সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ ক্যান্সার মাওলানা ক্বারী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান

0
1119

সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামালীগ, কেন্দ্রীয় কমিটি
ইসলাম কায়েম এর ধুয়া তুলে মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের শিখানো পদ্ধতি পরিহার করে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের মাধ্যমে যারা পৃথিবীতে দাঙ্গা, অশান্তি, জনমনে ভীতি, আতঙ্কে ও বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে, তাদের সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত ইসলামের স্পষ্ট নির্দেশ হচ্ছে-‘যারা আল্লাহতা’য়ালা ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং আল্লাহর যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টির অপচেষ্টা করে, তাদের  জন্যে নির্দিষ্ট শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদের হত্যা করা হবে কিংবা তাদের শুলবিদ্ধ করা হবে।

Advertisement

ইসলামী অঙ্গনে একটি সুপরিচিত নাম মাওলানা ক্বারী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। একজন বিজ্ঞ হক্কানী আলেম, ইসলামী স্কলার, টিভি ব্যক্তিত্ব, লেখক, গবেষক ও সংগঠক। বাংলাদেশের অসংখ্য মসজিদ-মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক। কাজ করছেন মানুষের অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ নিয়ে। বিশেষ করে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখছেন ন্যাশনাল কুরআন স্টাডি সোসাইটির ব্যানারে। জঙ্গিবাদ শক্ত ভীত্ গড়া প্রসঙ্গে মাওলানা ক্বারী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, জঙ্গিবাদ,  সন্ত্রাসবাদ নতুন কোন বিষয় নয়। ক্ষমতা দখল, সম্পদ দখল ও প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তারের উদ্দেশ্যে সা¤্রাজ্যবাদপুষ্ট উগ্র সন্ত্রাসী তৎপরতা সেই যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। বলা যায়, আজকের আধুনিক বিশ্বে এটা ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে। সা¤্রাজ্যবাদ নিজেদের স্বার্থে কখনো আইএস, আল-কায়েদা, কখনো তালেবান কিংবা কখনো জেএমবি নামে জঙ্গি বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠি সৃষ্টি করে। আবার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে নির্মূলে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বর্তমানে তাই চলছে।
কুরআন ও সুন্নাহ কি এই বর্বরতা পন্থা সমর্থন করে? এ প্রশ্নের জবাবে মাওলানা ক্বারী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, পৃথিবীতে ইসলামই হলো একমাত্র জীবন ব্যবস্থা, যে জীবন ব্যবস্থায় অসহনশীলতা, অসহিষ্ণুতা, গোঁড়ামী, সাম্প্রদায়িকতার কোনো স্থান নেই। আর জঙ্গিবাদ কিংবা সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনের তো কোন অপশনই ইসলামে নেই। ইসলাম অর্থ শান্তি। যে কাজে মানুষের শান্তি বিনষ্ট হয় নিরপরাধ মানুষের প্রাণ হরণ করা হয়, সেটাকে ইসলাম সমর্থন করে না। অন্যদিকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিনে মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম যে বিচার করা হবে, তা হবে তাদের মধ্যে সংঘটিত রক্তপাত ও হত্যার বিচার। বোখারী, মুসলিম) তাই জঙ্গিবাদকে জঙ্গিবাদ হিসেবেই দেখতে হবে। ইসলামের সাথে এটা জুড়ে দেওয়া উচিত নয়।
ইসলামি শরিয়া আইনে জঙ্গিদের শাস্তি সম্পর্কে মাওলানা ক্বারী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ইসলাম কায়েম করার ধুয়া তুলে মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের শিখানো পদ্ধতি পরিহার করে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের মাধ্যমে যারা পৃথিবীতে দাঙ্গা, অশান্তি, জনমনে ভীতি, আতঙ্ক ও বিপর্যয় সৃষ্টি করছে, তাদের সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত ইসলামের স্পষ্ট নির্দেশ হচ্ছে-‘যারা আল্লাহাতা’য়ালা ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং আল্লাহর যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টির অপচেষ্টা করে, তাদের জন্যে নির্দিষ্ট  শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদের হত্যা করা হবে কিংবা তাদের শূলবিদ্ধ করা হবে, অথবা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত-পা কেটে ফেলা হবে, কিংবা দেশ থেকে তাদের নির্বাসিত করা হবে; এই অপমানজনক শাস্তি তাদের দুনিয়ার জীবনের জন্যে।
দেশকে জঙ্গি ও মাদকমুক্ত করতে মাওলানা ক্বারী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এর পরামর্শ হলো জঙ্গি বাদকে চিরতরে নির্মূল করতে হলে সরকারকে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। একই সাথে হক্কানী আলেমদেরও এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের নেতৃত্বে রাখতে হবে। প্রয়োজনে আলেম ওলামাদের নিয়ে সর্বদলীয় কমিটি গঠন করতে হবে এবং সবার মতামতের ভিত্তিতে কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে। বাংলাদেশকে জঙ্গি কবলিত দেশ নয় বরং গণতান্ত্রিক ও শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবেই বিশ্ব দরবারে পরিচিত করতে হবে। তাহলে আমাদের রক্তে কেনা স্বাধীনতা অর্থবহ হবে।
আলেম-উলামাগণ নবী করীম (সা.)-এর ওয়ারিস। ১৪শ বছর আগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত হক্কানী উলামায়ে কেরাম সমাজে ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কুরআন ও হাদীসের মর্ম বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ফেৎনা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে সরব ভূমিকা পালন করছেন। কাজেই তারা ব্যর্থ হবে কেন? ব্যর্থ তো তারাই যারা নিজেদের দোষ-ত্রুটি আড়াল করে ব্যর্থতার গ্লানি আলেমদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে সমাজে হিরো বনতে চায়। বাহবা কুড়াতে ব্যস্ত।
জঙ্গিবাদ আর ইসলাম দু’টো ভিন্ন জিনিস। ইসলামী জঙ্গিবাদ এটা পাশ্চাত্য মিডিয়ার একটা আওড়ানো বুলি ছাড়া কিছু নয়। তারপরও যেহেতু ইসলামের নাম নিয়ে কতিপয় ভ্রান্ত গোষ্ঠী সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। তাই তাদের হাত থেকে দেশ, জাতি ও ইসলামকে রক্ষা করা সকল আলেমদের জন্য আবশ্যক। কাজেই আলেম-ওলামা, ইমাম, খতিব, মাদরাসার শিক্ষক যারা ইসলামের খেদমতে নিয়োজিত রয়েছেন স্ব স্ব অবস্থানে থেকে খুৎবা, বয়ানে জোরালো যুক্তি দিয়ে বলতে হবে জঙ্গিবাদ সমাজের জন্য একটা ক্যান্সার। ইসলামে এর কোন স্থান নেই। কুরআন-হাদীসের বরাতে এটা জনসম্মুখে তুলে ধরতে হবে। এর কুফল সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে। ছোট-খাট মতবেধ ভুলে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে, সম্ভব হলে উপজেলা পর্যায়ে সেমিনার, সিম্পোজিয়ামেরও আয়োজন করা যেতে পারে। আশা করা যায়, বেশ সুফল পাওয়া যাবে। জনগণ ইসলাম ও জঙ্গিবাদের পার্থক্য নির্ণয়ে সঠিক ধারণা লাভ করবেন।

লেখক: প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান
ন্যাশনাল কোরআন স্টাডি সোসাইটি
মাওলানা ক্বারী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান
বিশিষ্ট ধর্মীয় আলোচক।
মোবাইল: ০১৯১১৯০৯৩৪০

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here