সৌদি প্রবাসী রহিমা বেগম সুখী হতে চায়

0
756

মোজাহারুল ইসলাম/জাকির হোসেন সুজন
নীলফামারীর জলঢাকায় নাম ধারী পাষান্ড স্বামীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে বিদেশে গিয়ে গৃহকর্মীর কাজ করে সুখী হতে চায় এক গৃহিনী। উপজেলা খুটামারা ইউনিয়নের কিসামত বটতলা গ্রামের মৃত আজগার আলীর ছেলে আজিজার রহমানের সাথে  ২৫ বছর পূর্বে একই গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের এক মাত্র মেয়ে রহিমা বেগম (বর্তমান বয়স ৪৫ বছর) পারিবারিক আলোচনায় বিয়ে হয়েছিল। আজিজার রহমানের সাথে সংসার জীবনে রহিমা বেগমের দুই ছেলে সন্তান, বড় ছেলে রুবেল (১৮) ছোট ছেলে জুয়েল (১৩)। রহিমা বেগমের সুখের সংসারে আগুন দিয়েছিল কু-মতলবী এক ধর্মের বাবা। একই ইউনিয়নের বামনা-বামনী গ্রামের মৃত আফছার আলীর ছেলে মোখলেছার রহমান, আতœীয়তার সুবাদে রহিমা বেগমের স্বামী আজিজারের বাড়ীতে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করত। এরই এক পর্যায়ে ধর্মের মেয়ে সম্মোধন করে রহিমা বেগমকে। মোকলেছার রহমান কৌশলে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তার প্রথম স্ত্রী থাকা সত্বেও ধর্মের মেয়ে রহিমা বেগমকে নিয়ে পালিয়ে যায়। রহিমার ভাই রবিউল ইসলাম জানান,“আমার একমাত্র বোন রহিমা দুই ছেলের মা, তার সুখের সংসার ভেঙ্গে খানখান করে দেয় মোকলেছার রহমান। সে (মোখলেছার) রহিমা বেগমকে নিয়ে পালিয়ে যায় এবং দীর্ঘ এক বছর বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে। এ লজ্জার অপবাদে আমার ওই ভগ্নীপতি আজিজার রহমান অন্যত্র চলে যায়। পরে, জানতে পারি মোকলেছার রহিমাকে বিয়ে করেছে এবং মোকলেছারের সাথে সংসার করা কালীন রহিমার একটি সারে চার বছরের ছেলে আছে। তিনি আরও জানান, মোকলেছার রহিমার সাথে বিয়ের বৈধ কাগজ দেখাতে পারে নাই। তাই সৌদি যাওয়ার সময় রহিমার পূবের্র স্বামী আজিজার রহমানের পরিচয়ে আমরা তার (রহিমা) পাসপোর্ট ভিসা করেছি এবং সে আমার নামে ব্যাংক একাউন্ট করেন। এক মাস, ৫দিন হলো আমার বোন রহিমা সরকারি খরচে সৌদি আরব গেছে। তিনি আরও জানান, রহিমা বেগম সৌদি আরব যাওয়ার দিন তাকে বিদায় জানাতে মোকলেছার রহমান ঢাকা বিমান বন্দরে গিয়েছিলেন। পরে সে যখন জানতে পারে, তার নামে কোন একাউন্ট করেন নাই এবং সে বিদেশ থেকে আমার নামে টাকা পাঠাবে। বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে মোকলেছার রহমান আমার বোনের নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেন।  রহিমার বিধবা মা রঞ্জনা বেওয়া জানান, আমার মেয়ের প্রথম সংসার ভেঙ্গেছে মোকলেছার রহমান এবং তার স্বামীর বাড়ী থেকে রহিমাকে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। আমি জানতে পারি মোকলেছার কাজী অফিসে বিয়ে রেজিষ্ট্রি না করে কোর্টে এফিডেভিট করেছে। বর্তমানে তার সংসারে একটি ছেলে আছে। ছেলে এবং আমার মেয়ের কোন খোঁজ খবর নেয় না মোকলেছার। উল্টো কিভাবে রহিমা বেগমকে বিদেশ থেকে ফিরে আনা যায় সেই ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। রহিমা বিদেশ যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত তার সাথে ছয়দিন মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে আমার। সে গৃহ কর্মীর কাজ পেয়েছে এবং ভাল আছে। সে বিদেশে থেকে টাকা রোজগার করে ভবিষ্যৎ জীবনে সুখী হতে চায়। কোর্ট এভিডেভিটের মাধ্যমে রহিমাকে বিয়ের কথা স্বীকার করে মোকলেছার রহমান জানান, কাজী অফিসে আমাদের বিয়ে রেজিষ্ট্রি হয় নাই।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here