ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
র্যাব তিন এর বিরুদ্ধে খিলগাওয়ে যুবলিগ নেতাকে উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে হিন স্বার্থসিদ্ধি হাসিলের জন্য মিথ্যা অপহরন ও ইয়াবা মামলায় ফাসানো সহ নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট মন্ত্রনালয়ে বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত পুর্বক যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। উক্ত আবেদনের একটি অনুলিপি অপরাধ বিচিত্রা সম্পাদক বরাবরে দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগ পত্রে নির্যাতিতের ভাই জামিল উল্লেখ করেন আমি মোঃ জামিল হোসেন, পিতাঃ আব্দুল কাদের সাং-২৯০/এ, তিলপাপাড়া আমানুল্লা সুপার মার্কেট এর তৃতীয় তলা, খিলগাঁও, ঢাকা। এই মর্মে লিখিতভাবে জানাইতেছি যে, আমার বড় ভাই একজন সমাজ সেবক ও সাংবাদিক। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ উক্ত এলাকার গরীব ও অসহায় মানুষের সেবা করে যাচ্ছে। উক্ত সমাজসেবা মূলক কর্মকান্ড এলাকার কিছু অসাধু দুর্নীতিবাজ লোক ও তালতলা ক্যাম্পের র্যাব-৩, সিপিসি-১ এর অসাধু র্যাব কর্মকর্তাদের কাছে সহনীয় না হওয়াতে আমার ভাইয়ের উপর ক্ষীপ্ত হয়ে গত ০৬/০৯/২০১৬ ইং তারিখ রাতে একটি কাল্পনিক পূর্বপরিকল্পিতভাবে অনাকাঙ্খিত ঘটনা সাজিয়ে আমাদের উল্লেখিত ঠিকানাসহ এর সামনে আমার বড় ভাইয়ের রাজনৈতিক ক্লাবে অভিযান পরিচালনা করে আমার ভাই ও অসহায় আরো চারজন নিরীহ সাধারন মানুষকে হয়রানীর উদ্দেশ্যে মারধর পূর্বক গ্রেফতার করে। ঘটনার দিন তালতলা ক্যাম্পের র্যাব-৩, সিপিসি-১ এর অসাধু দুর্নীতিবাজ র্যাব কর্মকর্তা ১. ডিএডি (বিজেও-১৩৪৯৭) মোঃ আবু তালেব সঙ্গীয় ২. এসআই (নিঃ) সোমেন দাশ, ৩. ল্যান্স কর্পোরাল/১২২৩১৩৪ মোঃ আমিনুর রহমান, ৪. নায়েক/১০২২৭ ওসমান গনি, ৫. সিপাহী/৭৯৪৫৭ মোঃ নুরুল হুদা, ৬. ড্রাইঃ কং/২৬৬২ মোঃ ঈমান আলীসহ তাদের ৭. সোর্স রানা পোদ্দার, পিতা: দ্বিজেন্দ্র পোদ্দার, স্থানীয় ঠিকানা: ৩২ নং এসএম মালেহ রোড, টার্ণ বাজার, থানা ও জেলা নারায়ণগঞ্জ, ৮. অজিত দেবনাথ, পিতা: মৃত প্রভাত চন্দ্র দেবনাথ, স্থায়ী ঠিকানাঃ মুরাদনগর, থানাঃ মুরাদনগর, জেলাঃ কুমিল্লা, ৯. মোঃ শরীফ হাওলাদার, পিতাঃ মৃত আব্দুল লতিফ হাওলাদার, সাং- বাশিড়া, থানাঃ লৌহজং, জেলাঃ মুন্সিগঞ্জ, ১০. মোঃ হাছেন আলী ভূইয়া, পিতা: মৃত মালেক ভূইয়া, সাং-কাঞ্চন, থানাঃ রুপগঞ্জ, জেলাঃ নারায়নগঞ্জ, বর্তমান সর্ব ঠিকানাঃ খিলগাঁও তালতলা সহ অজ্ঞাত আরো চার পাঁচজন গত ০৬/০৯/২০১৬ ইং তারিখ রাত্র আমাদের বাসার সামনে আমার বড় ভাইয়ের রাজনৈতিক যুবলীগের ক্লাবে প্রবেশ করে আমার নিরপরাধ ভাই আব্দুল আজিজসহ আরো চারজনকে এলোপাথারীভাবে মারধর করে। এমনকি তারা তাদের পরিচয় না দিয়ে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে এলোপাথারী মারধর ও বিভিন্ন স্থানে জখম করে। এরপর গ্রেফতার করে স্থানীয় থানা হেফাজতে না নিয়ে উক্ত র্যাব সদস্যরা আমার ভাইসহ অন্যান্য সকলকে তাদের ক্যাম্পে নিয়ে মারধর করে অস্ত্র কোথায় জানতে চায়। এমনকি আমার ভাইকে ক্রস ফায়ারে মেরে ফেলবে বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দেয়। পরে অসাধু ওই র্যাব সদস্যরা নারায়ণগঞ্জ এলাকায় একটি সাজানো ঘটনাস্থল দেখিয়ে তাদের সোর্স অজিত দেবনাথকে বাদী করে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অপহরন পূর্বক চাঁদা দাবী ও আদায় করার অপরাধে একটি মামলা দায়ের করে। যাহার নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার মামলা নং-০৫, জিআর নং-৩৬৪, ধারা: ৩৬৫/৩৮৫/৩৮৬/৩৪ দ: বি:, তারিখ: ০৮/০৯/২০১৬ ইং। উক্ত মামলায় আমার ভাই বর্তমানে বিনা চিকিৎসায় নারায়নগঞ্জ জেলহাজতে আছে। তার শারিরীক অবস্থা খুবই আশংকাজনক। তাহার চিকিৎসা জরুরী। মামলা করার সময় র্যাব-৩, সিপিসি-১, খিলগাঁও ক্যাম্প, ঢাকা অপারেশন/টহল সিসি নং ১৫১/১৬ ইং তারিখ: ০৭/০৯/২০১৬ ইং অসৎ র্যাব কর্মকর্তা সোমেন দাস, এসআই (নি:) কর্তৃক নিজেদের বানানো একটি জব্দ তালিকা দেন। যার মধ্যে ৪ এ জব্দকৃত মালামালের বর্ণনা মধ্যে সব কিছুই ছিল তাদের মিথ্যা ও বানোয়াট। শুধু তারা আমাদের রুম থেকে কোরবানীর গরুর মাংস কাটার একটি ছোরা উদ্ধার করে আর অন্য সব কিছু তাদের সংগ্রহ করা। উক্ত জব্দ তালিকায় যাদেরকে স্বাক্ষী করা হয়েছে তারা ওই র্যাব সদস্যদের লোক। সর্বশেষ জব্দকৃত মালামালের ২ থেকে ৫ পর্যন্ত তাদের কাছে সংরক্ষন ছিল তাই তড়িগড়ি করে বড় অক্ষরে লিখে ফেলেন। পরবর্তীতে তাদের সোর্স এর মাধ্যমে ৩৫ পিছ ইয়াবা সংগ্রহ করে জব্দ তালিকায় উল্লেখ করে। ওই সময় জব্দ তালিকায় জায়গা ছিল না বিধায় খুব ছোট করে পরে লিখে নেন অসাধু এ র্যাব সদস্যরা। উক্ত র্যাব সদস্যরা তাদের সোর্স রানা পোদ্দারকে দিয়ে প্রথমে খিলগাঁও থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ সাজানো মামলা বুঝতে পেরে মামলা নেননি। পরবর্তীতে তারা নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় তাদের আরেক সোর্স অজিত দেবনাথকে বাদী করে মামলা দায়ের করে। রানা পোদ্দার ও অজিত দেবনাথ দুই জনের লিখিত এজাহার দেখলেই বুঝা যায় এটি একটি সাজানো মামলা। এছাড়া দুই এজাহারে দুই ধরনের কথা উল্লেখ আছে। যাহা র্যাব কর্মকর্তাদের কথিত মতে সাজানো। এমনকি র্যাব সদস্যকর্তৃক দাখিলকৃত জব্দ তালিকার ৬ নং এ ৩৫ পিছ ইয়াবা লেখাটা ছোট করে লেখা তা থেকেও প্রমানিত উক্ত র্যাব সদস্যরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমার ভাই আব্দুল আজিজ ও এলাকার আরো চার জন নিরীহ সাধারন লোকজনকে হয়রানী ও হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেফতার করে।
উল্লেখ্য প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, ঘটনারদিন অর্থাৎ ০৬/০৯/১৬ ইং তারিখ সকাল ১০:৩০ ঘটিকার সময় র্যাব-৩, সিপিসি-১ এর সোর্স পূর্ব পরিচিত উক্ত মামলার ৬ নং আসামী জাহাঙ্গীর আলম। তার পূর্বের পরিচিত র্যাব সদস্যদের অন্য সোর্স রানা পোদ্দার ও একটি মেয়েকে নিয়ে আমার ভাইয়ের ক্লাবে আসে জাহাঙ্গীর আলম। সোর্স জাহাঙ্গীরের পূর্বের পরিচিত ওই ছেলে ও মেয়েকে আমার ভাইয়ের কাছে এনে জানায়, ছেলে মেয়ে দুইজনে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ওইদিন ছেলে মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি না। এতে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তাদের সমস্যা সমাধান করতে জাহাঙ্গীর আমার ভাই’র মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করতে নিয়ে আসে। ওইদিন আমার ভাই আব্দুল আজিজ দুইজনের কাছ থেকে ঘটনা শুনে মেয়ে ছেলে দুইজনকে তাদের পরিবারের লোকজনকে খবর দিয়ে তাদের জিম্মায় চলে যেতে বলে। তবে ওইদিন মেয়ে জানায়, ছেলের সাথে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এর আগে কখনো মেয়ে জানতো না ছেলে হিন্দু। ঘটনার দিন মেয়ে জানতে পারে ছেলে হিন্দু। তাই মেয়ে দাবী করে ছেলে মুসলিম হয়ে মেয়েকে বিয়ে করতে হবে। অন্যথায় মেয়েকে ক্ষতিপূরন বাবদ ২,০০০০০ টাকা দিতে হবে। মেয়ের এ কথা ছেলে শুনে কান্নাকাটির একপর্যায়ে তার ভগ্নিপতি র্যাবের সোর্স অজিত দেবনাথকে ফোন করে। এরপর র্যাবের সোর্স জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ৬/০৯/১৬ ইং তারিখ রাত ১২:৩০ ঘটিকার সময় উক্ত র্যাব সদস্যরা সাদা পোশাকে এসে আমার ভাইকে ক্লাব থেকে ধরে প্রথমে মারধর ও মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে উক্ত ঠিকানায় আমাদের বাসায় অনাধিকার প্রবেশপূর্বক আমার ভাইসহ আরো চারজন নিরীহ সাধারন লোককে ঘটনা না জেনে উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে এলোপাথারী মারধর করে। একপর্যায়ে র্যাব সদস্যরা এলোপাথারী মারধর করে জানতে চায় পিস্তল কোথায় আছে? সত্যিকারে আমার ভাই কোন পিস্তলধারী সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজ বা অপহরনকারী নয়। তাকে ষড়যন্ত্রমূলক উক্ত ঘটনায় জড়ানো হয়েছে। উক্ত ঘটনাটি সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত করলে সঠিক ঘটনা বেরিয়ে আসবে। ঘটনার সব কিছু আমাদের সিসি ক্যামেরায় ধারন করা ছিল। পরে ওই ধারনকৃত ফুটেজ এর কথা জানতে পেরে র্যাব সদস্যরা সিসি ক্যামেরা ভাংচুর করে ফুটেজ ধারনকৃত মেশিন নিয়ে যায়।
প্রশ্ন থাকে যে, আমার ভাই যদি অপহরনকারী বা চাঁদাবাজ হত তাহলে স্থানীয় থানায় মামলা থাকতো অথবা তার বিরুদ্ধে কেউ না কেউ জিডি করতো। এমন একটি মামলা ও জিডিও তার বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় নেই। এলাকার কোন লোক তার বিরুদ্ধে জিডি বা মামলা তো দুরের কথা কখনো কেউ তাকে কোন খারাপ কাজ ও অন্যায় কাজে জড়িত দেখে নাই। এছাড়া আমার ভাই এলাকার বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশ প্রশাসনকে সব ধরনের সহযোগিতা করে আসছে। পুলিশ প্রশাসনও এলাকার অপরাধ দমনে আমার ভাই’র সহযোগিতা নিত। তবে রাজনৈতিকভাবে ও জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে এক শ্রেনীর লোক আমাদের পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন হতে চক্রান্ত করে আসছে। তাদেরই রোষানলে উক্ত হামলা ও মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে বিদ্যমান হয় এবং তা সঠিক তদন্তে প্রমানও হবে বলে আমি আশা করি। ঈদের ছুটি ও আমার পরিবারের সকলের সাথে আলোচনা করে এবং আমার ভাই আব্দুল আজিজের কাছ থেকে জেলগেট গিয়ে বিস্তারিত ঘটনা শুনে অভিযোগ দাখিল করতে বিলম্ভ হইলো।
অপরাধ বিচিত্রা এ বিষয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। অনুসন্ধান শেষে থাকবে বিস্তারিত প্রতিবেদন।
