শেখ সেলিমের নাম ভাঙ্গিয়ে কামাল হোসেন কামালের চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা অব্যাহত

0
1357

জিয়াউর রহমানঃ
নাম কামাল হোসেন কামাল। পৈত্তিক দিক থেকে ছিলেন অসহায় এক গরিব ঘরে সন্তান। বাবা ছিলেন গ্রাম্যভাষ্য মতে ওস্তাদ। গ্রাম গঞ্জে ছেলেদের মুসলামী করানো ছিল তার বাবার কাজ। আয় রোজগার ছিল খুব অল্প। এই অল্প আয়ের উৎস দিয়ে পরিবার চালাতে খুব হিমশিম খেতে হত কামালের বাবার। আর্থিক অভাব আর অনটন পিছু ছাড়ে নি তাদেরকে। পারিবারিক এ অবস্থা দেখে টোকাই এর মত রাস্তায় পড়ে থাকা কাগজ ও বিভিন্ন বোতল সংগ্রহ করে বাজারজাত করতেন কামাল হোসেন কামাল। এরপরই কামালের উদ্যান হয় বংশাল থেকে শুরু করে নবাবপুর রোড এলাকাসহ এর আশেপাশে। এই এলাকায় গড়ে তুলেন একটি চাঁদাবাজ ও দখলবাজ গ্রুপ। নবাবপুর এলাকায় তাকে শীর্ষ চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যু হিসাবে চিনেন সাধারন মানুষ। বর্তমানে তার ওই গ্রুপে সাবেক অনেক চাঁদাবাজরা নাই বললেই চলে। তবে তিনি পিছু পা হননি বরং দাবড়িয়ে তার অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বর্তমানে টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছেন। তার নিয়ন্ত্রনে ওই এলাকায় চলছে, দখলবাজি, চাঁদাবাজি, মাদক বানিজ্য, মেয়ে দিয়ে দেহ ব্যবসা ও সন্ত্রাসী বিভিন্ন অপকর্ম। নবাবপুর এলাকার সাধারন ব্যবসায়ীরাসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তটাস্থ। তিনি নিজেই ওই এলাকার সাধারন মানুষের সামনে প্রকাশ্য বলে আসছে পুলিশ, জেলা প্রশাসক, পুলিশ উপ পুলিশ কমিশনার তার পকেটে। তার এমন কথায় সাধারন মানুষ রীতিমত অবাক হচ্ছে। প্রশ্ন দেখা দিছে সাধারন ব্যবসায়ীদের মাঝে। কামাল হোসেন কামালে এত ক্ষমতার উৎস কোথায় বা তার খুটির জোর কোথায়?
হোটেল থেকে চাঁদাবাজি ঃ
নবাবপুর রোডে রয়েছে অর্ধ শতাধিকেরও বেশি আবাসিক নামধারী হোটেল। এখানে যে কয়টি হোটেল রয়েছে প্রতিটি হোটেলে চলে রাত-দিন অসামাজিক কার্যকলাপ। এই হোটেল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় থানার অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় মাস্তানদের মাসিক মাসোয়ারা দিয়ে চালাচ্ছে প্রতিনিয়ত মেয়ে দিয়ে দেহ ব্যবসা। আর এই স্থানীয় মাস্তানদের তালিকায় রয়েছে নবাবপুর দোকান মালিক অবৈধ সভাপতি কামাল হোসেন কামাল এর সেন্ডিকেট। প্রতিটি হোটেল থেকে তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কামাল মাসিক মাসোয়ারা আনেন বলে জানান কয়েকটি হোটেল মালিক ও কতৃপক্ষ। এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, হোটেলগুলোর তালিকা অনুযায়ী কামালের সিন্ডিকেট সদস্যরা চাঁদা আদায় করে।
পতিতা পল্লী থেকে চাঁদাবাজি ঃ
বংশাল নবাবপুর রোড এলাকায় ছিল একটি পতিতা পল্লী। ওই পতিতা পল্লী থেকে মাসিক অর্ধ লক্ষ টাকা চাঁদা নিতেন কামাল হোসেন কামাল এমন অভিযোগও করেছে এলাকাবাসী।
দোকান মালিক সমিতির
নামে চাঁদাবাজি ঃ
নবাবপুর দোকান মালিক সমিতিতে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে নির্বাচন ছাড়া সভাপতি পদে থেকে লক্ষ লক্ষ চাঁদাবাজি করে আসছে কামাল হোসেন কামাল। সূত্র জানায়, দোকান সমিতির টাকা তার পকেটে যায়। অথচ নবাবপুর এলাকার কোন দোকানের উন্নয়নমূল কোন কাজে আসে নাই চাঁদাবাজ কামাল। যদি সরকারের কোন গোয়েন্দা সংস্থা ও দুদক তার দুর্নীতি ও অপকর্ম নিয়ে তদন্ত করে তাহলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। এমনকি দীর্ঘ ৯ বছরের দোকান মালিক সমিতির টাকা কোন পথে গেছে তাও বেরিয়ে আসবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
গর্ভপাত করে কাজের
মেয়ের মৃত্যু ঃ
সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে নিজের বাসার কাজের মেয়ের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে কামাল হোসেন কামাল। দীর্ঘদিনের এ অনৈতিক সম্পর্কে ওই মেয়ের গর্ভে সন্তান চলে আসে। দিশা হারিয়ে কামাল ওই মেয়েকে গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে ওই এলাকার একটি ফার্মেসী থেকে ঔষধ নিয়ে মেয়েটিকে খাওয়ালে এত মেয়েটি মৃত্যুবরন করে। নিজের অপকর্ম আড়াল করতে এ কামালই পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেন ফার্মেসীর বাহারকে। একদিকে পুলিশ বাহারকে নিয়ে যান থানায় অন্যদিকে ওই মেয়ের  বাবার সাথে দেন দরবারে বসেন কামাল। মাত্র ১ লক্ষ টাকা দিয়ে ওই মেয়ে হত্যা মামলা ও তার নারী কেলেংকারীর মত ঘটনাটি দামাচাপা দেন বিচক্ষন কামাল হোসেন কামাল।
এ বিষয়ে তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, তবে নবাবপুর এলাকা সূত্রে জানা গেছে, তিনি শেখ সেলিমের নাম ভাঙ্গিয়ে তার অপকর্ম পরিচালনা করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর যাবৎ একই পদে বহাল থেকে চাঁদাবাজিসহ ভূমিদস্যুতা করে আসছে তিনি। শুধু তাই নয়, কেউ তাকে তার চাহিদামত চাঁদা না দিলে নেমে আসে অত্যাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগের হিড়িকও। সম্প্রতি ঢাকা জেলা প্রশাসক থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রিক মিডিয়াসহ সরকারী বেসরকারী অফিসে অভিযোগ করেছেন ২৩৪/২৩৫ জাবিন টাওয়ারের মালিকসহ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। তবে তার অত্যাচার ও চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট নবাবপুরের অনেক ব্যবসায়ীরা। তার ভয়ে অনেক মুখ খুলতেও পারছে না। আবার কেউ যদি সাহস করে মুখ খুলে তাকে তিনি সাহেস্তা করেন তার বাহিনীর লোকজন দিয়ে। তার রয়েছে ওই এলাকায় শক্তিশালী একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ। এদেরকে দিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও নতুন নির্মানকৃত ভবন থেকে চাঁদা উত্তোলন করে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার এ ধরনের অপকর্ম নিয়ে ৬ আগস্ট জাবিন টাওয়ার দোকান মালিক সমিতি ও মার্কেট কর্তৃপক্ষ একটি প্রতিবাদ সভা করেন। তারা ওই প্রতিবাদ সভায় উল্লেখ করেন, নবাবপুর দোকান মালিক সমিতির অবৈধ সভাপতি মোঃ কামাল হোসেনের ডিজিটাল চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতা নিয়ে যদি কেউ কথা বলে তাহলে তিনি তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে হয়রানী করে। এমনকি তার লালিত পালিত বাহিনী দ্বারা মারধর সহ হুমকী দেন। কামাল হোসেন অবৈধভাবে সমিতির প্যাডে “জাবিন টাওয়ার মার্কেট” সহ আরো ১০/১২ টি নবাবপুর রোডস্থ মার্কেটের নামে বিভিন্ন সরকারী অফিস ও মন্ত্রণালয়ে নিজ সহি স্বাক্ষরে অভিযোগ দাখিল করে তার নিজ প্রতিনিধির মাধ্যমে অত্র মার্কেটের মালিক দোকানদার ও ব্যবসায়ীকগনের নিকট হতে মার্কেট প্রতি পঞ্চাশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। টাকা না দিলে তিনি নিজ ক্ষমতা ব্যবহার করে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ও সরকারী-আধা সরকারী অফিসে অভিযোগ দাখিল করে ব্যবসায়ীকদের ক্ষতি করবে এবং সাধারন দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হতে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে উচ্ছেদ করবে বলে হুমকি প্রদান করে আসছে প্রতিনিয়ত। সূত্র জানায়, কামাল হোসেন ২ নং টেকের হাট সরকারী জমি দখল করে রাখছে। ২৩৩ নং নবাবপুর রোডস্থ সরকারী জমিও তার দখলে। ৭৯, ৮৩ নং নবাবপুর রোডস্থ উক্ত দুইটি হোল্ডিং থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে বলে জানা গেছে। ৭৯ নং নবাবপুর রোডস্থ বারেক প্লাজা কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নবাবপুর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি পদ বহাল থেকে উক্ত এলাকায় চাঁদাবাজি করলেও আমার তার বিরুদ্ধে তেমন কিছুই বলতে পারছি না। কেউ যদি প্রতিবাদ করে তাহলে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে মারধর সহ বিভিন্নভাবে হয়রানী করে। তাকে বারেক প্লাজার সকল ব্যবসায়ীরা চাঁদা দিতে হয়। যদি কেউ না দেয় তাহলে ওই ব্যবসায়ীকে নানান ধরনের হয়রানী করে। কামাল হোসেন নিজেই ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ করেন। আর এ অভিযোগ গুলো হয় তার কথামত তাকে চাঁদা এবং অন্যান্য সুবিধা না দেয়ার কারনে এমনটাই জানান অনেক ব্যবসায়ীরা। সূত্র জানায়, রাজউক ও সিটি কর্পোরেশনের সকল নিয়ম কানুন মেনে ওই জমিতে ৮ তলা একটি ভবন নির্মান করা হয়েছে। এমনকি বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের ব্যবসার জন্য ভাড়া দেয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা মার্কেটটিতে জমজমাটভাবে ব্যবসা শুরু করলে হঠাৎ চাঁদাবাজ কামাল হোসেনের হুমকি দামকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ব্যবসা করতে হচ্ছে। ওই সূত্রটি আরো জানায়, ২৩৪/২৩৫, সি, নবাবপুর রোড নব নির্মিত জাবিন টাওয়ার এর মালিকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে কয়েকটি দোকান দাবী করে আসছে। তার এই দাবীকৃত দোকান না দেয়াতে ক্ষীপ্ত হয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ করে আসছে। আমাদের অনুসন্ধান চলছে, পরবর্তী সংখ্যায় আরো বিস্তারিত। (চলবে)

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here