত। ঢাকায় বসবাসকারী সেনবাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কাছ থেকে সমিতির স্থায়ী অফিসের জন্য মোট ১ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়। পরে এই টাকা দিয়ে ঢাকার সিটিহার্টে সেনবাগ কল্যাণ সমিতির স্থায়ী অফিসের জন্য একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করা হয়। বিত্তশালীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ ও ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সেনবাগ কল্যাণ সমিতির সহ সভাপতি এমাদুর রহমান চৌধুরী। সেনবাগের যে কোন শ্রেণী পেশার মানুষের কল্যাণে এই সমিতির রয়েছে সক্রিয় ভূমিকা। প্রতিবছরই দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে সেনবাগ কল্যাণ সমিতি নগদ অর্থ ও শীত বস্ত্র বিতরণ করে থাকে। সেনবাগের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কৃতি ও দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি প্রদানের বিষয়টিও এই সমিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান। প্রতি বছরই এই বৃত্তিপ্রদান করা হয়।
সেনবাগ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামগুলোতে খাল ভরাট ও অবাদে ঘর বাড়ি নির্মাণ পরিবেশের জন্য ব্যাপক হুমকি সৃষ্টি করেছে। এ কারণে এ অঞ্চলে প্রতি বছর একটু বৃষ্টি হলেই বন্যার সৃষ্টি হয়। অসংখ্য ইটভাটার মাটির যোগানের কারণেও মারাত্মক পরিবেশ দূষণ হচ্ছে এবং রাস্তাগুলো ভেঙ্গে গিয়ে সরকারের বিপুল অর্থের অপচয় ও রাস্তার ক্ষতি হচ্ছে, অপরদিকে জনসাধারণের চলাচলের জন্য অনুপযোগি হয়ে পড়ছে এসব গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। পরিবেশ দূষণের কবল থেকে নিরাপদ জীবন ধারণে সকল জনগণকে হতে হবে অত্যন্ত সচেতন। পারিবারিক সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সুশিক্ষার কোনো বিকল্প নাই বলেও তিনি মনে করেন। পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে দেশবাসী ও সেনবাগের সকল শিক্ষক শিক্ষার্থী অভিভাবক এবং জনগণকে জানাচ্ছি ঈদ মোবারক। সেনবাগে শিক্ষা বিন্তার আন্দোলনের অগ্রপথিক ও অসহায় নিরন্ন মানুষের পরম কান্ডারী এমাদুর রহমান চৌধুরী ১৯৫৪ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী সেনবাগের কেশারপাড় গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মুন্সিবাড়ীতে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা মুলকুতের রহমান চৌধুরী ও দাদা বজলুর রহমান চৌধুরীও জনসেবার ক্ষেত্রে পালন করে যান নিরলস ভূমিকা। তার এলাকার কিংবদন্তিতুল্য পুরুষ হিসেবে বিশেষ সুখ্যাতি অর্জনকারী ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মাহমুদুর রহমান চৌধুরী। ব্রিটিশ শাসনামলে তিনি একটানা ২০ বছর পর্যন্ত তৎকালীন স্থানীয় ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। উল্লেখ্য, এমাদুর রহমান চৌধুরীর দাদা বজলুর রহমান চৌধুরী ছিলেন তখনকার ইউনিয়ন বোর্ডের সেই প্রেসিডেন্টেরই সুযোগ্য সন্তান। আজকের কানকির হাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ এস.এম সালামতউল্লাহ্। ১৯৪৩ সালে এই বিদ্যালয়টি তিনি নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেন। আর এই কৃতি সন্তানের জন্মস্থান হলো আটিয়া বাড়ী মিয়া বাড়ীতে। তিনি হলেন শিক্ষানুরাগী সমাজসেবক এমাদুর রহমান চৌধুরীর নানা। মরহুম মোঃ এস.এম সালামতউল্লাহ্ ১৯১৮ সালে মেট্রিক পাস করেন এবং এ অঞ্চলে শিক্ষা অর্জন ও শিক্ষা বিস্তারের গভীরভাবে প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। এ কারণে তিনি কোনো ভোগ বিলাসিতার চিন্তা করেন নি। সরকার তাকে তৎকালীন ভিসার কার্যে মাইজদীতে জুড়ির হাকিম নিযুক্ত করেছিল। তিনি দীর্ঘদীন এ দায়িত্ব পালন করেন। সেনবাগের এই শিক্ষানুরাগী কৃতি সন্তান ১৯৬২ সালে মৃত্যুবরণ করেন। এ অঞ্চলের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে তার অবদানের কথা আজীবন মানুষ শ্রদ্ধার সহিত স্মরণ করবে।
ব্যক্তিগত জীবনে সমাজসেবী, শিক্ষানুরাগী এমাদুর রহমান চৌধুরী ২ পুত্র সন্তানের জনক। বড় ছেলে রেজাউর রহমান চৌধুরী আলসানউল্লাহ্ ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে অস্ট্রেলিয়া থেকে এম.এস পাশ করে বর্তমানে তিনি দেশে ব্যবসা করছেন। ছোট ছেলে জাহিদুর রহমান চৌধুরী নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.কম পাশ করে অস্ট্রেলিয়ায় চাটার্ড এ্যাকাউন্টেন্সি শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত আছে। স্ত্রী লুৎফুন নাহার একজন সুগৃহিনী।

