মোঃ আবদুল আলীমঃ
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের হয়রানি ও দুর্নীতি নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু থামছে না রাজউক নামক সিটি ডেভলাপম্যান্ট এজেন্সির জন হয়রানি ও ঘুষ দুর্নীতি। ঢাকা শহরে প্রায় পাঁচ হাজারের বেশী বহুতল ভবন রয়েছে যেগুলোর কোনটি রাজউকের পূর্ণাঙ্গ নিয়ম কোনটি আংশিক নিয়ম ভঙ্গ করে নির্মিত হয়েছে। এমন কিছু বহুতল ভবন রয়েছে যেগুলোর কোন প্ল্যান ও নকশা রাজউক থেকে মোটেই পাশ হয় নি। বিষয়টি রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা থেকে শুরু করে পরিচালক পর্যন্ত অবগত আছেন। অথচ ব্যাবস্থা নেয়া হচ্ছে না এসব অনিয়মিত ভবনগুলোর বিরুদ্ধে। ভবন মালিকগন জোর দিয়ে বলে থাকেন যে, রাজউক ম্যানেজ করে তারা বহুতল ভবন নির্মান করে যাচ্ছেন। বিষয়টি উদ্বেগের বটে। ঢাকা শহরের ভূমি কী পরিমান ভবনের ভার সইতে পারবে ও কী পরিমান ভবন নির্মান করা হচ্ছে তার যোগ-বিয়োগ ও সুষ্ঠু ফলাফল রাজউকসহ সরকারের কোন সংস্থার কাছে নেই। সম্প্রতি রাজউকের পূর্বাচল শহর নামক সেলটির অনিয়ম দুর্নীতি লাগাম ছাড়িয়ে গেছে। এখানকার পরিচালক, সহকারী পরিচালক, তপ্তাবধায়ক, কেরানী সকলে মিলে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গঠন করেছে সেবা গ্রহনকারীদেরকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে ঘুষ আদায় করার জন্য। প্লটের নম্বর দেয়া থেকে শুরু করে ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে পাঠাতে হলে মোটা অংকের টাকা দিতে হয় বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। টাকা না দিলে বছরের পর বছর ফাইল পড়ে থাকে। চলতি বছর ২৭ জানুয়ারি দুদকের গণশুনানিতে যেসব ভুক্তভোগি রাজউকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তাদের ওপর হয়রানির মাত্রা বেড়ে গেছে কয়েক গুন। সেই সাথে বেড়েছে ঘুষের পরিমানও। দুদকের গণশুনানিতে দুর্নীতি মোটেই কমেনি। বেড়েছে ঘুষের রেট। এ সংস্থাটির কাছে সেবা গ্রহনকারীরা জিম্মি রয়েছে বছরে পর বছর। প্রতিষ্ঠানটির জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতাও কম। ফলে বেসামাল হয়ে পড়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পূর্বাচল শহরে যেসব লোকের জমি রাজউক অধিগ্রহন করেছে তারা হচ্ছেন সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগি। রাজউক ভবনের এনেক্স ভবনে গিয়ে দেখা গেছে জন হয়রানির চিত্র। সেবা গ্রহনকারীদের সাথে কর্মকর্তা কর্মচারীদের আচরন দেখলে মনে হয় এ যেন মগের মুল্লুক। পূর্বাচল সেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেবা গ্রহনকারীদের সাথে যাচ্ছে তাই আচরন করছে। পরিচালক শেখ শাহীনুল ইসলাম নিজেকে ক্ষমতাশীল প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ট আতœীয় বলে নিজেকে জাহির করে বেশ দাপটের সাথে চলেন বলে একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে জানান। রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে প্লট পওয়ার কথা পূর্ব নয়াটোলার এম এ ইউসুফের। তিনি হয়রানির বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন,“পূর্বাচল প্রকল্পের পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহীনুল ইসলামের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি মুখের ওপর হাই কোর্টের রায় সম্পর্কিত ফাইল ছুড়ে মারেন ও বলেন, এ রকম রায় আমাদের টেবিলের নিচে থাকে”। এম এ ইউসুফের অপরাধ হচ্ছে তিনি চলতি বছর ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দুদকের গণশুনানিতে হয়রানির বিষয়টি উথ্যাপন করেন। সহকরী পরিচালক (ভূমি ও এস্টেট-৩) মেহেদউজ্জামান ও তার সহকর্মীরা সংবাদ কর্মীদের ওপর আক্রমন চালান যাতে কোন সংবাদ কর্মী সেখানে প্রবেশ করতে না পারে। ইতোমধ্যে একটি পত্রিকার সংবাদ কর্মীর ওপর হামলা চালানোর কারনে সহকারী পরিচালক মেহেদউজ্জামানের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় জেনারেল ডাইরি হয়েছে। নিজেদের অপকর্ম ও দুর্নীতিকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য পূর্বাচল সেলের সিন্ডিকেট দুদক কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায় বলে মতিঝিল থানা সূত্রে জানা গেছে। পরিচালক(এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহীনুল ইসলামের কামরাটি হচ্ছে সংবাদ কর্মীদের নির্যাতন কেন্দ্র। সহকারী পরিচালক মেহেদউজ্জামান সংবাদ কর্মীদেরকে ধরে নিয়ে পরিচালক শেখ শাহীনুল ইসলামের কামরায় নিয়ে যায়। তারপর কর্মচারী ও সিন্ডিকেটের লোকজনরা মারধর করে ও অত্যন্ত অমার্জিত ভাষায় গালিগালাজ করে। পূর্বাচল সেলে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একেকজন বিশাল সম্পত্তি ও বিত্তবৈভবের মালিক বলে রাজউক সূত্রে জানা গেছে। সহকারী পরিচালক (ভূমি ও এস্টেট-৩) মেহেদউজ্জামানের নামে ঢাকায় আলিশান বাড়ি, নিজস্ব গাড়ি ও বিশাল আকারের ব্যাংক ব্যালেন্স রয়েছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে জানান। পরিচালক শেখ শাহীনুল ইসলাম নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর আতœীয় পরিচয় দিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। উল্লেখ, দুর্নীতির দায়ে কিছুদিন পর পরই রাজউকের কোন না কোন কর্মকর্তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে দুদক। ধরে নেয়ার সময় পথেই লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে ছাড়া পাওয়ার চুক্ত করতে থাকে র্ধৃত রাজউকের কর্মকর্তা ও কর্মচারী। রাজউকের দুর্নীতি নিয়ে অপরাধ বিচিত্রার তদন্ত অব্যহত আছে। আগামি সংখ্যায় আরও বিস্তারিত থাকছে।
