সংবাদ প্রকাশে পরও টনক নড়েনি তিতাস কর্তৃপক্ষের বহাল তবিয়তে দক্ষিণখানের আল্লাহওয়ালাভবনের অবৈধ গ্যাস সংযোগ

0
1053

মাহমুদুল হাসানঃ
রাজধানীর দক্ষিণখান কাওলার উত্তর-পশ্চিম পাড়ায় আশিয়ান সিটি সংলগ্ন মহল্লার ঘরে ঘরে অবৈধ গ্যাস সংযোগের খোঁজ পাওয়া গেছে। কাওলা এলাকা জুড়ে সাকুল্যে প্রায় ৫ শত বাসা বাড়ীতে রয়েছে সম্পূর্ণ অবৈধ চোরাই গ্যাস লাইন। গণমাধ্যমে বারবার অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিষয়টি প্রকাশিত হলেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না তিতাস কতৃপক্ষ। অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রায় ৮ মাস পূর্বে তিতাস গ্যাস বাড্ডা জোনের এডিএম মোঃ শহিদুল্লাহর নেতৃত্বে অবৈধ সংযোগ গুলো বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ ব্যাপারে গত জুন মাসে মোঃ শহিদুল্লাহ গনমাধ্যমকে জানান, আমি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছি, পুনরায় সংযোগ দিয়েছে বলে আমার জানা নেই। তবে সংযোগ দিয়ে থাকলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করবো। এর পর কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদটি প্রকাশিত হলেও তিতাস কতৃপক্ষকে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় নি। সংবাদ প্রকাশের পর হতে শহিদুল্লাহর ব্যবহৃত  মুঠোফোনটি বন্ধ রয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় বৈধ গ্যাস সংযোগকারিরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন আমরা মাস শেষে শুধু বিলই দিয়ে যাচ্ছি গ্যাসের লেশ মাত্র পাই না, অন্য দিকে সরকারি কর্মকর্তারা টাকার বিনিময়ে অবৈধ সংযোগ দিয়েই যাচ্ছে, একাধিক বার অভিযোগ করলেও তাঁরা আমলে নিচ্ছে না। গোপন সূত্রে জানা যায়, তিতাসের কতিপয় অসৎ, অসাধু ও চোরশ্রেণীর কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এসব অবৈধ গ্যাস লাইন বহাল থাকে মিথ্যা মৌখিক বৈধতার ধোঁয়া তুলে। অবৈধ লাইন প্রতি গোপন চুক্তি মাফিক মাসোহারা দিয়ে ও নিয়ে চলছে সরকারী রাজস্ব ফাঁকির সত্য বনাম মিথ্যার বেসাতি। কাওলা এলাকার পাকা, সেমি পাকা, টিনসেড ঘরবাড়ীসহ বহুতল ভবনেও দেখা যায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ। কাওলার উত্তর-পশ্চিম পাড়া আশিয়ান সিটি সংলগ্ন একটি বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ মনগড়া আল্লাহওয়ালা সমিতির সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা ৬ তলা বিশিষ্ট বহুল আলোচিত সমালোচিত আল্লাহওয়ালা ভবনটির অবৈধ গ্যাস সংযোগ গত ০২ জুলাই ২০১৫ বিচ্ছিন্ন করে দেয় যথাযথ কতৃপক্ষ। কিন্তু কয়েক মাস পর আবারও ঐ ভবনে গ্যাস সংযোগ লাগে অজানা ঈশারায়। জানা যায়, আল্লাহওয়ালা ভবন থেকে শেষ সীমান্তের মেইন গ্যাস লাইন প্রায় ৭০০ ফুট দূরে। ঐ ৭০০ ফুটের মধ্যে গ্যাস সংযোগের কোন বৈধ অনুমোদন নাই। অনেকে গ্যাসের জন্য আবেদন করলেও কতৃপক্ষ অপারগতা জানায়। সেক্ষেত্রে সর্বশেষ দূরত্বে থাকা আল্লাহওয়ালা ভবনে গ্যাস সংযোগ নিতান্ত পুকুর চুরির ঘটনা বটে। সরেজমিনে গেলে আল্লাহওয়ালা ভবনের নিরাপত্তা প্রহরী বলে, “এই দালানে ৬০টির মত চুলা জ্বলে।” ভবনের ক্রয়কৃত ফ্লাটের মালিক, ভাড়াটিয়াসহ গায়েবী সমিতির কেউ মুখ খোলেনা। মূল মালিকের নাম, ঠিকানা এমনকি মোবাইল নম্বরও দিতে চায়না কেউ। এদিকে আল্লাহওয়ালা ভবনের বিপরীতে উত্তর পাশে দাঁড়িয়ে আছে আরেকটি ৮ তলা ভবন। এই ভবনে রয়েছে মোট ৮০টি চুলা। ভাড়া দেয়ার জন্য সার্বিকভাবে প্রস্তুত। এই ৮ তলা ভবনের একক মালিক আমিন আহমেদ চৌধুরী বলে জানায় আল্লাহওয়ালা ভবনের ম্যানেজার শাকিল। এলাকাবাসীর কথায় জানাগেছে আমিন আহমেদ চৌধুরী একজন কুখ্যাত ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত। শাকিল বলেন, “এই দুইটি ভবনের জায়গা জমির সঠিক মালিকানা ও জমির পরিমাণ সংক্রান্ত দেওয়ানী মামলা কোর্টে চলমান আছে”। আশেপাশের স্থানীয় লোক মারফত জানা যায়, আল্লাহওয়ালা ভবন দুটির গ্যাস লাইন সম্পূর্ণ অবৈধ। ভবনের জমি অবৈধ জবর দখল করে নেয়া। রাজউকের বৈধ অনুমোদন ছাড়াই গভীর জলমহল ভরাট করে ভবন দুটি কেবলমাত্র বাণিজ্যিকভাবে লাভবানের আশায় নির্মাণ করা হয়েছে। এসকল বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ভূমিদস্যু আমিন আহমেদ চৌধুরীর ডান হাত শাকিল বলেন, “আমিতো কিছুনা। মালিকের কাছে জিজ্ঞাসা করেন। মালিকের ঠিকানা মোবাইল আমার জানা নাই। তবে আপনারা এই এলাকার অভিভাবক বলেন আর বাপ মা যাই বলেন না কেন ঐ মফিজ বেপারী ও তার ছেলে নাঈম নেতার কাছে যান। এলাকায় সবকিছুর মাতব্বরী ঐ বাপবেটার হাতে। আপনাদের ডাইনে বামে সামনে পিছে সব অবৈধ গ্যাস। কি করবেন ? পারলে দুই একটা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা কইরা পরে আমাদের কাছে আসেন”। এলাকাবাসী এই ভবন দুটির বিষয়ে মুখ খোলেনা, সবাই কিছু একটা বলতে চায় কিন্তু মনের কথা মুখে আসেনা অজানা অনাগত শংকায়। তদুপরি রহস্যময়, বিতর্কিত ও নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ আল্লাহওয়ালা ভবন ২টির সকল বৈধতার বিষয়ে অজানাকে জানা, অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাসহ যথাযথ কতৃপক্ষের নজরদারী ও আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন কাওলার শান্তি প্রিয় শান্ত মানুষেরা।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here