১৬ ডিসেম্বরে ভারতীয় রাষ্ট্রপতির আগমনে সীমান্ত হত্যা ও পানির আগ্রাসন নিয়ে বাংলাদেশের নীরবতায় হতাশা ব্যক্ত করেছে আধিপত্য প্রতিরোধ আন্দোলন

0
492

আজ ৯ জানুয়ারি ২০২২ (রোববার) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আধিপত্য প্রতিরোধ আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মওলানা শওকত আমীনের সভাপতিত্বে “সীমান্ত হত্যা বন্ধ, পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় এবং আধিপত্যবাদী আগ্রাসন রোধের দাবিতে” এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২১ বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ভারতীয় রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের আগমনে সীমান্ত হত্যা ও পানির আগ্রাসন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের নীরবতায় হতাশা ব্যক্ত করেন।
আধিপত্য প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বলেন, বছরের শুরু ১লা জানুয়ারিতে বিএসএফ বাংলাদেশী হত্যা করে তাদের নতুন বৎসর উদযাপন করেছে। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এবং সীমান্তে বাংলাদেশী কয়েকজন নাগরিককে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ গুলি করে হত্যা করে, লাশ নিয়ে যায় এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকে। অথচ রাষ্ট্র, সরকার, তথাকথিত সিভিল সোসাইটি, টকশো’র তথাকথিত দেশপ্রেমিকরা নিশ্চুপ। যা খুবই হত্যাশাব্যঞ্জক। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ৭ জানুয়ারি বিশ্বব্যাপী ফেলানী দিবস (নিরাপদ সীমান্ত দিবস) পালন করতে হবে। ফেলানীসহ অভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র হাতে নিহত ও আহত সকলের আন্তর্জাতিক তদন্ত করে হত্যাকারীদের বিচার করতে হবে। ফেলানী হত্যার সুষ্ঠু বিচার না হলে সীমান্ত হত্যা বন্ধ হবে না।

তাঁরা বলেন, সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি ও দিল্লির প্রতি আনুগত্যই দেশের নাগরিক হত্যার মূল কারণ। বিবেকবানরা যখন চুপ থাকে, রাষ্ট্র তখন দায়িত্বহীন হয়ে পড়ে। সীমান্ত হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের নির্লিপ্ত ও নিশ্চুপ থাকা সন্দেহজনক। এতে প্রমাণ হয় তারা এদেশে থেকে দিল্লির আনুগত্য করে। মাঝে মাঝে শোনা যায় দিল্লির শুধু অনুগত নয় বেতনভোগীরাও এদেশে মিডিয়াতে টকশো করে বেড়ায়। সীমান্ত হত্যা, পানির আগ্রাসন, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, নির্বাচনে ভারতীয় হস্তক্ষেপ এবং উহাদের ভূমিকায় এই অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয়। জাতিকে এখনি সজাগ হয়ে অস্তিত্ব রক্ষা করতে হবে।

আধিপত্য প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বলেন, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশে আগমনের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সরকারের বাধা, হামলা—মামলার ফলে সরকার দিল্লীর অনুগত বলে প্রতীয়মান হওয়ায় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণের সুদৃঢ় ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। ঘাতক মোদীর আগমনের প্রতিবাদে আন্দোলন চলাকালীন পুলিশের গুলিতে শহীদদের জাতীয় বীর ঘোষণা করতে হবে। ঐ আন্দোলনে গ্রেফতার হওয়া দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ছাত্র ও যুব নেতৃবৃন্দের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করছি।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আধিপত্য প্রতিরোধ আন্দোলনের সদস্য সচিব মোহাম্মদ শামসুদ্দীন, বাংলাদেশ মুসলিম সমাজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাসুদ হোসেন, নিজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি ওবায়দুল হক, ন্যাশনাল সবুজ বাংলা পার্টির চেয়ারম্যান শাহ আলম তাহের, ওয়ার্কার্স পার্টি (এম) এর কেন্দ্রীয় নেতা বিধান দাস, আধিপত্য প্রতিরোধ আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক এয়াকুব শরীফ, যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফুল হক, নাগরিক ছাত্র ঐক্য’র নেতা মোঃ শামীম, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক জোটের চেয়ারম্যান  মোঃ খাইরুল ইসলাম দেওয়ান প্রমুখ।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here