মাদকে ভাসছে বাংলাদেশ প্রতিরোধে সোচ্চার চুনারুঘাট

0
1374

মাদকের সাথে কোন আপোষ নেই
…………অফিসার ইনচার্জ, নির্মলেন্দু চক্রবর্তী
মাদকের বিরুদ্ধে ফেসবুক ষ্ট্যটাসের অপব্যাখ্যা ভুল বুঝাবুঝি, চুনারুঘাট থানায় তথ্য প্রযুক্তি আইনে হবিগঞ্জ জেলাতে প্রথম মামলা

Advertisement

মাদক শব্দের সাথে আমরা সকলেই পরিচিত। এটি দেশের এক ভয়াবহ সমস্যা হিসাবে দেখা দিয়েছে। সারাদেশের উঠতি তরুন প্রজন্ম মাদকের গ্রাসে নিমজ্জিত। দেশের জঙ্গি প্রতিরোধ যতটাই সহজ ঠিক ততটাই কঠিন এর প্রতিরোধ। ভারত থেকে আসা ফেনসিডিল, অফিসার্স চয়েস, হুইস্কি, বিয়ার, হিরোইন সহ নানা প্রকার মাদক এখন আমাদের বন্ধু প্রতিম দেশ ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। ভারতের বিএসএফ এর সহযোগিতায় চোরাচালানী চক্র প্রতিনিয়ত অবাধে রাতের আধারে বাংলাদেশ ঘেরা সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করছে এই মাদক। কখনো কখনো বন্ধু প্রতিম ভারতের সিমান্ত প্রহরী বিএসএফ এর সদস্যদের সাথে আমাদের সীমান্ত প্রহরী বিজিবির বৈঠকে এ ব্যাপারে আপত্তি জানালেও বিএসএফ শুধু এ বিষয়টি দেখবেন বা সহযোগিতা করবেন বা মাদক যাতে সিমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে তার আশ্বাস দিয়ে থাকেন কিন্ত বাস্তবে ভারতের বিএসএফ এর বন্ধুরা কার্যত তা করেন না। প্রকারান্তরে অন্ধকারে মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করে থাকেন। আর এই মাদকের করাল গ্রাসে ধ্বংস হচ্ছে আমাদের যুব সমাজ। অপরাধ বিচিত্রার অনুসন্ধানী ঈগল টিম এই মাদকের বিষয়ে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকার বাল্লা সিমান্ত এলাকায় ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে যে তথ্যচিত্র পেয়েছে তারই বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে এই প্রতিবেদনে। অনুসন্ধানে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানা এলাকার সমাজ সেবক, জনপ্রতিনিধি, এলাকার মেম্বার, চেয়ারম্যান, সাধারন লোকজন, স্থানীয় সাংবাদিক, চা বাগানের শ্রমিক, কর্মচারী কর্মকর্তা বিজিবির দায়িত্বরত কর্মকর্তা সহ সমাজের সর্বস্তরের ব্যাক্তিগনের অভিজ্ঞতা, ফেসবুকের মাধ্যমে প্রতিবাদ প্রতিরোধের আহবান আবেগ অনুভুতির বিষয়েও স্থান দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। এলাকার সকলেই প্রকাশ্যে গোপনে ভারত সিমান্ত এবং বাংলাদেশ সিমান্ত অর্থাৎ হবিগঞ্জের বাল্লা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা মাদকের বিষয়ে প্রতিরোধে সোচ্চার। তথাপিও কেন মাদক ঠেকানো যাচ্ছে না তা এ প্রতিবেদনে ঠাই পেয়েছে। মাদক নিয়ে অপরাধ বিচিত্রার ধারাবাহিক প্রতিবেদন এবার হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানা এলাকা নিয়ে।mg-09
ভোর পাঁচটায় ঈগল টিম রাজধানী ঢাকার গন্ডি পেরানোর জন্য যার যার জায়গা থেকে তৈরি। গাড়ি যথারীতি অপরাধ বিচিত্রা কার্যালয় থেকে শুরু করে ঈগল টিমের প্রত্যেক সদস্যকে যার যার অবস্থান থেকে উঠাতে থাকে। বেলা প্রায় আনুমানিক দশ ঘটিকার পরেই আমরা প্রথমে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট  থানায় প্রবেশ করি। থানায় ঢুকেই অফিসার ইনচার্জ নির্মলেন্দু চক্রবর্তীকে পেয়ে কুশলাদি বিনিময়। থানা এলাকাটি বিশাল সজ্জিত। পরিবেশটা খুবই চমৎকার। এরকম পরিবেশের থানা বাংলাদেশে প্রায় নাই বললেই চলে। ইতিপুর্বে এ থানায়ই আমরা গিয়েছিলাম, তখন এটি টিনশেডের একটি পুরানো গোছের থানা ছিল। জায়গাটা বিশাল পরিসরের হলেও অগোছালো ছিল। এমন পরিপাটি ছিল না। পরিপাটির বিষয়টি প্রথমে আলাপে উঠে আসে। বর্তমান অফিসার ইনচার্জ নির্মলেন্দু চক্রবর্তী রুচিশীলতার উদ্দ্যোগেই থানা কম্পাউন্ডটি আধুনিকতার ছোয়া লাগে। একই সাথে বিভিন্ন পদক্ষেপের মাঝেও এলাকার অশিক্ষিত, অসহায় মানুষ যাদের কেউ নেই তাদের জন্য থানা ভবনের বাইরে গাছের নীচে বসার স্থান তৈরী করে দিয়েছেন। এছাড়াও পেয়ারা বাগান, আম বাগান, লেবু বাগান, ফুল বাগান, সার্বক্ষনিক পরিচর্যার মাধ্যমে একটি পর্যটন থানায় রুপান্তর করতে পেরেছেন। এক কথায় চুনারুঘাট থানার ওসিকে দেখে এতটুকু বলা যায় যে পুলিশ হয়তো এখন মানুষের বন্ধু। মুলত এই ওসির আচরন কথাবার্তা মানুষের প্রতি যে মানবিক মুল্যবোধ সচেতনতা তা তার সাথে না বসলে বুঝা যাবে না। দুর থেকে পুলিশ মানে যা যা আসলে তা নয়। একজন ভালো মানুষের ভালো দিকগুলো বলতে আমরা অনেক সময় কাপন্য করি কিন্তু আমরা যদি ভালো মানুষকে ভাল না বলি তা হলে ভাল মানুষ সৃষ্টি হবে না। আবার ভালো খারাপ এর পার্থক্যও বুঝা যাবে না। আবার কখনো কখনো দু একজন অসাধু পুলিশের কারনে পুরো পুলিশ ডিপার্টমেন্টের বদনাম সইতে হয়। সে যাই হোক আমাদের অনুসন্ধানের বিষয় “মাদকে ভাসছে বাংলাদেশ”-  প্রেক্ষিত চুনারুঘাট। এ চুনারুঘাটের গুরুত্ব এ কারনে যে ভারত সীমান্ত বেষ্টিত চুনারুঘাট দিয়ে প্রচুর মাদক অস্ত্র সহ অন্যান্য অনেক দ্রব্য সামগ্রী বাংলাদেশে প্রবেশ করার ইতিপুর্বেকার অভিজ্ঞতা। হবিগঞ্জে ইতিপুর্বে অনেক অস্ত্র উদ্ধার করেছে র‌্যাব পুলিশ। সে তথ্য প্রচার বহুল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারও পেয়েছে ।

চুনারু ঘাটে প্রবেশের পরই থানা চেম্বারে পাওয়া গেল ওসি সাহেবকে। পরস্পর কুশল বিনিময়, পরিচয় পর্ব শেষ হতেই সহজ সাবলিলভাবে থানার রুপ সৌন্দয্যের বিষয়টি ওঠে আসে আলোচনায়। এলাকার আইন শৃংখলা জঙ্গি, সন্ত্রাস, চাদাবাজি, সাধারন মানুষের বৈশিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা প্রভৃতি বিষয়ে ওয়ান টু ওয়ান আলোচনা হয়। ওসি সাবলিলভাবেই সব বিষয়ে অপরাধ বিচিত্রার ঈগল টিমকে সার্বিক বিষয়ে অবহিত করেন। তিনি জানান চুনারুঘাট থানায় যোগদানের পর থেকে চোরাচালান প্রতিরোধে তথা মাদক প্রতিরোধে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তথাপিও দীর্ঘদিনের যে রেওয়াজ মাপিয়া চক্র  বা মাদক ব্যবসায়িরা সীমন্তের নানা ফাকফোকর দিয়ে তারা এ কাজটি করে থাকে। প্রতি মাসেই এলাকার জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে সভা হয় সেখানে এ মাদকের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আলোচনা হয়। এ ছাড়াও এলাকার সাধারনে মানুষও নানাভাবে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলে, ফেসবুকে ষ্ট্যাটাস দেয়, আবার এই সোশ্যাল মিডিয়া ফেস বুকে ষ্ট্যাটাস দেয়ার বিষয়ে আবেগ অনুভুতিতে একটি মামলারও উদ্ভব হয়েছে। অফিসার ইনচার্জ, নির্মলেন্দু চক্রবর্তী উক্ত মামলার আসামী আহমেদ আলী সম্পর্কে বলেন, তিনি গাজিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। এলাকায় তিনি সমাজ সেবক হিসাবেই পরিচিত। তার অতিত কর্মকান্ড এলাকার প্রতি মানবিক। কোন প্রকার অনৈতিক কর্মকান্ডের কোন রেকর্ড থানায় নাই। তার জানা মতে আহমেদ আলী একজন ভাল মানুষ।
আবার একই সাথে উক্ত এলাকার নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির খান। তিনি ও এলাকার একজন ভাল মানুষ হিসাবে পরিচিত। অনেক এলাকায় দেখা যায় মাদক চোরাচালান, বা খারাপ লোক এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে জনপ্রতিনিধি হয় উনি সে ধরনের লোক নন। দুজনের কারোর বিরুদ্ধেই অতীত কর্মকান্ডের খারাপ কোন রেকর্ড থানায় নই। দুজনকেই চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ নির্মলেন্দু চক্রবর্তী ভাল লোক হিসাবে শনাক্ত করেছেন।
তথাপিও মামলা কেন?
এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানিয়েছেন যে, তথ্য প্রযুক্তির নতুন আইনে মামলাটি হয়েছে ফেইসবুক স্ট্যাটাস এর ভিত্তিতে। সেটির আইডেন্টিফিকেশনের জন্য উর্ধŸতন কতৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। যথাযথ নিয়ম অনুসারে এগোচ্ছে। ফেইসবুকে কারোর মান হানি হয়েছে কিনা বা যে পোষ্টটি শাহ আব্দুল করিমের বলা হচ্ছে সেটিও আব্দুল করিমের কিনা তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কর্তৃক নির্ধারিত হওয়ার পরে বিধি মোতাবেক আদালত ব্যবস্থা নিবে। থানার যা কর্তব্য থানা সে বিধি মোতাবেক কাজ করছে। থানা কারোর পক্ষ হয়ে কিছু করবে না। আবার বাদী বিবাধী যদি কোন আপোষ মিমাংসা করে থানায় আসে তা হলেও আমদের যা করনীয় শান্তি শৃংখলার স্বার্থে আমরা তাই করব। থানা এলাকার শান্তি শৃংখলা বজায় রাখা মাদক নির্মুল করাই থানার
প্রধান লক্ষ্য।
বিভিন্ন সভা সমাবেসে মাদকের বিরুদ্ধেই সকলেই সোচ্ছার। ওসি আরো জানালেন বাল্লা সীমান্তে বিজিবির একটি ফাড়ি রয়েছে তারাও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে খুবই তৎপর। তাদেরও অনেক মাদক উদ্ধারের রেকর্ড রয়েছে। ওসি বললেন এলাকার এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, স্থানীয় মেয়র, বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেম্বারগনও মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলেন এবং কেউই কোন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করলে তার জন্য কোন তদবির করেন না। তিনি কখনা কোন মাদক ব্যবসায়ীর জন্য কোন জনপ্রতিনিধিকে থানায় ফোন করা বা ছাড়িয়ে নিতে দেখেননি বলে জানিয়েছেন। মাদকের অভিযানে অনেক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে নিয়মিত মামলাও করেছেন এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এক কথায় চুনারু ঘাটের থানার ওসিকে চুনারু ঘাটের জনগনের বন্ধু বলা যায়। থানার কনষ্টেবল থেকে শুরু করে এ এস আই, এস আই সবাই ওসি সাহেবের উপর সন্তুষ্ট এবং প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এলাকায় কোন জঙ্গী কর্মকান্ড নেই বলে জানান এবং এ ব্যপারে তারা খুবই সতর্ক। কিছু সমস্যা যেমন সব এলাকাতেই রয়েছে তেমনি চুনারুঘাট থানার জনগনেরও কিছু সমস্যা রয়েছে। যেমন এলাকার বেশিরভাগই লন্ডন সহ বিদেশে থাকে সে সুবাদে জায়গা জমি নিয়ে কোন বিরোধ থেকে অন্যজনকে ফাসানোর জন্য ডাকাতির আবহে ফাসানোর চেষ্টাও করে থাকে। এ ধরনের কিছু সমস্যা সব থানা এলাকার মধ্যেই বিরাজ করে। এলাকায় টুক টাক কিছু সমস্যা ছাড়া মোটামুটি শান্তই বলা যায়। ব্রামনবাড়িয়া এলাকায় যেমন একটু ঝগড়াকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় টেটা, দা, কুড়াল নিয়ে বের হয়ে এসে পুরো এলাকা ব্যাপি খুনাখুনি করে চুনারুঘাটে সে ধরনের কোন পরিস্থিতি নেই।

mg-06
১নং ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান
হুমায়ুন কবির
এর বক্তব্যঃ

চুনারুঘাট থানার ১নং গাজিপুর ইউনিয়নের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির। পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি নিজ এলাকায় মেসার্স আকিব ব্রিকস এর স্বত্বাধিকারী। এ ছাড়াও হুমায়ুন কবির ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এর সভাপতি। দীর্ঘাদিন যাবৎ তিন স্থানীয় রাজনীতির সাথে জড়িত। প্রধান মন্ত্রী পেশখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি প্রচন্ড আস্থাশীল এবং দলের প্রতি চরম আনুগত্য রেখে এলাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড, জনগনের সুবিধা অসুবিধা, জনগনের চাহিদা, অবকাঠামো উন্নয়নে আন্তরিক। আমরা যখন তার মোবাইল ফোনে কথা বলি তখন তিনি একটি স্থানীয় শালিসে ব্যস্ত ছিলেন। স্থানীয় উপজেলার চেয়ারম্যান, পাশ্ববর্তী ২ নং আহমেদাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবেদ হাসান সন্জু, স্থানীয় ইউপি আঃ লীগের সভাপতি যিনি স্কুলের অভিঞ্জ অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন, তিন বারের নির্বাচিত প্রাক্তন চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ, স্থানীয় মেম্বার সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তি সহ এলাকার জায়গা জমিন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে শালিশে বসে ব্যস্ত ছিলেন। এর মাঝেও অপরাধ বিচিত্রার ঈগল টিমকে  সময় দেন। এলাকায় নানাবিধ সমস্যা বিষয়ে অবহিত করেন। এলাকার উন্নয়ন, সমস্যা, সমাধানের উপায়, মাদক, ডাকাতি, আইন শৃঙ্খলা প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা করেন। হুমায়ুন কবিরও এলাকার মাদক সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ভারত সীমান্ত হওয়ায় বাল্লা সিমান্ত দিয়ে প্রচুর মাদক চালান আসে চুনারুঘাট এলাকায় এবং দেশের বিভিন্ন যায়গা স্থানান্তর হয়। এতে করে এলাকার যুব তরুন সমাজ সহ বিভিন্ন এলাকার করুন যুব সমাজ আসক্ত হওয়ায় তিনি উদ্ধেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি আরো জানিয়েছেন এলাকার বেশির ভাগ মানুষ মাদকের বিরোধীতা করলেও কতিপয় দৃষ্কৃতিকারী মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় খানা পুলিশ অভিযান করেও অনেক মামলা দিচ্ছে, মাদক উদ্ধার করছে, আবার আইনের ফাকফোকরে মাদক ব্যবসায়ীরা জামিনে এসে আবারো মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। মাদকের ব্যাপারে হুমায়ুন কবির বরাবরই আপোষহীন বল নিজেকে দাবী বরেছেন এবং যতদিন বেচে থাকবেন ততদিনই মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্বক প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।
ফেইসবুক ষ্ট্যটাস নিয়ে মামলার বিষয়ে এক প্রশ্নে জবাবে তিনি আহমেদ আলীকে তার সিনিয়র চাচা হিসাবে সন্মান করে কথা বলেছেন এবং পজেটিভ দৃষ্টি ভঙ্গি নিয়েই কথা বলেছেন। তথাপিও কেন এ মামলা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন যে ফেইস বুক ষ্ট্যাটাসে তাকে জড়িয়ে যে লেখা প্রকাশ হয়েছে এতে এলাকায় অনেকেই তাকে প্রশ্ন করেছেন এবং মোবাইলে জানতে চেয়েছেন, অনেকেই মনে করেছেন যে তিনি সাথে জড়িত ফলে তার মান হানী হয়েছে এবং ভাবমুর্তি নষ্ট হয়েছে। ফলে তিনি তথ্য প্রযুক্তি ধারায় মামলা করেছেন।
মামলায় আরো উল্লেখ করেছেন ইতিপুর্বেও তিনি এ ধরনের ষ্ট্যটাস দিয়েছেন। কিন্তু তারা তখন কোন প্রতিবাদ করেননি। ফলে পর্যায়ক্রমে এ ধরনের স্ট্যটাস এর বিরুদ্ধে তিনি মামলা করেছেন।
২নং আহমেদাবাদ ইউনিয়নের দুই বারের নির্বাচিত জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান আবেদ হাসান সঞ্জুর বক্তব্য
আবেদ হাসান সঞ্জু ২নং আহমেদাবাদ ইউনিয়নের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান। এলাকায় তার জনপ্রীয়তাও বেশ তুঙ্গে। মাদকের বিরুদ্ধে বেশ উচ্চস্বরেই কথা বলেন। খুব উদ্যমী বলেই মনে হয়েছে। যে কোন ব্যাপারে পিছু হটতে রাজি নন। এলাকার ব্যাপারে খুবই সচেতন। তিনিও চুনারুঘাটের অন্যতম সমস্যা হিসাবে মাদককে সনাক্ত করেছেন। তিনি প্রস্তাব রেখেছেন ভারতের মত বাংলাদেশেও যদি বাল্লা সিমান্তে কাটা তারের বেড়া নির্মান করা যায় তাহলে মাদকমুক্ত চুনারুঘাট প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। এলাকায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের উপর গুরুত্ব দেন। জনগনকে সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতা বাড়াতে মাদক বিরোধী প্রচার প্রচারনার উপর গুরুত্ব দেন।

mg-18
শালিশে উপস্থিত জনগনের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় জনগনও মাদক বিরোধী মনোভাবা সম্পন্য। তারা বলেছেন থানার লোকজন মাদক ব্যবসায়িদের সহযোগিতা করে থাকে। কারন মাদক ব্যবসায়ীদের ধরার কয়েকদিন  পরেই জামিনে এসে আবারো তারা মাদক ব্যবসা করে। এছাড়াও এলাকায় নতুন নতুন মাদক ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করতে দেখা যাচ্ছে সাধারন মানুষ মাদক ব্যবসায়ীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। ভয়ে মুখ না খুললেও কেউ কেউ দু একজন অসাধু জনপ্রতিনিধির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তারা বলছেন এদের নাম বললে এলাকা থেকে তাদের চলে যেতে বাধ্য করা হবে বা তাদেরকে প্রানেও শেষ করে দিতে পারে। প্রশাষন নাকি সব জানে কিন্তু তারা প্রভাবশালী হওয়ায় থানাও নাকি তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা রহস্য জনক কারনে। বার বার নাম জিঞ্জাসা করেও উপস্থিত জনগনের কাছ থেকে নাম প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। তবে একজন বলেছেন উক্ত প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি উক্ত শালিশেই উপস্থিত রয়েছেন। জনগনের ধারনা পুলিশ চাইলে চুনারুঘাটকে মাদক মুক্ত করা সম্ভব। কিন্তু থানা পুলিশ রহস্য জনক কারনে তা করছেনা।
থানা পুলিশের
ভিন্ন মন্তব্য
থানা পুলিশ আবার মাদকের বিষয়ে ভিন্ন মন্তব্য করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ বলেছেন স্থানীয় দলীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় মাদক ব্যবসা চলে। ফলে থানা পুলিশের ইচ্ছা থাকা স্বত্বেও মাদক নির্মুল করা সম্ভব হচ্ছে না।  আবার এসব প্রভ্শাালীদেরতো হাতে নাতে ধরারও সুযোগ নেই। তাদের আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে রাজনৈতিক শেল্টারেও মাদক ব্যবসা চলে। এগুেেলা বলার ক্ষমতাতো আমাদের নেই। বললে আমাদের চাকুরি যাবে। মাদক ব্যবসায়ীরা সবসময়ই থানা পুলিশকে পাহারা দিচ্ছে। কখন কোথায় থানা পুলিশ অভিযনে যাচ্ছে কোথায় কার অবস্থান মাদক ব্যবসায়ীরা তা আগে থেকেই খোজ খবর রাখছে। স্থানীয় কোন কোন রাজনৈতিক নেতার আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে মাদক ব্যবসা চলছে বলে তারা মন্তব্য করেছেন। থানায় মাদক বহনকারী গাড়ি সহ আটক গাড়িও দেখিয়েছেন। তিনটি গাড়ি দেখা গেছে যেগুলোকে মাদকসহ থানা পুলিশ আটক করেছে। তারা আরো মন্তব্য করেছেন যে মাদক প্রতিরোধ করা শুধু পুলিশের দায়িত্ব নয়, এলাকার জনপ্রতিনিধি শুশীল সমাজ, জনগন প্রতিরোধে আন্তরিক হলেই তা সমুলে উৎপাটন করা সম্বব হবে।
এ বক্তব্যকে ইঙ্গিত করে এলাকার কয়েকজন ব্যক্তির সাথে মত বিনীময় করলে তারা মনতব্য করছেন যে পুলিশ ইচ্ছা করলেই মাদক নির্মুল করা সম্ভব। পুলিশ কখনো কখনো মাদককে সহযোগিতা করে। এমন মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া হেছে এলাকাবাসির কাছে।
তাই মাঝে মাঝে জনগনকে নিয়ে মাদক সম্পর্কে থানা কতৃপক্ষ সভা সমাবেশ করা উচিৎ। তাহলে পুলিশ জনগনের প্রতিক্রিয়া সরাসরি জানতে পারবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা সম্ভব হবে।
ফেইসবুক ষ্ট্যটাসে থানায় তথ্য প্রযুক্তি আইনে প্রথম মামলা
মাদক সম্পর্কে ফেসবুকে সমাজ সেবক আহমেদ আলীর ষ্ট্যটাস

সাংবাদিক নুরুল আমিন যিনি ফকির আমিন নাম ফেস বুকে অতি জনপ্রিয়। বাল্লা সীমান্ত সুনাম অর্জিত হয় দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও পবিত্র মানবীয় সামাজিক কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ, অসামাজিক অধর্মী ও অন্যায় কাজে বাধা প্রধানের মাধ্যমে।এই যে মাদক বাল্লা সীমান্ত দিয়ে আসে সেখানে মাদক পাচার সামাজিক কমিটিগঠন করেআইনি সহায়তায় মাদক সম্রাটের মুল উৎপাটন করাইতো এলাকার রাজনৈতিক নেতা চেয়ারম্যান মেম্বার শিক্ষক ও গন্যমান্য ব্যাক্তিদের কাজ। গাজীপুর ইউনিয়ন এর ক্ষমতাশীন দল আওয়ামীলীগের ইউনিয়ন সেক্রেটারীর বাড়ির ১০০০ গজের মধ্যে বর্ডার গার্ড মাদকের পাচার পয়েন্ট। মাদকের দালালচক্রদের আড্ডাখানা। যেখানে মাদক থাকে সেখানে জুয়া পতিতাবৃত্তি তার উপসর্গ হিসাবে থাকেই। সেই সেক্রেটারী সাহেবের বাড়ির পার্শে স্কুল আছে, মসজিদ আছে দুইটি, বন্ধুক নিয়া পাহারায় ২৪ ঘন্টা আছে বর্ডার গার্ড। তা হলে কিভাবে এতো মাদক ভারত থেকে আসে। উনিতো শুধু সেক্রেটারীই নন একজন সিনিয়র বা উচ্চ মানের শিক্ষক বলে দাবী করেন, উনি বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ প্রেসিডেন্ট অফ ইউনিয়নের দক্ষিণ হস্ত- আমার জিজ্ঞাসা হলো আওয়ামীলীগ সেক্রেটারী ও উচ্চমানের শিক্ষক ও সভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান জনাব এ মালেক ও হুমায়ুন খানের কাছে- আপনারা এলাকার দায়িত্ববান সিনিয়ার ব্যাক্তিবর্গ। জনাব উচ্চ মানের শিক্ষকের কম হলেও হাজার ছাত্র দলীয় কর্মী আছে তা হলে আপনাদের ইঙ্গিত বা চোখ বুজে থাকার কারনেই  কি মাদক পাচার হয়। মাদক কি বন্ধ হবে না?। আপনারা আর আপনাদের ছাত্রলীগের সিন্ডিকেটরা কি এই মাদক ব্যবসার লাইসেন্স প্রদান করেছেন? নতুবা এত মাদক তো আসার কথা নয়। দেখুন আজ আপনাদের ছাত্রলীগের কোনো নেতার মায়ের চোখের আহাজারী শুনছেন হয়তো দলের ক্যাডার বানানোর জন্য শাসন না করে খাতির করছেন, একদিন আপনাদের সন্তানসন্তাতির জন্যে সেই রকম আহাজারি করবেন। অপেক্ষায় থাকুন ক্ষমতা চিরস্থায়ী হয় নাই কারো। এই ছিলো ফেসবুক ষ্ট্যাটাস।
এছাড়াও আরেকটি ষ্ট্যটাস এর কথা উল্লেখ করে মামলা করেছেন মোঃ হুমায়ুন কবির খান। তিনি মামলায় লিখেছেন উপরে উল্লেখিত ফেইসবুক ষ্ট্যটাস এর সাথে একই দিন আরেকটি ষ্ট্যটাস দিয়েছেন জনাব আহমেদ আলী। যেটি আহমেদ আলীর ফেইস ষ্ট্যটাস নয় বলে দাবী করেছেন আহমেদ আলী। তিনি জানিয়েছেন সিলেটের প্রয়াত প্রখ্যাত বাউল শিল্পি শাহ আঃ করিমের ফেসবুক আইডি থেকে নিয়ে আহমেদ আলীর ছবি বসিয়ে হীন উদ্দেশ্যে ফাসানোর জন্য করা হয়েছে। এতে আহমেদ আলীর ভাবমুর্তি নষ্ট করার জন্যই করা হয়েছে। আমি এও বিশ্বাস করি যিনি চেয়ারম্যান উনার পিতা বেচে থাকলে এই মামলা করতে পারতেন না। তবে স্থানীয় গাজীপুর হাইস্কুল এন্ড কলেজের কিছু অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে উনি ফেসবুকে মতামত রেখেছেন। নিজে উদ্যোগী হয়ে শতাধিক গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের দস্তখন সমন্বিত স্কুল অধ্যক্ষ বরাবর স্থানীয় টিএনও বরাবর পত্র দিয়েছেন। এমনকি আদালতে একটি মামলারও স্বাক্ষী হয়েছেন। উক্ত বিষয়ে ক্ষুদ্ধ হয়েই উনাকে এই মামলায় জরানো হয়েছে বলে মনে হয়। ঈগল টিমকে এ বিষয়ে তদন্তের অনুরোধ করেছেন।
শাহ মোঃ আঃ করিমের ফেইসবুক
ষ্ট্যটাসে কি লেখা ছিল
ফেসবুকঃ আমি কখনোই আসমানী খোদাকে মান্য করি নাই। মানুষের মধ্যে যে খোদা বিরাজ করে আমি তাহার চরনেই পুজো দেই। মন্ত্র পড়া ধর্ম নহে কর্মকেই ধর্ম মনে করি। লাখ লাখ টাকা খরচ করে হজ্ব পালনের চেয়ে এই টাকাগুলো দিয়ে দেশের দুঃখি দরিদ্র মানুষের সেবা করাটাকে অনেক বড় মনে করি। প্রচলিত ধর্ম ব্যবস্থা আমাদের মধ্যে সমপ্রদায়গত বিদ্বেস তৈরী করে দিয়েছে। কতিপয় হীন মোল্লা পুরুত আমাদের ভাইয়ে ভাইয়ে বিভাজন নিয়ে এসেছে। আর বিভাজনই যদি ধর্ম হয় সেই ধর্মের কপালে আমি লাথি মারি।
ফেসবুক ষ্টাটাস সম্পর্কে আহমেদ আলীর বক্তব্য
চুনারুঘাট থানাধীন গাজীপুর ইউনিয়নের গোবরখোলা গ্রামের বাসিন্দা বিশিষ্ট সমাজ সেবক, ব্যবসায়ী আহমেদ আলী। তিনি গাজীপুর হাই স্কুল এন্ড কলেজকে উনার বাবা খোরশেদ আলীর নামে একটি ভবন নির্মান করে দিয়েছেন। যুব সমাজের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আসাম পাড়া বাজার, জারুলিয়া বাজার ও গনকির পাড় মল্লিকাবানু হাই স্কুলে তিনটি পাঠাগার নির্মান করে দিয়েছেন। তিনি গাজীপুর হাইস্কুলের আজীবন দাতা সদস্য।
ফেসবুক ষ্ট্যটাস সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান ভারতের খোয়াই জেলার সীমান্ত এলাকা বাংলাদেশের চুনারুঘাট থানাীন বাল্লা সিমান্ত। খোয়াই নদী হয়ে সর্বদাই মদ, গাজা, ফেন্সিডিল, ইয়াবা সহ নানা মাদকদ্রব্য সর্বদাই বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।এই প্রাননাশী মাদকের থাবাতে আমার নিজ পরিবারের সন্তান সহ এলাকার প্রতান্ত অঞ্চলের সমাজ মাদকাশক্ত হয়ে সামাজিক বিশৃংখলা সহ বিভিন্ন  প্রকার অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়ে পড়েছে।এই মাদক পাচার বন্ধ ও মাদক থেকে যুবশক্তিকে রক্ষার জন্য বিভিন্ন সময় এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের সমম্বয়ে সচেতনতামুলক আলোচনা সভা সহ  বিভিন্ন রকম মাদক বিরোধী প্রচার প্রচারনায় নিজেকে নিয়োজিত রেখে গত ………. ইং তারিখে আমার ব্যক্তিগত সামাজিক মাধ্যম আমার ফেসবুকে একটি মাদক বিরোধী ষ্টেটাস দিই। সেখানে প্রশ্ন আকারে লিখেছিলাম যে সরকারী দলের স্থানীয় আওয়ামীলীগ সভাপতি যিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত এলাকার চেয়ারম্যান, এবং সেক্রেটারীও একজন সিনিয়র স্কুল শিক্ষক উনাদের মত গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ এলাকায় থাকার পরও এলাকায় মাদক আসে কিভাবে? এই লেখাকে ভিত্তি করে আমাকে এই মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলার কারনে চেয়ারম্যান বাদী হয়ে আমার উপর হয়রানী মুলক তথ্য আইনের অপব্যবহার ও প্রয়োগ করে মামলা রুজু করেছেন। যা সম্পুর্ন হীন উদ্দেশ্যমুলক । তিনি বলেছেন যে ফেসবুক ষ্ট্যটাসে তিনি কাউকে দোষী করেন নাই বরং সন্মানের সহিত তিনি প্রশ্ন রেখেছেন মাত্র। এতে তিনি কাউকে খাটো করা, মান সন্মানে আঘাত করা, বা মাদক ব্যবসায়ী বলেন নাই বা তাদের শেল্টারে ব্যবসা হচ্ছে এমন কথাও তিনি বলেন নাই। আহমেদ আলী উল্লেখ করেছেন যে তিনি এলাকার জনপ্রতিনিধিকে জনপ্রতিনিধির মতই সন্মান করেন। তিনি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন যে বিষয়টি সঠিক নিরপেক্ষ তদন্ত  করলে বা ফেসবুক ষ্ট্যটাস ভাল করে পড়লেই পরিস্কার হয়ে যাবে । যে কেউ ষ্ট্যটাসটি দেখলে এর সত্যতা পাওয়া যাবে।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান
লুৎফর রহমান মহালদার
এর বক্তব্য
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান। এলাকার ব্যপক জনপ্রীয় ব্যাক্তি। তিনি মাদক এর বলেন এলাকার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সবসময়ই বিষয়টি আলোচনা করেন। ব্য্িতগতভাবেও মাদককে অপছন্দ করেন। মাদকের ভয়াবহতার বিষয়ে তিনি আত্কংবোধ করছেন। তিনি খুব সহজ সরল ভাবেই উপস্থাপন করে বলেছেন যে আমাদের দেশে জঙ্গি প্রতিরোধ করা যতটা সহজ, মাদক প্রতিরোধ করা ততটাই কঠিন। কারন প্রতিটি ঘরে ঘরে মাদক পৌছে গেছে। কি শিক্ষিত কি অশিক্ষিত, সবার ঘরেই মাদক পৌঝে গেছে। কার কাছে মাদক আছে কার কাছে নেই তা এখন বুঝতে পারা এক কঠিন ব্যপার। আগে মাদক দৃশ্যমান ছিল। এখন  মাদক দৃশ্যমান নয়। এখন একটি এক ইঞ্চির প্যকেটে ২০/৩০টি বা তারচেয়েও বেশী ইয়াবা রাখা যায় এবং শরীরের যে কোন যায়গায় লুকিয়ে রাখা যায়। কেউ যদি ৫০ পিজ ইয়াবা শরিরে লুকিয়ে ওসি শাহেবের সামনে বসেও থাকে, ওসি সাহেব তা কিভাবে বুঝবে যে তার পকেটে ইয়াবা রয়েছে। হুইুস্ক, বিয়ার শরিরে লুকিয়ে রাখা সম্ভব নয় ফলে এটি কেই বহল করলে বুঝা যায়। মাদকের ব্যপারে তিনিও তরুন প্রজন্ম নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। চুনারুঘাট থানায় তথ্যপ্রযক্তি মামলার বিবাদী আহমেদ সর্ম্পকে প্রশ্ন করলে তিনি জানান আহমেদ আলী একজন সাদা মনের মানুষ। এলাকার দানশীল পরিবারের লোক তিনি নিজেও এলাকায় তিনটি পাঠাগার তৈরী করে দিয়েছেন। তিনি প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে জড়িত।  তবে যতটুকু জানি যে এলাকার একটি স্কুল নিয়ে কিছু অনিয়মের বিষয়ে তিনি প্রতিবাদ করেছেন। সেখান থেকে কেউ ক্ষুদ্ধ হয়ে ফেইসবুক এর বিষয় নিয়ে মামলা করতে পারে। এটি হয়তো হয়রানীর জন্য করা হয়েছে।
চুনারুঘাট পৌর মেয়র
নাজিম উদ্দিন সামসু’র বক্তব্য
চুনারুঘাট পৌর মেয়র নাজিম উদ্দিন সামসু এলাকার জন্য নিবেদিত জন প্রিয় ব্যাক্তি। তিনি মাদকের বিষয়ে নিজেকে আপোষহীন।  তিনি বলেছেন যে চোরে শুনেনা ধর্মের কাহিনী। যারা মাদক ব্যবসা করে তারা মামলা মোকদ্দমা খেয়ে, জেল খেটে জামিনে আসার পরও তারা একই কাজ করে। তিনি বলেন আমি মাদক নিয়ে আমার সন্তানদের বিষয়েও চিন্তিত। কারন মাদক সমাজকে যে ভয়াবহ আকারে গ্রাস করেছে এর থেকে পরিত্রান এখন অনেকটা অসম্বব। তাই এক সমাজের সকল স্তর থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ না করলে এর থেকে নিস্তারের কোন উপায় নেই । যেমন মাদকের কারনেই এসবির পুলিশ ইন্সপেক্টর এর মেয়ে ঐশী তার বাবা মাকে হত্যা করেছে। এমন বহু উদাহরন আমাদের দেশে এখন পত্রিকার শিরানাম প্রায়ই দেখা যায়। প্রতিবেশী দে ভারত এবং বার্মা প্রতিনিয়ত আমাদের মেধে মাদক পাচার হয়ে আসছে। অপরাধ বিচিত্রা মাদকের বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ গ্রহন করেছে তার একমত পোষন করে অপরাধ বিচিত্রাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এখন প্রযুক্তির কারনে বাচ্ছাদের হাতে বা স্কলি পড়–য়া শীক্ষার্থিদের হাতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি ছড়িয়ে পড়েছে। এগুলোর প্রতি সবাবেিক সতর্ক হওয়ার আহবান জানিয়েছেন। মাদকের বিষয়ে স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কঠোর হবার আহবান জানিয়েছেন। আইন শঙ্খলা বাহিনী কঠোর হলেই মাদকের ভয়াবহতা কমে যাবে বলে মন্তব্য করেন। আহমেদ আলী সম্পর্কে বলেন তিনি এলাকার মেধাবী সন্তান। ভাল মানুষ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী। ফেইসবুকে ষ্ট্যাটান সম্পর্কে বলেন মাদকের বিরুদ্ধে ফেইসবুকে যে বক্তব্য দিয়েে

mg-29
বিজিবির বক্তব্য
বিজিবির কর্মকর্তা ………….জানিয়েছেন বাল্লা সিমান্তের
খোয়াই নদী দিয়ে মাদক পাচার হয়ে আসছে। তারা নিয়মিত টহল দিচ্ছেন এবং নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নিয়মিত মাদক দ্রব্য আটক করছেন। উক্ত কর্মকর্তা আরো জানিয়েছেন ১০অক্টোবর ২০১৬ ইং তিনি উক্ত সীমান্ত ফাড়িতে যোগদান করেছেন। তাদের যে জনবল রয়েছে তারা নিয়মিত টহল কার্যক্রম চালাচ্ছেন মাঝে মাঝে ভারতের বিএসএফ এর সদস্যদের সাথে মাদক পাচার এর বিষয়ে অভিযোগ করেন তারাও সহযোগিতার আশ্বাস দেন কিন্তু তারপরেও মাদক পাচারকারীরা বিজিবিকে পাহারা দিয়ে নানান সময়ে নানা জায়গা দিয়ে মাদক পাচার করে থাকে। চুনারুঘাট থানাধীন ৬টি ফাড়ি মাধবপুরে ৭টি ফাড়ি রয়েছে বিজিবির।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান
শাফিয়া খাতুন এর বক্তব্য
বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান  শাফিয়া খাতুন এ প্রতিনিধিকে চুনারুঘাট এলাকার মাদক  বিষয়ে জানান, আমরা প্রতিনিয়ত আইন শৃঙ্খলা কমিটিতে মাদক এর প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা হয়। মাদক প্রতিরোধের বিষয়ে আইন শৃঙ্খলা কমিটিতে প্রতিবাদ করা হয় কিন্তু বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখা যায় না। সীমান্তর্বর্তী এলাকা হওয়ায় ফেনসিডিল, ইয়াবা ব্যাপক হারে আসে। একটি ফেনসিডিলে ৮/৯ শত টাকা ব্যবসা হয়। এলাকার অনেকেই ভদ্রবেশী মুখোশধারী, তারা মুখে মুখে মাদকের বিরোধীতা করলেও প্রকৃতপক্ষে মাদক লালনে তারা বিশ্বাসী। ফলে মাদক প্রতিরোধ সম্ভব হচ্ছে না। আমরা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রশাসনকে বলতে পারি, কিন্তু তারা যদি এ ব্যপারে আন্তরিক না হয় তা হলে আমাদের তো আর করার কিছু নাই। আহমেদ সাহেব সম্পর্কে তিনি জানান যে আহমেদ সাহেবকে তিনি ভাল লোক হিসাবেই জানেন তিনিও মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার বলে জানান।

mg-03
১ নং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান
মৌলানা তাজুল ইসলাম এর বক্তব্য
১ নং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মৌলানা তাজুল ইসলাম বলেন আহমেদ সাহেব একজন ভাল লোক। এলাকার উন্নয়নে, মাদকের বিরুদ্ধে তিনি বরাবরই সোচ্চার। আহমেদ সাহেবের বাবা এলাকার একজন দানশীল ব্যক্তি। আহমেদ সাহেবও তিনটি পাঠাগার করে দিয়েছেন। এলাকার একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবাদ করায় পরিকল্পিতভাবে হীন উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এ মামলা করেছে। মুলত রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য এ মামলা করেছেন। যিনি মামলা করেছেন তিনিও এলাকার ভাল লোক। তবুও মামলা হুজুগে করে ফেলেছেন বলে তিনি মনে করেন। এ ব্যপারে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরী করে এলাকার মাদকের বিরুদ্ধে জনগনকে সচেতন ও প্রশাসনকে চাপ সৃষ্টি করে মাদক প্রতিরোধ করতে সাংবাদিকদের আহবান জানান। আসলে যিনি মামলা করেছেন তিনিআ ভাল বলতে পারবেন মামলাটি যে করেছেন বিষয়টি বুঝে করেছেন না না বুঝে করেছেন এটি মামলারবাদিই ভাল বলতে পারবেন।

মাদক পাচারকারী
বিজিবি, থানা পুলিশ, এলাকার জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় সাংবাদিক ও জনগনের মাঝে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে মাদক পাচারকারী হিসাবে যে নামগুলো উঠে এসেছে তার মধ্যে (১) মোঃ আসীম মিয়া সাং দুধ পাতিল,(২) মোঃ মজিদ মিয়া সাং দুধপাতিল (৩) মোঃ মকিয়ার সাং টেকেরঘাট (৪) মোঃ রমজান আলী সাং টেকেরঘাট (৫) মোঃ ওমর ফারুক সাং গাজীপুর (৬) মোঃ আবুল কালাম (৭) মোঃ হান্নান সাং গাজীপুর (৮) মোঃ কালা মিয়া সাং বাসুল্লা (৯) মোঃ কুদ্দুস মিয়া সাং গাজীপুর (১০) মোঃ মহরম আলী সাং টেকেরঘাট (১১) মোঃ ইমান আলী সাং মোঃ ইমান আলী সাং গাজীপুর।
মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে হত্যাকান্ড
…………..
স্থানীয় পত্রপত্রিকায় মাদকের চিত্র
……………….
স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া
…………………
হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের
সেক্রেটারী ফখরুল
ইসলামের বক্তব্য
মাদক নিয়ে কথা হয় হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সেক্রেটারী ফখরুল ইসলামের সাথে। তিনি জানান চুনারুঘাট ভারতের সীমান্ত এলাকায় খোয়াই জেলার খোয়াই নদী হয়ে চুনারুঘাটের বাল্লা সিমান্ত হয়ে ফেনসিডিল, ইয়াবা, হুইস্কি বিয়ার প্রভৃতি আসে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তদারিেকর অভাবে মাদক পাচারের শক্কিশালী ট্রানজিট হিসাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পৌছে যাচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীরা স্থানীয় সরকারের এবং প্রশাসনের অসাধু লোকজনের শেল্টারে থেকে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতেই এটি নিমুর্ল করা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে আইন শৃঙ্খলা কমিটিতে বছরের পর বছর আলোচনা করলেও কোন লাভ হবেনা। এ ক্ষেত্রে সাধারন মানুষের পক্ষে মাদক প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না। অপরাধিরা সরকারী দলের অসাধু কারো কারোর কাছাকাছি থেকে এই ব্যবসা করে। তাই সরকারী দলের নেতৃবৃন্দের আন্তরিকতার অভাব থেকে মাদক ব্যবসা চলে।
আজকের পত্রিকার সম্পাদক
সিনিয়ার সাংবাদিক
শফিকুল ইসলামে বক্তব্য
মাদক নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে হবিগঞ্জের সিনিয়ার সাংবাদিক আজকের পত্রিকার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন বাল্লা বর্ডার সিমান্ত দিয়ে প্রশাসনের কতিপয় অসাধু ব্যক্তি ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাদককে সহযোগিতা করে আসছে। এখানে অবৈধ বালুর ব্যবসা করে উন্নয়ন কর্মকান্ড ব্যহত করছে। প্রশাসন এর লোকজন সবসময়ই সরকারী লোকজনদ্বারা প্রভাবিত হয়। ফলে চুনারুঘাট এলাকায়ও অসাধু কিছু লোক রাজনীতির কাছাকাছি থেকে মাদককে সহযোগিতা করে। প্রশাসন মাদকের ব্যপারে আন্তরিকভাবে কঠোর না হলে মাদক ব্যবসা বন্ধ হবে না। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি সাধারন জনগনের উদ্দেশ্যে বলেন প্রত্যেক ফ্যমিলি তার সন্তানদের প্রতি সচেতন থাকতে হবে, প্রত্যেকেই তাদের প্রতি সজাগ থাকতে হবে। এছাড়া প্রশাসনের প্রতি তিনি মাদকের প্রতি কঠোর হয়ে মাদক প্রতিরোধের আহবান জানিয়েছেন। তিনি আশাবাদি মাদকের বিরুদ্ধে ফেইসবুকে ষ্ট্যটাস দিয়ে যে প্রতিবাদ করেছেন তাতে মামলা হওয়ায় তিনি হাতাশা ব্যক্ত করেছেন। এটি স্থানীয়ভাবে অবসান কামনা করেছেন। আহমেদ আলী সাহেবকে তিনি প্রগতিশীল চিন্তাচেতনার লোক হিসাবে জানেন। তিনি ধর্মের প্রতি আস্থাশীল বলেওএই সাংবাদিক মন্তব্য করেন। তিনি আরো করেন রাজনৈতি কোন উদ্দেশ্য থেকে এই মামলার উদ্ভব হয়েছে বলে মনে করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে ভুল বুঝাবুঝির অবসানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ভুমিকা রাখবেন।
চুনারুঘাট রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপিতি নুরুল আমিন এর বক্তব্য
মাদক এর বিষয়ে চুনারুঘাট এলাকার বাল্লা সিমান্ত দিয়ে প্রতিটি ইউনিয়নের  মাদক ব্যবসা হয়। সাধারন রোকজন প্রকবাদ করলে লাশ পড়বে। ফলে কেউ প্রতিবাদ করে ন।ি আইন শৃঙ্খলা কমিটিতে প্রতিবারই আলোচনা হয় কিন্তু প্রশাসন কি ভুমিকা নেয় যে কারনে এটি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রশাসনের প্রতি সাধারন লোকজন ক্ষুদ্ধ। কিন্তু কেই মুখ খুলে প্রকিবাদ করার সাহস রাখে না। যে প্রতিবাদ করবে তারইতো লাশ পড়বে। আহমেদ আলী সম্পর্কে তিনি বলেন আহমেদ আলী একজন মেধাবী, ইসলামী ধর্মভাবাবেগ সম্পন্য ব্যক্তি। মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় হয়তো প্রশাসনের মনে কষ্টের কারন হয়েছে। এছাড়া একটি স্কুলের দুর্নতির বিষয়ে প্রতিবাদ করায় প্রশাসন এবং দুর্নীতির সংশ্লিষ্টরা মিলে এ মামলা সৃষ্টি করেছেন। এটি একটি হয়রানী মুলক মামলা। আহমেদ আলী সাহেবের মত ব্যাক্তিকে যদি মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় মামলা হলে সাধারন মানুষ আর কি করবে। আহমেদ আলী এলাকায় চেয়ারম্যান প্রার্থি হয়েছিলেন তিনি একজন সৎজন ব্যাক্তি। প্রতিহিংসা পরায়ন হয়েই এ মামলা করা হয়েছে।
চুনারুঘাটে মাদক ব্যবসায়ী খুন
চুনারুঘাটে চা বাগানে দুই মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে টাকার ভাগাভাগি নিয়ে ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছে দুলাল তাঁতী নামে এক মাদক ব্যবসায়ী। সম্প্রতি উপজেলার নালুয়া চা বাগানে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পরেশ তাতী নামের এক চা শ্রমিককে আটক করেছে পুলিশ। নিহত মাদক ব্যবসায়ী দুলাল তাঁতী নালুয়া চা বাগানের পচামারা লেনের নারায়ন তাতীর ছেলে। সূত্র জানায়, চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী নালুয়া চা বাগানে মাদক ব্যবসার টাকার ভাগাভাগি নিয়ে দুই মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে পার্টনার মাদক ব্যবসায়ী দুলাল তাঁতীকে ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ দুপুরে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পরিবারের দাবি তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। গত বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়। চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নির্মলেন্দু চক্রবর্তী জানান, সকালে স্থানীয় লোকজন নালুয়া চা বাগানে দুলালের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। তার বুকে ও পিঠে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
নিহতের বুকে ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন ? চুনারুঘাটে মাদকের টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ছুরিকাঘাতে মাদক ব্যবসায়ী নিহত
চুনারুঘাট উপজেলার নালুয়া চা বাগানে মাদক ব্যবসার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছে আরেক মাদক ব্যবসায়ী। সম্প্রতি নালুয়া চা বাগানে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পরেশ তাতী নামে এক চা শ্রমিককে আটক করেছে পুলিশ। নিহত মাদক ব্যবসায়ী নালুয়া চা বাগানের পচামারা লেনের নারায়ন তাতীর ছেলে দুলাল তাঁতী। চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী নালুয়া চা বাগানে মাদক ব্যবসার টাকার ভাগাভাগি নিয়ে দুই মাদক ব্যবসায়ীর বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে পার্টনার মাদক ব্যবসায়ী দুলাল তাঁতীকে ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায় বলে ধারণা করছে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ দুপুরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। পরিবারের দাবি তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। গত বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়। চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নির্মলেন্দু চক্রবর্তী জানান, সকালে স্থানীয় লোকজন নালুয়া চা বাগানে দুলালের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। তার বুকে ও পিঠে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। জড়িত সন্দেহে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
ঈগল টিমের বক্তব্য
মাদক বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা। চুনারুঘাটের সহজ সরল সাধারন মানুষ সহ সকলেই মাদকের ব্যপারে সোচ্চার। সকলেই একবাক্যে মাদককে না বলছেন। তবে বিজিবি, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, সাধারন জনগনের মধ্যে সমম্বয়ের অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। ঐক্যবদ্ধ মনোভাবা সম্পন্ন হলেও মাদকের বিরুদ্ধে শুষ্ট ব্যবস্থপনা নেতৃত্বের উদ্যোগের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে এবং মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া ও পরস্পর আরোচনা না থাকার কারনে ফেইসবুক ষ্ট্যটাসকে কেন্দ্র করে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি এবং সম্ময়ের অভাবে মামলা। কারন যিনি মামলা করেছেন তিনি যেমনি মাদককে না বলছেন তেমনি যিনি ফেইস বুকে প্রশ্ন করেছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি তিনিও মাদককে প্রতিরোধের কথাই বলছেন। যদি সামনা সামনি এ বিষয়ে আলোচনা হতো তা হলে এ ভুল বুঝাবুঝির সুযোগ সৃষ্টি হতো না। ফেইসবুকে যে স্ট্যটাস নিয়ে অভিযোগ মামলা করা হয়েছে সেখানে পর্যবেক্ষনে দেখা গেছে জনাব আহমেদ এলাকার একজন সচেতন শিক্ষানুরাগী দানশীল ঐতিহ্যবাহি পরিবারের সন্তান। এলাকার প্রতি তার আবেগ অনুভুতি মামনুষের জন্য তথা এলাকার জন্য কিছু একটা করার মানষিকতা থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে ফেইসবুকে জনপ্রতিনিধিদের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন। এতে জনপ্রতিনিধিদের কারো মান ক্ষুন্ন হয়নি। বরং  বেশী আবেগপ্রবন হওয়ার কারনেই মামলার উদ্রেক হয়েছে। এ মামলাটিকে স্থানীয়ভাবে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে জানা গেছে, মাদকের বিরুদ্ধে আহমেদ আলীর সহযোগিতা বা পরামর্শ গ্রহন করে মাদক প্রতিরোধের পদক্ষেপই এলাকার শান্তি শৃঙখলা ফিরিয়ে আনতে পারে নতুবা জনস্বার্থের এ বিষয়টিকে নিয়ে মামলায় এগোলে এলাকায় অযথাই একটি অপ্রতাশিত হিংসা বিদ্ধেষ সৃষ্টি হতে পারে। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে বাদি এবং বিবাদীর চাওয়া একটিই সে হচ্ছে মাদক প্রতিরোধ করা। সে লক্ষে স্খানীয় প্রশাসনের উচিত হবে বিষয়টিকে স্থানীয় ভাবে মিমাংসা করা। আমাদের কোর্ট গুলোতে যে লাখ লাখ মামলার সুত্রপাত তা প্রতিরোধে সরকার এখন বিকল্প পদ্ধতিতে মামলা নিস্পত্তির পক্ষে। সে দৃষ্টিকোন খেকে দুজনেই একই এলাকার বাসিন্দা, দুজনেই পরন্পরের প্রতি যেহেতু শ্রদ্ধাশীল, দুজনই এলাকার উন্নয়নের প্রতি বিশ্বাসী তাই এলাকার কোন নেতৃত স্থানীয় ব্যাক্তিগন উদ্যোগ নিয়ে এ বিষয়টিকে নিস্পত্তি করে দুজনের ব্যক্তিকে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ শক্তি হিসাবে কাজে লাগাতে পারে।
সবচেয়ে পরিতাপের বিষয় উনি জানিয়েছেন যে, বাউল শাহ আঃ করিমের বক্তব্যটিকে উনার বক্তব্য বলে। শাহ আঃ করিমের ছবি রিমুভ করে স্ট্যাটাসে উনার ছবি বসিয়েছে। উনার বিরুদ্ধে ধর্মপ্রান মানুষকে ক্ষেপিয়ে সামাজিক পারিবারিক সন্মান বিশ্বাস ও আবেগে আঘাত করা হয়েছে। যা স্থানীয় পত্রিকায় উনি প্রতিবাদ জানিয়েছেন। যারা উনাকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন সমাজে ধর্মপ্রান মানুষের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে তিনি মিথ্যাচারের জন্য তিনি বিচারিক আদালত ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে আবেদন করবেন।
বিষয়টি নিয়ে উনি উপজেলার বিশিষ্ট জন প্রতিনিধি, বিশেষ করে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, স্থানীয় সাংসদ ও প্রাক্তন উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেবদের মতামত দাবী করেছেন।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here