শ্রীনগর(মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ পাগলী বলে স্বামী পায়নি,হয়নি সংসার। কেন তবে গর্ভে এল মাতৃত্বের আহ্লাদ। নাকি আবার জন্ম নিল যিশু ভগবান! কে করল তার এ সর্বনাশ? মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখান বাজারে শুয়ে থাকা সেই পাগলীটা মা হয়েছে। তবে বাবা হয়নি কেউ। পাগলী হলেও থেমে থাকেনি তার যৌবন। থেমে থাকেনি তার প্রসব ব্যথা।
দীর্ঘ দিন ধরে সিরাজদিখান বাজারের বিভিন্ন স্থানে মানসিক ভারসাম্যহীন এ নারী ঘুরে বেড়াত। গত ২০ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাতে এক ফুটফুটে কন্যা সন্তান জন্ম দিয়ে মা হয়েছেন। জানাযায়, সিরাজদিখান উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ রাত ১১ টায় দিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন জানাতে যাচ্ছিলেন। ঠিক সে সময় তার চোখে পড়ল রাস্তার পাশে এক পাগলী একটি কন্যা সন্তনকে জন্ম দিয়ে নিজের ফুলটি নিজেই ছেড়ার চেষ্টা করছিল। ওই মুহুর্তে উপজেলা চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন গাড়ি থেকে নেমে রাত ১১ টায় দিকে পাগলীকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে পাঠায়। তিনি শহীদ মিনারে গিয়ে বিষয়টি উপস্থিত সকলকে জানালে, সিরাজদিখানে নব্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশফিকুন নাহার পুস্প¯তবক অর্পন শেষ করে সাথে সাথে রাতেই সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিনাত ফৌজিয়া ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের ইনচার্জ ডাঃ বদিউজ্জামানকে সাথে নিয়ে মা ও শিশুকে দেখভালের দায়িত্ব নেন। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি করে বিশেষ কেয়ারে রেখেছেন বলে নিশ্চিত করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশফিকুন নাহার বাচ্চাটির নাম রাখেন কামরুন নাহার কথা। পরের দিন সকালে হাসপাতারে গিয়েও তিনি বিভিন্ন খোজ খবর নেন। মা ও শিশু দুজনই সুস্থ আছেন। এসময় তার সাথে ছিলেন, সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ফরিদউদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান এড. আবুল কাশেম প্রমুখ। তবে পাগলীর মেয়ে সন্তানটি দত্তক নেয়ার জন্য অনেকেই আগ্রহী বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। মানুষিক ভারসাম্যহীন ঐ নারীর নাম রুপা। তার বাড়ী নেত্রকোনা জেলায় বলেও জানা গেছে। সর্বনাশাদের হাত থেকে কি পাগলীও রেহাই পাবে না? কে করবে এদের বিচার? কে দেখবে এ সন্তানকে? এ শিশুটি কাকে ডাকবে বাবা? কি হবে তার পিতৃ পরিচয় ? আসলে কি এরা মানুষ নাকি পশু এ টাই প্রশ্ন সচেতন মহলের।

