ষ্টাফ রিপোর্টারঃ সাভারের হেমায়েতপুরে ফুটপাতে পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজির জেরে ফুসে উঠেছে এলাকাবাসী সহ স্থানীয় কাঁচামালের ব্যাবসায়ীরা। এর প্রতিবাদে গত ৩১ শে মে বুধবার সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক সংলগ্ন হেমায়েতপুর বাসস্টান্ডে ঐক্যবদ্ধ হযে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে বাবসায়ীরা। এসময় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, হেমায়েতপুর বাসস্টান্ড সহ আশেপাশের প্রত্যেকটি ফল ও কাঁচামালের দোকান থেকে প্রতিদিন ৪০০-৫০০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করেন সাভার মডের থানার ট্যানারী ফাড়ির পুলিশের উপঃ পরিদর্শক মোঃ শাহ আলম। কোন ব্যাবসায়ী চাঁদা না দিলে এই পুলিশ কর্মকর্তা ব্যাবসায়ীদের ধরে নিয়ে মারধর করা সহ মিথ্যা মামলায় ফাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করেন। এক পর্যায়ে অতিষ্ট হয়ে ব্যাবসায়ীরা ঐ পুলিশ কর্মকর্তার বিচার ও অপসারনের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। মানববন্ধনের ঘটনায় ট্যানারী পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোঃ গোলাম নবীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান। এই দিকে অভিযোগ পাওয়া যায় গত ৩১শে মে ব্যাবসায়ীদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের পর ট্যানারী পুলিশ ফাড়ির এই চাঁদা আদায়তো বন্ধ হয়নি বরং চাঁদা আদায় নিয়ে চলছে নানা নাটকীয়তা। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে ক্ষুব্ধ হয়ে ফুটপাতে বিচ্ছিন্নভাবে দোকান করা ব্যাবসায়ীদের আটক করে মোটা অংকের টাকা আদায় করছেন এসআই শাহ আলম। বর্তমানে ঐ পুলিশ কর্মকর্তা এলাকায় বাজার বসিয়ে আবারো শুরু করেছেন চাঁদা আদায়। নানা নাটকীয়তার পর পুলিশের এই উপঃ পরিদর্শক শাহ আলমের চাঁদাবাজির ধারাবাহিকতা আর স্থানীয় বাসিন্দাদের তোপের মুখে থেকেও তার বহাল অবস্থানে হতাশ এলাকাবাসী সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। গত ১৪ই জুন সন্ধায় সরেজমিনে এলাকাটি পরিদর্শনে দেখা যায় ২টি ভাগে বিভক্ত করে রবিন ও অজ্ঞাতনামা এক যুবক দ্বারা ব্যাবসায়ীদের নিকট হতে পুলিশের এই চাঁদা উত্তোলন করা হচ্ছে। চাঁদা উত্তোলনকারী যুবক রবিন পার্শ্ববর্তী মাওলানা মার্কেটের নিচ তলায় অবস্থিত একটি মুদি দোকানের মালিক। চাঁদা আদায়ের সময় একই ফাড়ির পুলিশের উপঃ পরিদর্শক মোঃ মামুন মোল্লাকেও সাদা পোশাকে সেখানে অবস্থান করতে দেখা যায়। অন্যদিকে পুলিশের এই চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে স্থানীয় তেতুলঝোড়া ইউনিয়নের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ও সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) জনাব ফখরুল আলম সমরের কাছে জানতে চাইলে তিনি এই বিষয়ে তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে বলেন, ”এসকল বিষয় কোনভাবেই গ্রহনযোগ্য না”। তিনি আরও বলেন, ”আমরা দেশের তৃনমূল পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মি হিসাবে এই দেশটিকে সুখি ও সমৃদ্ধশালী, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস মুক্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছি। যেখানে কোন সন্ত্রাস থাকবে না, থাকবে না কোন চাঁদাবাজ। এই দেশের জনগন শান্তিপূর্নভাবে তাদের শতভাগ নাগরিক অধিকার নিয়ে বসবাস করবে”। অন্যদিকে পুলিশ সদস্য কর্তৃক এহেন চাঁদাবাজির ঘটনায় দেশের ভবিশ্ব্যত পরিস্থিতি নিয়ে দারূন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক জনাব নাসিম আখতার হোসাইন। তিনি বলেন, ”পুলিশেরও কিন্তু জবাবদিহিতা আছে। আমি মনে করি এখন যে শাসন ব্যাবস্থা তা অনেকাংশেই পুলিশের উপর নির্ভরশীল। সেই কারনেই এখন পুলিশের ক্ষমতা বেড়ে গিয়েছে। এইজন্য পুলিশ যখন কোন সাধারন মানুষের উপর অত্যাচার করে, চাঁদাবাজি করে, তখন তারা এটা ভাবেনা যে এই কর্মকান্ডের জন্য তাকে কোথাও জবাবদিহি করতে হবে। আর ফুটপাতে দোকান করা যাবে না এটা একটা নিয়ম কিন্তু আমাদের মত গরীব দেশে যেখানে মানুষ যেকোন প্রকারে বাচতে চায়, এবং আমাদের দেশে যেহেতু কর্মসংস্থানের অভাব সেহেতু বাচার তাগিদেই কিন্তু ছোট ছোট ব্যাবসা করে মানুষ তার জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু আমাদের দেশে দেখা কিছু পুলিশ সদস্য এইসব ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে চাঁদা আদায় করে, তাদের মারধর করে আর এই দুটোই করে তাদের ক্ষমতা জাহির করার জন্য। এসকল বিষয়ে অবশ্যই সরকারকে সচেতন হওয়া উচিৎ এবং স্থানীয় প্রশাসন সহ জনপ্রতিনিধিদেরও উচিৎ এসকল সাধারন মানুষের পাশে এসে দাড়ানো”। তিনি এই বিষয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিকট আহ্বান জানিয়ে বলেন, ” পুলিশ বাহিনী যেন দ্রুতই তাদের যে সাধারন মানুষের বন্ধু হওয়ার কথা, যা তারা তাদের স্লোগানেও ব্যাবহার করে থাকে, সেই জায়গাটিতে যেন ফিরে আসে। নৈতিকতার জায়গায় বৃত্তের মধ্যেই যেন তারা বাস করে। তা নাহলে পুলিশ যেহেতু এতটা ক্ষমতার অপ্যব্যবহার করছে সেহেতু অতিশীঘ্রই সরকারের উচিৎ দেশের অন্যতম এই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের যথাযথ স্থানে ফিরিয়ে আনা। অন্যথায় এই অবস্থার জন্য আগামীতে দেশের সরকারও দারূনভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে”। (সুত্র- অপরাধ বিচিত্রা)
