রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিরোধীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলা

0
1133

বাংলাদেশে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য ও বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের কাছে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানের বিরুদ্ধে আজ গোটা দেশ সোচ্চার। সরকার যতই যুক্তি দেখাচ্ছে এ বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবন ও প্রকৃতির কোন ক্ষতি করবে না ততই বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদগন এ ক্ষতির বাস্তব ও বিজ্ঞান ভিত্তিক ব্যাখ্যা তুলে ধরছেন। রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পে বছরে কয়লা লাগবে ৪৭ হাজার টন। ১০০টি বড় জাহাজে কয়লা আনার কারনে তেল, কয়লা, ধোঁয়ার মাধ্যমে দূষন হবে মারাত্মক। এ কয়লা লোড-আনলোড করার সময় বাতাসে কার্বনের কণা ছড়িয়ে পড়ে পানি দূষিত হবে বিপুল পরিমানে। এছাড়া জাহাজের শব্দ ও আলো সুন্দরবনের নীরব পরিবেশে বণ্য প্রাণীর জন্য বড় অসুবিধার কারন হবে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে দৈনিক ১৪২ টন সালফার অক্সাইড, ৮৫ টন নাইট্রোজেন অক্সাইড ও বিপুল পরিমান কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হবে। সালফার ও নাইট্রোজেন অক্সাইড বাতাসের অন্যান্য উপাদান ও পানির সাথে মিশে এসিড রেইন তৈরি করবে যা সরাসরি গাছের ক্ষতি করবে ও মাটির পুষ্টিগুণ নষ্ট করে ফেলবে। কার্বন ডাই অক্সাইড বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি করে। এতে রয়েছে ফ্লাই অ্যাশ ও বটম অ্যাশ যার মধ্যে ভারী ধাতু মিশে থাকে। এর বিষ ক্রিয়া ভয়ংকর। বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পানিতে যে বিষাক্ত কেমিক্যাল ও গরম পানি নির্গত হবে তার কারনে নিকটস্ত নদীর জলজ প্রানী ও জলজ উদ্ভিদের বিরুপ্তি ঘটাবে। কয়েক লাখ লোকের জীবন, জীবিকা ও আবাস ভূমি হারিয়ে যাবে। রামপাল প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি মারফত। এ প্রকল্পে বাংলাদেশ  ১৫ শতাংশ ও ভারত ১৫ শতাংশ বিনিয়োগ করবে। বাকি ৭০ শতাংশ ঋন করা হবে। এই ঋনের গ্যারান্টার হবে বাংলাদেশ। অর্থাৎ কোন কারনে প্রকল্প বাতিল হলে বা ঋন পরিশোধে কোম্পানি ব্যর্থ হলে তার সকল দায় নিতে হবে বাংলাদেশকে। এ প্রকল্পের কাজ ৫০শতাংশ করে ভাগ হবে। এ ছাড়া ঠিকাদারি কাজ, কয়লা সরবরাহ ব্যবসা ইত্যাদি সবই দেয়া হবে ভারতকে। দেশের স্বার্থ বিরোধী এ প্রকল্প বাতিলের জন্য এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় মিছিল, লং মার্চ, সাংবাদ সন্মেলন ইত্যাদি আজও চলছে। সম্প্রতি রামপাল বিরোধী সমাবেশে ও সাইকেল র‌্যালিতে পুলিশ ও ছাত্রলীগ যৌথভাবে হামলা চালিয়েছে। এর আগেও রামপাল বিরোধীদের ওপর পুলিশের নির্মম হামলা ও টানা হেঁচড়ার সচিত্র প্রতিবেদন আমরা গণমাধ্যমে দেখতে পাই। অবস্থা দেখে মনে হয় শুধু সরকার ও ছাত্রলীগের স্বার্থেই রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র দরকার।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here