যদি তওবা করে নিলো তবে দাগটি মুছে গেলো। নতুবা যতই গুণাহ করতে থাকবে, ততই সেই দাগ টি বাড়তে ও ছড়াতে থাকবে। শেষ পর্যন্ত হৃদয়-পটটি এমন কালো ও অন্ধকার হয়ে যায় যে, হক ও
বাতিলের পার্থক্য তার বোধগম্য হয় না। মাঝে মাঝে কুরআন এর কিছু আয়াত এত বেশি মনে গিয়ে লাগে যে সেই আয়াত নিয়ে ভাবনায় চলে যাই৷ নিজের অতীত নিয়ে ভাবতে থাকি, অতীতের করা কাজগুলো নিয়ে ভাবি আর ভয়ে শিউরে উঠি। তেমনি কিছু কথা উপরের এই বাক্যগুলো, নিজের জন্য রিমাইন্ডার। তাফসীর প্রজেক্ট এ প্রথমদিকে যেদিন এ আয়াত পড়লাম এখন অব্দি এটা মনে হলে একই অনুভূতি কাজ করে। উপরের অতীব সত্য কথাগুলো নিচের এই আয়াত এর বিশ্লেষণ এ পেয়েছিলাম। “ওদের কৃতকর্মই ওদের অন্তরে মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে” -সূরা তাত্ফীফ;১৪। অনেক সময় এমন হয়না যে ছোট্ট কোন ভাইরাস শরীরে ঢুকেছে বা কোন রোগ বাসা বেঁধেছে আমরা জানিইনা, ধীরে ধীরে হুট করে এমন কিছু সিম্পটম দেখতে পাই শরীরে যে ততক্ষণে যা হবার তা হয়ে গেছে, পুরো শরীর কে গ্রাস করে ফেলে, পরিণাম অনেক বেশিই ভোগান্তি…….!! আমাদের পাপ কাজ গুলো এমন ই।
আজ ছোট্ট একটি পাপ, কাল আরেকটু বড়, ধীরে ধীরে এমন হয়ে যায় যে দৈনন্দিন জীবনে পাপ করতেছি সেটা অনুভব ও করিনা, পাপ কে পাপ মনে না করে দিব্যি সেসব নিয়েই দিন কাটিয়ে দেই, সামান্য অনুশোচনা টুকু ও হয়না। পাপ পূণ্য যে এক নয় এই মাথাব্যাথাটুকুই থাকে না আমাদের। ইসলামের পথ, ইসলামের বিধি বিধান গুলোকে না মেনে, পাপের পথগুলোকে আমরা সঠিক মনে করি এবং এতে অনঢ় ও থাকি। কত যুক্তি যে এদিকে সঠিক হয়ে যায়… দিনশেষে এগুলো যে পাপ সেই বিচারবুদ্ধিটুকু হারিয়ে ফেলি। পরিণাম ভয়াবহ। আল্লাহ তাআলার নেয়ামত এর যেমন শেষ নেই, তিনি যেমন পরম দয়ালু, ক্ষমাশীল তেমনি আল্লাহ তাআলা সুবিচারক, তার শাস্তি অনেক ভয়াবহ। ভুলে যেন না যাই আমরা। সময় থাকতে ফিরে আসাটা ভীষণ জরুরী।

