-সৈয়দ মাওলানা মোহাম্মদ ইমদাদুল্লাহ আব্বাসী পীর সাহেব জৈনপুরী (বড় ভাইজান হুজুর) পাঠানটুলী, সিদ্দিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, আধাত্মিক ও শারীরিক সূচিকিৎসক
১৯৭১ সালে বাংলাদেশর স্বাধীন তার জন্য যাঁরা লড়াই সংগ্রাম করেন, তাঁদের অনুপ্রেরণা ছিল ঐক্যবদ্ধ জনগোষ্ঠীকে নিয়ে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠন। ধর্মনিরপেক্ষতা ধর্মহিনতানয় বরং যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। তবে একটা অংশ ছিল এর বিরুদ্ধে, যাদের কাছে ধর্মই ছিল প্রধান। স্বাধীনতারপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেক মুজিবুর রহমান ও তাঁর রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ একটি ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র গঠনের পথেই ছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর বাংলাদেশ উল্টো পথে হেঁটেছে।
আইএস ও আল-কায়েদা এই দুই জঙ্গিগোষ্ঠীই বাংলাদেশে তাদের কর্মকা- বিস্তৃত করতে চাইছে। আবার সংগঠন দুটির মধ্যে বিরোধের বিষয়টিও এড়িয়ে যাওয়া যায় না। আইএস তাদের প্রোপাগান্ডায় বারবার বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করেছে। আর আল-কায়েদা আস্ত একটি ভিডিও বাংলাদেশের নামে উৎসর্গ করে বলেছে, দেশটির মুসলমানদের উচিত ‘ধর্মত্যাগী’ শাসকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন নামা।
কিন্তু বাংলাদেশের অবস্থান মধ্যপ্রাচ্য থেকে অনেক দূরে। এই মধ্যপ্রাচ্যেই ইসলামিক স্টেটের মূল কর্মকা- চলে। বাংলাদেশের অবস্থান যে দক্ষিণ এশিয়ায় সেখানে আইএসের কখনোই শক্ত উপস্থিতি ছিল না। পক্ষন্তরে আল-কায়েদা প্রতিষ্ঠিত হয় এই দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তানে এবং ১৯৯৬ সাল থেকেই তাদের সেখানে স্থায়ী উপস্থিতি রয়েছে। আল-কায়েদা মনে করে, কৌশলগত কারণে দক্ষিণ এশিয়াই তাদের অস্তিত্বের জন্য বেশি উপযোগী।
২০১৪ সালে আল-কায়েদা নেতা আয়মান আল জাওয়াহিরি সংগঠনের নতুন একটি শাখা খোলার ঘোষণা দিয়ে বলেন, এর নাম হবে আল-কায়েদা ইন সাউথ এশিয়া (আকিসা)। তিনি আরো বলেন, আফগানিস্তান থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত চলবে আকিসার কর্মকা-। অবশ্য এ পর্যন্ত আকিসা তাদের উপস্থিতি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ কি পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের সক্ষমতা রাখে? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশটির নিরাপত্তা এজেন্সিগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন গুরুত্বপূর্ণভাবে অবদান রেখেছে। নানা বিতর্ক থাকলেও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র্যাব) তাদের কাছ থেকে কিছু সহায়তা পেয়েছে সর্বশেষ এনটিটারিরিজম গঠন করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কিছু নজর কাড়তে সক্ষম হলেও বিশ্বের নীতিনির্ধারকদের আগ্রহ কমই জাগাতে পেরেছে; যদিও বাংলাদেশ নামের এই ভূখ- এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। বাংলাদেশ বিশ্বের মুসলিম সংখ্যাগুরু দেশগুলোর অন্যতম। গুলশান রেস্টুরেন্ট, নারায়ণগঞ্জ, শোলাকিয়া ময়দান, গাজিপুর ও কল্যানপুর, হামলার এ ঘটনা যেভাবেই শেষ হোক, ঢাকা ও আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের জন্য বিষয়টি অস্বীকার করা কঠিন হবে যে ইসলামের নামে উগ্রবাদী সন্ত্রাসের হুমকিটি বাংলাদেশের জন্য বড় হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ জঙ্গিদের তৎপরতা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে জঙ্গিবাদের নতুন ছক গড়ে ওঠায় বাংলাদেশেও তার প্রভাব পড়ছে। ইসলামিক স্টেট বা আইএস-এর সঙ্গে এখানকার জঙ্গিরা নতুনভাবে যুক্ত হচ্ছে।
ভারতের জঙ্গিদের সঙ্গেও বাংলাদেশের জঙ্গিদের সম্পর্ক অনেক পাকাপোক্ত। তবে বাংলাদেশ জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট করলেও যুক্তরাষ্ট্রের আইএস-বিরোধী যুদ্ধে জড়াবে না বাংলাদেশ।
সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৯তম অধিবেশন চলাকালেই বাংলাদেশকে ওবামার পক্ষ থেকে আইএস বিরোধী যুদ্ধে অংশ নেবে না। তবে জাতিসংঘের নেতৃত্বে সিরিয়া বা ইরাকে কোনো মানবিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে তাতে অংশ নিতে বাংলাদেশের আপত্তি নেই, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান এভাবে স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।
গুলশান এবং শোলাকিয়ার জঙ্গি হামলা দমনে জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার যেভাবে সফল হয়েছেন তা দেখে দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বে একটা অনন্য নজির হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অদ্যাবধি মিডিয়াসহ সারাদেশে টক অব দ্য কান্ট্রি হলো জঙ্গিবাদ এবং জঙ্গি দমন নিয়ে সরকার সফল হবে তো? প্রসঙ্গেক্রমে চলে আসে ইসলামের হেফাজতে শেখ হাসিনা সরকার এবং আজকের প্রেক্ষাপট মিডিয়ার পজেটিভ নেগেটিভ নানান সংবাদ এবং বিশ্লেষণ আমরা দেখেছি যার কিয়দংশ সঙ্গত কারণে এ লেখায় তুলে এনছি। এরই প্রেক্ষিতে বলবো, সত্য কখনো চাপা থাকে না। শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যেমন যায় না তেমনি একজন ধার্মিক রাষ্ট্রনায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইসলামের ও মুসলমানের কল্যাণে এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে যত অবদান রেখেছেন। তা আজ জাতির সামনে পরিষ্কার হয়ে গেছে। তারই পথ ধরে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ইসলামের জন্য যত কাজ করেছেন তা কেউ কল্পনাও করতে পারে নি। বাস্তবতা বড় নিষ্টুর। ধর্ম ব্যবসায়ীরা এসবের মোকাবেলায় এগুতে না পেরে জঙ্গিবাদ আমদানী করে সরকারকে ক্ষমতা থেকে হঠাতে ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। আমরা পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি আইএস, আল কায়েদা, হিজবুত বা জঙ্গি এগুলো কিছুই নয়। পানি ঘোলা করে জননেত্রীকে ইসলাম বিরোধী হিসেবে দেখিয়ে যেনতেন পন্থায় ক্ষমতায় যাওয়াই তাদের উদ্দেশ্য। কিন্তু ওরা জানে না আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা পিতার ন্যায় অন্যয়ের সাথে কখনো আপস করেন নি। ধর্মের জন্য মানুষের কল্যাণে দেশের তরে তিনি তার জীবনকে উৎসর্গ করে দিয়েছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যই একটি গোষ্ঠীর সর্বশেষ ব্যর্থ প্রচেষ্টা জঙ্গি হামলা। আর তার জীবন বাজি রাখা সিদ্ধান্তের সফল বাস্তবায়নই তাকে আরো আত্মপ্রত্যয়ী করে তুলেছে। একজন পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রনায়ক তিনি। ধর্মকে নিয়ে যারা ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার বানিয়েছেন তাদের চিহ্নিত করাও তার জন্য কোন ব্যাপারই নয়। তাই তো তার নেতৃত্বে বিশ্ব নেতারা প্রত্যয় ব্যক্ত করে বাংলাদেশের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে তাকে ববিষ্যৎ সফলতার পথে হাঁটার উৎসাহ যুগিয়েছেন। এ কথা আমরা নির্দ্ধিধায় বলতে পারি বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়েও আমাদের দেশে জঙ্গি দমনে জননেত্রী শেখ হাসিনা সফলতার যে নজীর দেখেয়েছেন তা অনুপ্রেরণায় অন্যন্য। ইসলাম প্রিয় আম জনতা আশা করছে ইসলামের কালজয়ী শিক্ষা যার বুকে সেই মহান রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাই পারবেন জঙ্গিমুক্ত করে বাংলাদেশকে আসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে উপহার দিতে।
লেখক: উপদেষ্টা
ন্যাশনাল কোরআন স্টাডি সোসাইটি
আধাত্মিক ও সারীরিক সূচিকৎসক
মোবাইল: ০১৯১৯৭৫০৪০৬

