তথ্যপ্রযুক্তি আইনে টাঙ্গাইলের সখিপুরের স্কুলছাত্র সাব্বির সিকদারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দেয়া সাজার রায় অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সখিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ওই স্কুলছাত্রকে মুক্তির নির্দেশও দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এই আদেশ দেন। টাঙ্গাইল-৮ আসনের সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহানকে নিয়ে স্কুলছাত্র সাব্বিরের একটি মন্তব্যের জেরে গত ১৭ সেপ্টেম্বর তাকে দুই বছরের সাজা দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালনকারী সখিপুর ইউএনও। গত ২০ সেপ্টেম্বর একটি ইংরেজি দৈনিকে বয় জেলড ফর এফবি কমেন্ট অ্যাবাউট এমপি শীর্ষক শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনের সংসদ সদস্য অনুপম শাজাহান জয়কে ফেসবুকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। এ ঘটনায় করা জিডির প্রেক্ষিতে সখিপুর থানার পুলিশ উপজেলার প্রতিমা বনিক পাবলিক হাইস্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাব্বির সিকদারকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করলে তাকে দুই বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়। এই প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করলে হাইকোর্ট স্বত:প্রণোদিত হয়ে সখিপুর উপজেলার টিএনও মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং ওসি মাকসুদুল আলমকে তলব করেন। তলব আদেশে গত ২৬ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় আদালতে হাজির হন ইউএনও এবং ওসি। তাদের উপস্থিতিতেই দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত কিশোর সাব্বিরের বক্তব্য শুনতে চায় হাইকোর্ট। শুনানি শেষে হাইকোর্ট ১৮ অক্টোবর আদেশের জন্য দিন ধার্য করে দেয়।

