রেলপথ মন্ত্রী মোঃ মুজিবুল হক বলেছেন, যারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন যারা জ¦ালাও পোড়াও করে মানুষ হত্যা করেছে যারা মানুষের বিপদে এগিয়ে আসেনি, যারা গত ১০বছর মানুষের সাথে কোন প্রকার সম্পর্ক রাখেনি তাদের কি করাণে ভোট দিবেন ? যারা চৌদ্দগ্রাম থেকে নির্বাচিত হয়ে চৌদ্দগ্রামের মানুষের সাথে বেঈমানী করেছে তাদের চৌদ্দগ্রাম বাসী প্রত্যাখান করেছে।
এরা নির্বাচন কমিশন থেকে একটি সন্ত্রাসী দল হিসেবে প্রমাণিত হয়ে একটি নিষিদ্ধ দল। তাদের কোন সঠিক চরিত্র নেই নীতি নেই এরা নিজেদের স্বার্থে যে কোন সময় চরিত্র পরিবর্তন করে ফেলে। অতিতে তাদের মার্কা তথা প্রতীক ছিলো দাঁড়িপাল্লা এবছর এর তা পরিবর্তন করে ধানে শীষ নিয়ে মাঠে নেমেছে। এদের চরিত্র এমনই এরা ভোট নিয়েও এমন করে রূপ পাল্টাবে তাই তাদের বিষয়ে আপনাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাদের ভোট দিয়ে চৌদ্দগ্রাম কে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করবেন নাকি তাদের বিতাড়িত করে চৌদ্দগ্রামকে একটি উন্নত চৌদ্দগ্রামে পরিণত করবেন। মন্ত্রী ১৩ ডিসেম্বর সকাল থেকে দিনব্যাপী চৌদ্দগ্রামের গুনবতী ইউনিয়নের বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রের পথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। মুজিবুল হক আরো বলেন,জামাতের নিজস্ব কোন যোগ্যতা কিংবা অস্তিত্ব নেই যার কারণে বর্তমানে তারা বিএনপি কাঁধে ভর করে রাজনীতিতে নেমেছে। এরা একসময় চৌদ্দগ্রামবাসীকে ধর্মের দোহাই দিয়ে ভোট চাইতে আসতো তারা নির্বাচিত হয়ে যখন ধর্মের জন্য কিংবা ইসলামের কল্যানে কিছু করেনি তাই তারা এখন জনগনের নিকট প্রশ্নের সম্মূখীন হওয়ার ভয়ে তারা এখন ধর্মের কথা বলেনা। এখন তারা আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে ভোট চাইছে। চৌদ্দগ্রামেও একজন জামাতের নেতা ধানের শীষ মার্কা নিয়ে নির্বাচনে এসেছে।তবে আপনাদের বলে রাখি এদের মানুষের কাছে ভোট চাওয়ার মতো কোন প্রকার অর্জন নেই। তারা অতিতে নির্বাচিত হয়েছিলো চৌদ্দগ্রামের মানুষের ভোট নিয়ে। নির্বাচিত হয়ে চৌদ্দগ্রামের মানুষের কল্যানে কোন উন্নয়ন করেনি। বরং চৌদ্দগ্রামের মানুষের সাথে ধোঁকাবাজি করেছে। চৌদ্দগ্রামে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলো। এরা মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করে নিয়েছিলো মানুষকে ভোট কেন্দ্রে যেতে দিতো না। এরা আওয়ামীলীগ কর্মীদের প্রকাশ্যে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছিলো। এদের সময়ে এই দক্ষিণ চৌদ্দগ্রামে কোন নেতা কর্মী তাদের পিতা মাতার সাথে দেখা করতে আসতে পারতো না। মৃত মায়ের জানাযার নামাজ পড়তে আসতে পারেনি। সেই সন্ত্রাসীদের চৌদ্দগ্রাম বাসী বিতাড়িত করে একটি আধুনিক চৌদ্দগ্রাম হিসেবে রূপান্তরিত করেছে। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর চৌদ্দগ্রামে যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে তা চৌদ্দগ্রামের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড। মন্ত্রী আরো বলেন, চৌদ্দগ্রামে ইতোপূর্বে যারা নির্বাচিত হয়েছে তারা চৌদ্দগ্রামের মানুষের সাথে বেঈমানী করেছে। আমি কৃষকের ছেলে আপনাদের ভোটে বার বার নির্বাচিত হয়েছি তারপর সংসদের হুইপ হয়েছি, মন্ত্রী হয়েছি কোনদিন আপনাদের ভুলিনি। আপনাদের পাশে ছিলাম আজিবন থাকবো।
তাই আগামী ৩০ তারিখ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট চাওয়ার জন্য আমি আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আমি এবং আমার নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচিত হলে চৌদ্দগ্রামের প্রতিটি গ্রাম হবে শহর। নির্বাচন এলে জামাত কিছু ক্যাডার বাহিনী ভাড়া করে এনে মেহমান বলে পরিচয় দিয়ে বাড়ি ঘরে আশ্রয় দিয়ে থাকে। তাই এসব মেহমান নামের ক্যাডার কারো বাড়ি ঘরে আশ্রয় নিলে কিংবা জায়গা দিলে প্রশাসনের মাধ্যমে এসব সন্ত্রাসীদের বিরোদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। পথভায় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেনরেলপথ মন্ত্রীর সহধর্মিণী এডভোকেট হনুফা আক্তার রিক্তা, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুস সোবহান ভূঁঞা হাসান, পৌর মেয়র মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদ সদস্য ফারুক আহাম্মেদ মিয়াজী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা বর্তমান কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেতা গোলাম সরোয়ার কবির, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এ বি এম এ বাহার, রাশেদা আখতার, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ জাতীয় কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম, গোলাম ফারুক হেলাল,শাহজালাল মজুমদার, সৈয়দ আহাম্মদ খোকন, কাশিনগর ইউপি চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেন, আওয়ামীলীগ নেতা আবু নসর, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক কামরুল হাসান মুরাদ প্রমূখ। মন্ত্রী গুনবতী ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, বুধড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, খাটরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, গুনবতী হাইস্কুল কেন্দ্র, দশবাহা মাদ্রাসা কেন্দ্র, পরিকোট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও সুরিকরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পথসভা ও গণসংযোগ করেন।

