মোহাম্মদপুরে আকাশ নীলা হাউজিং এর বিশাল অস্ত্রভান্ডারের যোগানদাতা কে

0
696

ষ্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর মিরপুরে সন্তানের সামনে বাবাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার প্রধান কারণ ছিল হাউজিং ব্যবসা নয়, ভূমি দস্যুতা। সেদিন সারা বাংলাদেশের মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হত্যার ভিডিও দৃশ্যটি দেখে আতংকিত ও ছি: ছি: করেছিল। লোমহর্ষক এই ঘটনার প্রধান আসামী সহ ঐ ঘটনার সব আসামীদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। ঘটনার মূল হোতা র‌্যাবের ক্রয়ফায়ারে নিহত হয়। এই ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও র‌্যাব হাউজিং ব্যবসার উপর নজরদারী শুরু করে। একদল ভন্ড, প্রতারক সন্ত্রাসীরা হাউজিং ব্যবসার অন্তরালে সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে অস্ত্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জমি-ভিটা দখল করা সহ মানুষের সাথে বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে আসছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঢাকা উদ্যানের পাশে তুরাগ নদীর পাড়ে একদল সন্ত্রাসী আকাশ নীলা হাউজিং নামে ভূয়া সাইনবোর্ড দিয়ে সন্ত্রাসীদের আস্তানা গড়ে তোলে।

Advertisement

এই সন্ত্রাসীদের মূল হোতা “খন্দকার জিল্লুর রহমান” তার সন্ত্রাসী বাহিনীদের হাতে-হাতে অস্ত্র দিয়ে নানা ধরণের অপকর্ম সহ বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। জিল্লুর বাহিনী নামে পরিচিত এই বাহিনী দীর্ঘদিন যাবত শনিরবিল, বেড়ীবাঁধ, ঢাকা উদ্যান সহ আশেপাশের এলাকায় নিজস্ব টলারযোগে পাড় হয়ে প্রতিদিন ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও ছিনতাই করে উক্ত আকাশ নীলা হাউজিং-এ আত্মগোপন করতো। বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী উক্ত জিল্লুর বাহিনীর দিকে নজর দেয়ার পাশাপাশি র‌্যাব-২ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং জিল্লুর বাহিনীর প্রধান ২৫টি মামলার আসামী দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী কিলার সালমান-কে বিদেশী অস্ত্র ও ইয়াবা সহ র‌্যাব-২ গ্রেফতার করে। 

উক্ত ঘটনার কয়েকদিন পরেই র‌্যাব-২ কিলার সালমানের প্রধান সহযোগী ২০টি মামলার আসামী মোছ মনির ওরফে পটকা মনির-কে দেশীয় ওয়ান শুটার সহ গ্রেফতার করে। র‌্যাব-২ এর এই ধারাবাহিক অভিযানে জিল্লুর বাহিনীর আরও এক শীর্ষ সন্ত্রাসী রগ কাটা সুমনকে তার ৪ সহযোগী সহ র‌্যাব-২ দেশীয় ওয়ান শুটার ও চাপাতি সহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

 জিল্লুর বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে র‌্যাব-৪ তদের আস্তানায় হানা দিয়ে বিপুল পরিমান পাইপগান, ওয়ান শুটার ও চাপাতি সহ পিচ্চি সুমন-কে তার ৪ সহযোগী সহ গ্রেফতার করে। র‌্যাব-২ এবং র‌্যাব-৪ এর এই ধারাবাহিক অভিযানেও জিল্লুর বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্র প্রদর্শন করে এলাকাবাসীকে আতংকিত সহ জিম্মি করে রেখেছে। তাদেরকে কোনভাবেই থামানো যাচ্ছে না। বর্তমানে সন্ত্রাসী চায়না বাবু ও শুক্কুরের নেতৃত্বে এলাকায় আবারও মাথাচারা দিয়ে উঠছে জিল্লুর বাহিনী।

 র‌্যাব-২ এবং র‌্যাব-৪ এর এত অস্ত্র উদ্ধারের পরও তাদেরকে এত অস্ত্র যোগান দেয় কে ? সন্ত্রাসী চায়না বাবু ও শুক্কুরের নেতৃত্বে ৪০/৪৫ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী দিনের বেলা প্রকাশ্যে শত শত মানুষের সামনে টলারযোগে গুলি করতে করতে নদীপথে মহড়া দেয়। এই বাহিনীর মূল গডফাদার জিল্লুর রহমান পলাতক থাকলেও তাদের অপকর্ম যেন কিছুতেই থামাতে পারছে না আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। তবে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস এই যে, সন্ত্রাসী বাহিনী যতই বড় এবং শক্তিশালী হোক না কেন আইনের হাত তাদের হাতের চেয়ে অনেক বড়। জিল্লুর বাহিনীর নানা অপকর্মের তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ অপরাধ বিচিত্রার হাতে এসে পৌছেছে, যা পর্যায়ক্রমে আগামী সংখ্যা প্রকাশ করবে অপরাধ বিচিত্রা। 

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here