অপরাধ বিচিত্রা ডেস্কঃ
এক শ্রেনীর র্যাব-পুলিশের বিতর্কিত কর্মকান্ড একদিকে যেমন জনমনে ভীতি সঞ্চার করছে তেমনই অপরদিকে সরকারের ভাবমূর্তীকে করছে প্রশ্নবিদ্ধ। বহুল আলোচিত নরায়নগঞ্জের সাত খুন তার স্বাক্ষ্য বহন করে। মোঃ খোরশেদ আলম, ডিএডি/জেসিও ৬৫৬৬ (বিজিবি) গত ১৩-৮-২০১১ ইং তারিখে র্যাব-১০, ২নং কোম্পানী, ধলপুর, যাত্রাবাড়ী, ঢাকাতে যোগদান করেন। সেখানে কর্মরত অবস্থায় তিনি ঘুষ, চাঁদাবাজি, জুলুম ও অত্যাচারের যে চিত্র রেখে গেছেন তা যাত্রাবাড়ি এলাকাবাসী আজও অতংকের সাথে স্বরন করেন। ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকার মতো যাত্রাবাড়ীর ধলপুর এলাকা একটি বিরাট মাদকের হাট। এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে ডিএডি/জেসিও মোঃ খোরশেদ আলমের ছিল বিশেষ সখ্যতা। ধলপুল এলাকার মাদক ব্যবসায়ী রিপন, সোহেল, সাকিল, জুম্মন, আবু তাহের, তারা মিয়া ও আরও অনেকের কাছ থেকে জানা যায় থানা পুলিশকে ম্যানেজ করেও তারা র্যাব-১০ এর উক্ত ডিএডি/জেসিও মোঃ খোরশেদ আলমকে প্রতি মাসে মোটা অংকের নজরানা দিত। টাকা দিতে না পারলে র্যাবের সোর্স দিয়ে ধরে এনে র্যাব-১০ অফিসে নিয়ে নির্মম শারীরিক নির্যাতন করতেন। আরও জানা গেছে যাত্রাবাড়ী এলাকার সুতিখাল, কলাপট্রি, বিবির বাগিচা, কাজলা ইত্যাদি এলাকায় ডিএডি/জেসিও মোঃ খোরশেদ আলম সাদা পোশাকে টহল দিতেন। টহলের সময় যাকে খুশি তাকে ধরে নিয়ে টাকা দাবি করতেন। তার চাহিদা মোতাবেক টাকা দিতে না পারলে মাদক দিয়ে ধরিয়ে থানায় সোপর্দ করতেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অসংখ্য লোক জানান। বিতর্কিত এই ডিএডি/জেসিও খোরশেদ আলমের জুলুম ও অপকর্মের একটি বাস্তব উদাহারন রয়েছে। তিনি যাত্রাবাড়ী থানায় জেনারেল ডাইরি নং ৯১৯ তারিখ ১৫-৩-২০১২ দায়ের করেন একজন নিরপরাধ ব্যাক্তির নামে। অতপর উক্ত নিরপরাধ ব্যাক্তিকে ধরে থানায় সোপর্দ করেন একটি মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে। ধৃত ব্যক্তির অনুরোধে তার নাম এখানে প্রকাশ করা গেল না। অভিযোগ রয়েছে ধৃত ব্যাক্তির প্রতিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা খেয়ে মোঃ খোরশেদ আলম মিথ্যা জিডি দিয়ে হয়রানি করেছেন। জিডিতে যে ঘটনা উল্লেখ করেন তা সম্পুর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। ১৫-৩-২০১২ ইং তারিখ গভীর রাত। ডিএডি/জেসিও মোঃ খোরশেদ আলম আরও কিছু র্যাব সদস্য নিয়ে ধৃত ব্যাক্তির যাত্রাবাড়ী এলাকার বাড়ির উঁচু দেয়াল টপকিয়ে বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে ঘরের দরজায় প্রচন্ড জোরে একের পর এক লাথি মেরে দরজা খুলতে বাধ্য করে। তারপর ঘরের ভেতর প্রবেশ করে কোন কিছু না বলেই টানা হেঁচড়া করে র্যাব-১০ অফিসে নিয়ে যায়। ধরে নিয়ে যাবার সময় বাড়ির মহিলা সদস্যেদের সাথেও অশালীন আচরন করেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে। র্যাব-১০ অফিসে নিয়ে সারা রাত শারীরিক নির্যাতন করেন ও মোটা অংকের টাকা দাবি করেন বলে ভুক্তভোগি জানান। টাকা না দিলে এমন মামলা দিবেন যাতে সারা বছর জেলে থাকতে হয় বলেও হুমকি-ধমকি দিয়েছেন। ডিএডি/জেসিও মোঃ খোরশেদ আলম তার জিডিতে উল্লেখ করেন উক্ত আসামিসহ অন্যান্য আসামিরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপুর্ণ ব্যাক্তিদেরকে হত্যার ষড়যন্তে লিপ্ত। জিডির তদন্তে উল্লেখিত আসামির সাথে অপর কোন ব্যাক্তি জড়িত মর্মে কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সুতরাং একজন ব্যাক্তি কিভাবে রাষ্ট্রের গুরুত্বপুর্ণ ব্যাক্তিবর্গকে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকতে পারে তা ভুক্তভোগি ব্যাক্তির জিজ্ঞাসা। আরও অভিযোগ রয়েছে ধৃত ব্যাক্তির বিরুদ্ধে ডিএডি/জেসিও মোঃ খোরশেদ আলম একটি জব্দ তালিকা প্রস্তুত করেন যা সম্পুর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। জব্দ তালিকায় যেসব জিনিস উদ্ধার করেছে বলে উল্লেখ করেছেন তা আসামির কাছ থেকে পায়নি বরং নিজের কাছে সংরক্ষিত ছিল বলে জানা গেছে। আরও জানা গেছে জব্দ তালিকায় বলা হয় আসামিকে তার বাড়ির গেটের সামনে থেকে গ্রেপ্তার কর হয় ও তার পরিহিত প্যান্টের ডান পকেট থেকে মালামাল উদ্ধার করা হয়। অথচ ধৃত ব্যাক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে গভীর রাতে তিনি গেটের সামনে তো ছিলেনই না বরং তার ঘরে তিনি ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন এবং তার পরনে কোন প্যান্ট ছিল না। ডিএডি/জেসিও ৬৫৫(বিজিবি) মোঃ খোরশেদ আলমের এধরনের মিথ্যাচারিতা ও জুলুম নির্যাতনে যাত্রাবাড়ী ও ধলপুর এলাকার লোকজন ছিলেন দিশেহারা। তার ভয়ে এলাকার লোকজন এতদিন সত্য কথাটি পর্যন্ত বলতে পারেনি। এলকাবাসিগন বলছে এখন সময় তার বিরুদ্ধে স্বরব হওয়া। অপরাধ বিচিত্রার তদন্তে জানা গেছে উক্ত ডিএডি/জেসিও মোঃ খোরশেদ আলম র্যাব-১০ থেকে পরবর্তিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদশ, সাতকানিয়া, বইতুলইজ্জত, চট্টগ্রামে বদলি হন। এ ব্যাপরে তার বক্তব্য নেয়ার জন্য তার কাছে লিখিত পত্র রেজিষ্টার্ড ডাকযোগে প্রেরন করা হয়। পত্র প্রাপ্তি স্বীকারপত্রে তিনি লিখিত পত্রটি নিজে স্বাক্ষর করে গ্রহন করেন কিন্তু দির্ঘদিন অতিক্রম হলেও তিনি তার বক্তব্য প্রদান করেন নাই। তার দুর্নীতি ও অপকর্মের বিষয়ে অপরাধ বিচিত্রার তদন্ত চলছে। আগামী সংখ্যায় এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত থাকছে।
