লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরে যৌতুকের দাবীকৃত টাকা না দেয়ায় কামরুন্নাহার নামের এক গৃহবধুকে পিটিয়ে ও গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্বামী, শশুর ও শাশুড়ীর বিরুদ্ধে। নিহত কামরুন্নাহার সদর উপজেলা দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়ের পালেরহাট এলাকার প্রবাসী আবুল হাসনাতের মেয়ে। সোমবার সকালে নিহতের নিজ এলাকায় জানাযা শেষে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় স্বামী, শশুর ও শাশুড়ী পলাতক রয়েছে।স্থানীয় এলাকাবাসি ও নিহতের স্বজনরা জানান, শনিবার ঈদের দিন সকালে নিহত কামরুন্নাহারকে শহরের বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় (নাজমা মঞ্জিল) শশুর বাড়ীতে শারিরীক নির্যাতনসহ বেধম মারধর করে কামরুন নাহারের স্বামী সোহরাবসহ শশুর তোফায়েল ও শাশুড়ী নাজমা বেগম।
এক পর্যায়ে নিজেরাই মুমূর্ষূ অবস্থায় তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। অবস্থা অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল হাসপতালে প্রেরণ করে। পরে সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষনা করেন। পরে নিহতের মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায় স্বামী, শশুর ও শাশুড়ীর লোকজন।
নিহতের খালা শিল্পি জানান, দু বছর আগে সোহরাবের সাথে কামরুন্নাহারের কোর্টের মাধ্যমে বিয়ে হয়। এক বছর পর একটি ছেলে সন্তান আসে তাদের ঘরে। এর পর থেকে যৌতুক দাবী করে আসছে সোহরাব। না দেয়ায় বিভিন্ন সময় শারিরীক নির্যাতন করতো এবং সর্বশেষ ১৮ রমজান ৫ লক্ষ টাকা দাবী করে সে। ঈদের আগে ১২ হাজার টাকা ঈদ সালামি ও সেমাই চিনিসহ বিভিন্ন ঈদ সামগ্রী দেয়া হয়েছে বলে জানান খালা। ঈদের দিন স্বামী, শশুর ও শাশুড়ী মিলে বেধম মারধর করে। এর পর তাকে হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যায় সে।
এদিকে নিহত কামরুন্নাহারের নাম গোপন রেখে হাসপাতালে ফারিহা উল্ল্যেখ করে ভর্তি করে স্বামী সোহরাব। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশ রেখে পালিয়ে যায় তারা।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক গনেশ চন্দ্র শীল জানান,তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তার নিকট মহে হচ্ছে এটি একটি হত্যাকান্ড। পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

