ডায়মন্ড চিকস্ লিঃ এর বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতা জাল-জালিয়াতি ভূয়া চেকে জমি ক্রয়ের নামে প্রতারণার অভিযোগ

0
1108

স্টাফ রিপোর্টারঃ
ডায়মন্ড চিকস্ লিঃ এর বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতা জাল-জালিয়াতি ভূয়া চেকে জমি ক্রয়ের মানে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। গাজীপুর জেলার কাপাশিয়া উপজেলার কপালেশ্বর, কেন্দুয়াব ও বীর উজলীতে কিছু জমি ক্রয় করে পল্টিফার্ম করে আশ-পাশের পরিবেশ দূষণ করে আশ-পাশের জমি ডায়মন্ড চিকস্ লিঃ নিকট বিক্রয় করতে বাধ্য করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু জমির প্রকৃত মূল্য পরিশোধ করলেও পরবর্তীতে আশ্রয় নেয় জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার। ডায়মন্ডের ভূমিদস্যুতা জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকেই তাদের পৈতৃক ভিটে-মাটি হাড়িয়ে জমি-জমার মূল্য না পেয়ে অন্যের বাড়িতে ভারাটিয়া বা আশ্রিতা হয়ে আছেন। জমির বিক্রয় মূল্য না পেয়ে ভূয়া চেক নিয়ে দেন-দরবার করেও কোনো আসানোরূপ ফলা-ফল না পেয়ে আইন আদালতের শরনাপন্ন হতে বাধ্য হন।

Advertisement

mg-06
ডায়মন্ড চিকস্ লিঃ এর প্রতারণার শিকার বীর উজলী পোষ্ট-অফিসের পোষ্ট মাস্টার আফতাব উদ্দিন তার স্ত্রী জাহানারা ও জামাতা ছমিরউদ্দিনের জমির চার পাশে কাটা তারের বেড়া দিয়ে আশ-পাশের জমিতে মুরগীর বিষ্টা ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণ করে বসবাশের অযোগ্য করে জমি বিক্রয় করতে বাধ্য করে। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষ আলোচনা সাপেক্ষে আফতাব উদ্দিন মাষ্টার, তার স্ত্রী ও জামাতার জমিসহ মোট ৮৫.০৫ শতাংশ জমি ঘর বাড়ি ও গাছ-পালাসহ ৮৩.৭৫,০০০ (তিরাশিলক্ষ পচাত্তর হাজার) টাকায় বিক্রয় করেন। ডায়মন্ড চিকস্ লিঃ নগদ টাকায় জমির মূল্য পরিশোধ করে জমি রেজিষ্ট্রেশন করে নিবেন বলে আফতাব উদ্দিন মাস্টারকে প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু জমি রেজিষ্ট্রি করার সময় মাত্র  ৩,৭৫,০০০ (তিন লক্ষ পচাত্তর হাজার) টাকা নগদ প্রদান করে ৮০,০০,০০০ (আশি লক্ষ) টাকার চেক প্রদান করেন। উক্ত চেকের ২০,০০,০০০ (বিশ লক্ষ) টাকা করে দুটি চেকে মোট ৪০,০০,০০০ (চল্লিশ লক্ষ)টাকা ক্যাশ করেন। কিন্তু ডায়মন্ড  চিকস্ লিঃ প্রদত্ত ন্যাশনাল ব্যাংক তাং-১৭/৭/২০১৬ চেক নং-ঘউঈ/এ-৭০৭০৩৬৫ এর ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ)টাকা এবং তাং-২০/৭/‘১৬ ঘউঈ/এ-৭০৭০৩৬৬ এর ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) টাকা এবং ১২/৪‘১৬ তাং-চেক নং- ঘউঈ/এ-৭০৭০৩৬৩ এর ২০,০০,০০০(বিশ লক্ষ)টাকার চেক ব্যাংক কর্তৃক ডিজওনার হয়। মোট ৪০,০০,০০০ (চল্লিশ লক্ষ) টাকার চেক ডিজওনার হওয়ায় প্রতারণার শিকার হন আফতাব উদ্দিন মাস্টার। ডায়মন্ড চিকস্ লিঃ এর ঢাকাস্থ বারিধারা ডিওএইসএস এবং ডায়মন্ড ফিডস্ এন্ড গ্রেইন্স লিঃ এর গাজীপুরস্থ কপালেশ্বর বার বার ধরর্ণা দিয়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাওসার আহম্মেদ, নির্বাহী পরিচালক আলিমুজ্জামান এবং ম্যানেজার আব্দুল রফকে অবহিত করেন এবং প্রদত্ত চেকের টাকা ক্যাশ করার ব্যবস্থা গ্রহণের জোড় দাবী জানান। ডায়মন্ড কর্তৃপক্ষ এর কোনো বিহিত না করে বা এর কোনো সদোত্তর না দিয়ে উল্টো ১০ শতাংশ জমি বেশি কৌশলে রেজিষ্টেশন করে নিয়েছেন এবং বিক্রেতাকে চাপ সৃষ্টি করে টাকা ফেরৎ চান। অভিযোকারীর অভিযোগ ১০ শতাংশ জমি ডায়মন্ড চিকস্ লিঃ অতিরিক্ত রেজিষ্ট্রি ও দখল কওে নেয়। এই প্রতারণার দায়-দায়িত্ব ডায়মন্ডকেই বহণ করতে হবে বলে জমি বিক্রেতা আফতাব উদ্দিন মাষ্টার জানান। তিনি বলেন, প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ডায়মন্ড চিকস্ লিঃ ভূয়া চেক দিয়ে জমি রেজিষ্ট্রেশন করে নিয়ে ৪০,০০,০০০ (চল্লিশ লক্ষ) টাকা আত্মসাৎ করার পায়তারা করছে। পৈতৃক ভিটা-মাটি হারিয়ে আফতাব উদ্দিন মাষ্টারের পরিবার অন্যের বাড়িতে ভারাটিয়া হয়ে আছে।
ডায়মন্ড চিকস্ লিঃ ও ডামন্ড ফিডস্ এন্ড গ্রেইন্স এর প্রতারণা এখানেই শেষ নয়। জমি-জমা জাল-জালিয়াতি করে নেওয়ার অভিযোগ এনে মোতাহার গং-ডামন্ড ফিডস্ এন্ড গ্রেইন্স এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাওসার আহম্মেদ নির্বাহী পরিচালক মীর মোঃ আলিমুজ্জামান ও ম্যানেজার আব্দুর রবকে বিবাদী করে গাজীপুর জেলার জজ আদালতে মামলা করেন। কাপাসিয়ার সাপাইশ্রীর আব্দুল কুদ্দুস মিয়া উজুলি মৌজার আরএস ৭ নং খতিয়ানভুক্ত আরএস ৪২৭৩ ও ৪২৭৫ নং দাগে ৭% জমি ক্রয় কওে বসবাস কওে আসছিলেন। ডায়মন্ড চিকস্ লিঃ ও ডামন্ড ফিডস্ এন্ড গ্রেইন্স জমি ক্রয় না করে কোন টাকা পয়সা না দিয়েই ঘর বাড়ি ভাঙ্গচুর করে জোর পূর্বক জমি দখল করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এবিষয়ে কাপাসিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়, যার নং-৩৮১।
জাল-জালিয়াতি ও ভূয়া চেকের মাধ্যমে জমি রেজিষ্ট্রি করে জমি বিক্রেতাকে জমির মূল্য না দিয়ে বলপূর্বক জমি দখলের বিষয়টি জানতে ডামন্ড ফিডস্ এন্ড গ্রেইন্স এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নির্বাহী পরিচালককে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ডামন্ড ফিডস্ এন্ড গ্রেইন্স ম্যানেজার আব্দুরবের সাথে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি সত্য নয় বলে জানান। আফতাব উদ্দিন মাষ্টারের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে জানা যায়, ডামন্ড ফিডস্ এন্ড গ্রেইন্সই প্রতারণা করে আমাকে না জানিয়েই ১০ শতাংশ জমি অতিরিক্ত লিখে নিয়েছেন, যার মূল্য প্রদত্ত চেকে সংযোক্ত হয়নি, এটা ভূমিদস্যুতার সামিল। আমার জমি বিক্রয়ের ৪০,০০,০০০(চল্লিশ লক্ষ) টাকা আত্মসাৎ করার পায়তারা করছে ঐ ডামন্ড ফিডস্ এন্ড গ্রেইন্স। এ বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে স্বচিত্র প্রতিবেদন পরবর্তী সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here