র‌্যাবের হাতে দলবলসহ গ্রেফতার হয়েছে মাদক পাচারকারী দলের রিংলীডার সেনবাগের কুখ্যাত জাহাঙ্গীর

0
1095

বিশেষ প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীর উত্তরাংশ ও কুমিল্লার দক্ষিণাংশ জুড়ে মাদকদ্রব্যের বিশাল বাণিজ্যিক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে জাহাঙ্গীর ওরপে স্প্রিং জাহাঙ্গীর। সেনবাগ, বেগমগঞ্জ, দাগনভূঁইয়া, ফেনী, সোনাইমুড়ী, চৌমুহনী, নাঙ্গলকোট, চৌদ্দগ্রাম, লাকসাম ও চাটখিল এলাকা জুড়ে জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে গজিয়ে উঠেছে মাদকের এক বিশাল সিন্ডিকেট। এর ফলে বিস্তৃত এই এলাকাটির হাট-বাজার ও রাস্তার পাশে দোকানে মাদকের রমরমা ব্যবসা মারাত্মক বিস্তার ঘটেছে। মূলত এ অঞ্চলে তারনিয়ন্ত্রণে বিগত ৮-১০ বছর যাবত সর্বনাশা এই মাদক ব্যবসা পরিচালিত হয়ে আসছে । গত ১ অক্টোবর এই মাদক সম্রাট জাহাঙ্গীর তথা স্প্রিং জাহাঙ্গীরকে কালারাইতার শ্বশুরবাড়ি থেকে গভীর রাতে র‌্যাব-১১ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। সে বর্তমানে নোয়াখালী জেলা কারাগাওে রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। একই দিন জাহাঙ্গীরের একান্ত সহযোগী সোনাইমুড়ীর দেবপুর গ্রামের দুর্ধষসশস্ত্র সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হাসান ও দুলালকে ২০০ পিস ইয়াবা এবংএকটি দেশীয় বন্দুকসহ সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সোনাইমুড়ী থানার এস আই মঈনুল হোসেন ও মাহবুবুর রহমান। হাসান দীর্ঘ দিন যাবত মাদক সম্রাট জাহাঙ্গীরের সহযোগী হিসেবে সশস্ত্র ক্যাডারের দায়িত্ব পালন করতো। বর্তমানে তারা উভয়ই নোয়াখালী জেলা কারাগারে রয়েছে বলে জানা গেছে। জাহাঙ্গীরের সহযোগী হিসেবে আরও যারা ছাতারপাইয়াসহ এই  অঞ্চলে মাদক ব্যবসায় দীর্ঘ দিন যাবত জড়িত থেকে মাদক ব্যবসার মারাত্মক বিস্তার ঘটায়, তারা হলো, তার ফুফাতো ভাই, ছাতারপাইয়া বাজারের ইসমাইল ফার্মেসীর মালিক দুলাল ও তার বড়ভাই পিচ্চি শাহ্ আলমও এই অবৈধ মাদক ব্যবসার সঙ্গে ছাতারপাইয়ার মৃত আফজাল চৌকিদারের ছেলে মোঃ আমির, খাজুরিয়া গ্রামের সরদার পাড়ার আলমের ছেলে রুবেল (৩৪) একই গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে ইউসুফ (৩৫) কুখ্যাত মাদক স¤্রাট জাহাঙ্গীরের অতিবিশ্বস্থ ও সহযোগী হিসেবে মাদক দ্রব্য সরবরাহ ও ক্রয়-বিক্রয়কাজে দীর্ঘদিন যাবৎ জড়িত। এরা এতই ভয়ঙ্কর ও অস্ত্রধারী যে, তাদের ভয়ে এলাকার কেউ কখনোতাদের অপকর্ম সম্পর্কে মুখ খুলতে সাহস পেতনা। এ অঞ্চলে হিরোইন, ফ্যান্সিডেল, ইয়াবা, গাঁজাসহ সব ধরনের মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ হয় দুর্ধর্ষ এই সিন্ডিকেটের সরাসরি তত্ত্বাবধানে। সরবরাহ ক্রয়-বিক্রয়দীর্ঘ ৮-১০ বছর যাবত চলে আসছে। এদের রয়েছে সংঘবদ্ধ একটি ভয়ঙ্কও সন্ত্রাসী বাহিনী। কিছু রাজনৈতিক নামধারী নেতা থানাপুলিশ ও স্থানীয় কিছু জনপ্রতিনিধি এই ভয়ঙ্কর মাদক স¤্রাট ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী থেকে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে নির্বিঘœ করে দিয়েছে এই অঞ্চলে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যেতে। পুরো সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভয়ঙ্কর জাহাঙ্গীর কায়েম করেছে গোটা অঞ্চলে মাদক বেচাকেনা ও অস্ত্র ব্যবসার। পুরো অঞ্চলকেই সে জিম্মি করে ফেলেছে অর্থ ও অবৈধ অস্ত্রের মাধ্যমে। লোকজন এ কারণে তার ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পেতনা। নিরীহ জনসাধারণ তার নিকট সবসময় হয়ে থাকত অসহায়ের মতো। এ ভয়ঙ্কর মাদক সম্রাট জাহাঙ্গীরের বাড়ি, সেনবাগ উপজেলার ২নং কেশারপাড় ইউনিয়নেরপূর্ব কালারাইতা গ্রামে। তার পিতার নাম আব্দুল মতিন। তার কুকীর্তিও বহু তথ্য জানা গেছে। তার রয়েছে চার-চারটি বউ। একই পরিবারের ফুফু ও ভাতিজিকে বিয়ে করে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্যেও সৃষ্টি করেছিল এই জাহাঙ্গীর। তার এক স্ত্রী থাকে কাশিপুর বাজারে, কালারাইতা পশ্চিমপাড়া বসবাস করে ২ জন স্ত্রী। কানকিরহাট বাজারে রয়েছে তার একটি বাসা। সেখানে বসবাস করে একজন স্ত্রী। এই স্ত্রী মূলত পুলিশের মনোরঞ্জনের জন্য সেখানে রাখা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এই জনপদের তৃণমূল পর্যায়ের মাদকদ্রব্য মরণনেশা পৌছে দিয়ে যুবশ্রেণীর একটি বিশাল অংশকে মাদকাসক্ত করার জন্য জাহাঙ্গীর পালন করেছে নিবেদিত ভূমিকা। এ কারণেই অত্র অঞ্চলের বাসিন্দাগণ তার ওপর অতিষ্ট। আইনের ফাঁক ফোকরের দুর্বলতায় জেল হতে অতি সহজে বের হতে না পারে সেই দিকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কঠোর নজরদারির আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় গণ্যমান্য নাম প্রকাশেঅনিচ্ছুক ব্যক্তিগণ। জাহাঙ্গীরের গ্রেফতারের বিষয়ে সেনবাগ থানার ওসি হারুন-অর-রশিদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারের ওয়ারেন্ট ছিল তাই র‌্যাব তাকে গ্রেফতার করেছে। ২নং কেশারপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হক সুমনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন জাহাঙ্গীর সম্পর্কে গ্রেফতার হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি এতো ব্যাপক জানতেন না। গ্রেফতারের পর তিনি তার সমস্ত কুকীর্তি সম্পর্কে অবগত হন।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here