কামরুল হাসানঃসাভার পৌর এলাকার রাজাশনে দখল কৃত জমি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয় আদালতের নির্দেশনা মেতাবেক পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে।রবিবার দুপুরে রাজাশন এলাকার পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন মার্কেটে জমির মালিক ব্যবসায়ী আব্দুস সোবহান-এর করা মামলার রায় অনুযায়ী আদালতের নির্দেশনানুযায়ী সরকারী আদেশে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়।তবে দীর্ঘ তিন ঘন্টাব্যাপী অভিযানের সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে একাদিক লোকজন আহত হয়েছে। এ সময় গুরুতর আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানে নিয়োজিত পুলিশ সদস্য দুই পক্ষকে সামাল না দিতে পারায় আদালতের দেওয়া নির্দেশনানুযায়ী চলমান অভিযান স্থগিত করতে বাধ্য হয়।
এ সময় দায়িত্ব প্রাপ্ত জেলা জজ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট রানা হামিদ জানান,নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ না থাকায় এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি’র চরম অবনতির আশংকায় পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত নালিশী ২৪ শতাংশ জমিতে লাল পতাকা দিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে কোন পক্ষই পরবর্তী আদেশ না দেয়া র্পযন্ত জমিতে দখল বা অবস্থান করতে পারবেন না। অবৈধ উচ্ছেদ অভিযানের সময় সাভার পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাভার পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সেলিম মিয়ার অবৈধ দখলকৃত সম্পত্তি ও সামনের মার্কেট খালি করে দেন আদালত থেকে নির্দেশনা পাওয়া জমির মালিক ব্যবসায়ী সোবাহান মিয়া। বিকেল তিন টার সময় সেলিম মিয়া দলবল নিয়ে ঘটনাস্থলে আসলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এসময় উচ্ছেদ অভিযান বন্ধে কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম মিয়া ও তার লোকজন লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাধার সৃস্টি করে।এসময় সোবাহান মিয়া ও তার স্বজনরা বাধা দিতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আদালতের লোকজন, ম্যাজিস্ট্রেট ও পর্যাপ্ত পুলিশের সামনেই তাদের লোকজনকে হাতুড়ি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পেটানো হয়। এ সময় পুলিশ নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করে। তিনি বলেন, আদালতে আওয়ামী লীগ নেতা কাউন্সেলর গংদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত তার ৪ টি মামলার রায় পাওয়ার পর গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের আদেশ মোতাবেক পুলিশের একজন এস আই, একজন এএসআই ৫ জন নারী কনেসটেবল ও ২০ জন পুরুষ কন্সেটেবলসহ একটি পুলিশ ফোর্স জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের তত্বাবধানে সেখানে যায়। প্রথমে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ মেকাবেক অভিযান শুরু হলেও পরে আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম মিয়া ও তার সশস্ত্র দলবল সেখানে গেলে উচ্ছেদ অভিযান পন্ড হয়ে যায়। সাভার মডেল থানার এসআই তারিকুল জানান, মজিদপুর নিবাসী সিএস, এসএ ও বিআরএস রেকর্ডীয় ১৫৬৭ নং দাগের ২৪ শতাংশ জমির প্রকৃত মালিক আব্দুস সোবহান বিগত ০৩ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯ ইং সালে ক্রয় করে বাড়ী ঘর নির্মানের পর সেখানে বসবাস করে আসছিলেন। তিন বছর আগে আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম মিয়া উক্ত জমির অংশীদার দাবী করে তা দখল করে নেন। এর পর আব্দুস সোবহান তার জমির মালিকানা দাবী করে আদালতে দেওয়ানী মামলা করেন। এ ছাড়াও বিবাদী পক্ষরাও আব্দুস সোবহানকে বিবাদী করে সাভার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ১৩২ নম্বর দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন যাহা পরবার্তিতে খারিজ হয়ে যায়। এ ব্যাপারে সেলিম মিয়া উচ্ছেদকৃত জমিটি’র দাগ ও সোবহান মিয়ার জমির দাগ এক না, তাদের সম্পত্তি অণ্যস্থানে থাকায় তারা তাদের ক্রয়কৃত জমিতে এসে এর মালিকানা দাবী করছে। এ বিষয়ে আব্দুস সোবহান বলেন, তার আড়াই কোটি টাকার সম্পত্তি জবর-দখলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই প্রায় তিন বছর আগে তারা দখল করে নেয়।
Advertisement

