রৌমারীতে সংখ্যা লঘু জেলে পরিবারের দূর্দিন

0
638

মাজহারুল ইসলাম: কুড়িগ্রামের রৌমারীর সংখ্যা লঘু জেলে সম্প্রদায়ের চরম দূর্দীন চলছে। রৌমারীতে প্রায় ৫’শ জেলে পরিবার রয়েছে। তাদের বাপ-দাদার পেশাই উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা। জমি-জিরাতহীন, জাল দড়ি একমাত্র জীবিকা নির্বাহের সম্বল। এক সময় প্রচুর খালবিল, হাওর-বাওর , নদী-নালা ও উন্মুক্ত ছিল। সে সময়ে যেমন খুশি যত্র-তত্র জেলেরা মাছ ধরে পরিবার পরিজন নিয়ে সুখ-স্বাচ্ছন্দে জীবন- জীবিকা করতো। সে সময়ে নদী-নালায় জেলেরা মাছ ধরত, ওই মাছ জেলে পরিবারের নারীরা খাঁচা ভরে মাছ নিয়ে গ্রাম পাড়া মহল্লায় ঘুরে-ঘুরে ধান-চাল, গম, নানা ফসলের বিনিময়ে বিক্রি করত। নারী-পুরুষ সম্মিলিত শ্রমে আন্তরিকতার মধ্যদিয়ে চলতো তাদের জীবন সংসার।

Advertisement

কিন্তু এখন আর পরিবারে সে সুখ নেই। উন্মুক্ত জলাশয় নেই, আগের মত মাছ নেই, পুরুষ কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে জেলে পরিবার গুলো। যার ফলে তাদের পরিবারে দৈন্যতা লেগেই আছে। আগের মত মাছ না থাকায়, জেলে পরিবারের নারীরা স্বামীর সংসারে অভাব-অনটন দূরীকরনে কর্মের পথ বেচে নেয় । অন্যের জমিতে কৃষি কাজ, মাটি কাটা, এবং দীন মজুরের কাজ না জুটলে, বয়োযোষ্ঠ নারীরা দল বেধে চরাঞ্চলে গিয়ে খড়ি, লাকরী কুড়িয়ে তা বাজারে বিক্রি করে সংসারের চাহিদা মেটান। এব্যাপারে জেলে পরিবারের হালচাল জানতে চাইলে, নমদাস পাড়ার অমনিদাস, রাধারাণী, অলুকা, গেন্দা, ময়না, পারুল, কালিতারা, অভিযোগ করে বলেন, হামার দিকে কায় দেইখপে, ভগবানে না দেখে। হামরা জালুয়া , হামার স্বামীরা জাল দিয়ে মাছ মারি সংসার চলায়। আগে হামরা যেডে (যেখানে) খুশি অডে মাছ মারি সংসার চলাছি। এহন আর আগের মত মাছও নাই খোলা-মেলা খালবিলও নাই, হামার জমা-জমিও নাই । তাই হামরা কষ্ট করি বাঁচি আছি। হামার গুলেক ভিজিডির নাম, বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা কোনকিছু দেয়না । তবে তাদের আকুতি বড় বেদনা দায়ক। জমি-জিরাত হীন জেলে সম্প্রদায় পরিবার গুলোর জন্য সরকারি জলাভূমি উন্মুক্ত করে দিলে তারা সহজেই জালদড়ি দিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতে পারতো।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here