সকল ভাতা প্রাপ্যদের সরকারি ভাতা প্রদান নিশ্চিত করুন: ঈশ^রদীতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি ভূমি মন্ত্রী

0
883

ভাষাসৈনিক, বীরমুক্তিযোদ্ধা ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ বলেছেন, ভাতা পাবার যোগ্য একজন মানুষও যেন বাদ না যায়। সঠিক ও সরকারি ভাতা পাবার যোগ্যদের তালিকা অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিশ্চিত করুন।

Advertisement

আজ ঈশ^রদী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা দুঃস্থ মহিলাদের ভাতা ও অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা, সুবর্ণ নাগরিকদের পরিচপত্র, ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা, নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ভুক্ত দুঃস্থ, অসহায় ও দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারী ব্যক্তিদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে ভূমিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ঈশ^রদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল মাহমুদ এর সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যের মধ্যে পাবনা জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক আ. মমিন, ঈশ^রদী সমাজসেবা অফিসার আসাফউদ্দৌলা, ঈশ^রদী উপজেলা চেয়ারম্যান মখলেছুর রহমান মিন্টু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা বেগম, মুক্তিযোদ্ধা চান্না মন্ডল, মুক্তিযোদ্ধা ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার আ. খালেক, গোলজার হোসেন, পাকশি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ^াস, শাহাপুরের চেয়ারম্যান মতলেবুর রহমান মিনহাজ ফকির, নূরুল ইসলাম বকুল, আ. জলিল বাবলু মালিথা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রত্যোক ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগ করে দেশের ৫০ লাখ অতি দরিদ্র লোককে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ কাজ চলছে। অতীতে এদেশে অনেক গভর্নর, সরকার প্রধানরা দেশ পরিচালনা করে গিয়েছেন অথচ বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার মতো এতো উদার ছিলেন না। তিনি যে পরিমাণ পঙ্গু, অসহায়, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা হতদরিদ্রদের সহায়তা ও সেবা করে যাচ্ছেন, এর আগে কোনো রাষ্ট্রপ্রধানই তা করে যেতে পারেননি। মন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারাদেশে গুচ্ছগ্রাম, আশ্রয়ণ ও একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের গৃহহীন মানুষের জন্য ঘর বাড়ি তৈরি করে তাদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার মানুষের ঘর বাড়ি তৈরি করে গৃহহীনদের পুনর্বাসনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গিকার ২০১৯ সালের মধ্যে ২ লাখ ৮০ হাজার গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করার। আশ্রয়ণ প্রকল্প, একটি বাড়ি একটি খামার, গুচ্ছগ্রাম, ঘরে ফেরা কার্যক্রম, দুঃস্থ ভাতাসহ ১৪৫টি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর কার্যক্রম থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। মন্ত্রী বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার ১৯৯৬ সাল থেকে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও দুস্থ নারী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম চালু করে। মন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত সরকার ১ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা বয়স্ক ভাতা প্রদান করেছে। মন্ত্রী বলেন, বিগত ৮ বছরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার সারাদেশে ২ লাখ ২৯ হাজার ১৬৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেছে। মন্ত্রী শরীফ আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে দারিদ্র্যবিমোচনে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, দারিদ্র্যের হার ২২.৪ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এতো দ্রুত দারিদ্র্যতার নিচে নামিয়ে আনতে পৃথিবীর অন্যান্য দেশ থেকে এগিয়ে রয়েছে। আর এর কৃতিত্ব একমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনার।

মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা দরিদ্র মানুষকে দেওয়া সহায়তার টাকা যাতে কোনভাবে বিনষ্ট না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। পরে মন্ত্রী ৩৩৬ জন বয়স্ক মানুষকে ৫০০ টাকা হারে ১৫ লাখ ১২ হাজার টাকা, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা দুঃস্থ মহিলাদের ৫০ জনকে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ৩৫৮ জনকে ১৯ লাখ ৩৩ হাজার ২২০ টাকা, ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ভুক্ত দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারি ৮৫ জনকে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা, অসহায় ও দারিদ্যসীমার নিচে বসবাসকারী ২৫ জনকে ৭৫ হাজার টাকা বিতরণ করেন। এছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে ৩ হাজার ৪০৯ জন সুবর্ণ নাগরিক হিসেবে পরিচয় পত্র বিতরণ করেন। পরে মন্ত্রীর স্বচ্ছাধীন তহবিল হতে ১৩টি মসজিদ, ও ২টি মন্দিরের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার অনুদান প্রদান করেন।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here