পুলিশের সহযোগিতায় তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে দিয়ে বাড়ি দখলের অভিযোগ

0
481

গাজীপুর মহাগরের গাছা থানার খাইলকুর এলাকায় পুলিশের সহাযোগিতায় তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে দিয়ে এক প্রবাসীর বাড়ি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিন বছর আগে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া স্ত্রীকে দিয়ে বাড়ি জবর দখলের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।প্রবাসীর স্বজনরা অভিযোগ করে জানান, খাইলকুর এলাকার হাজী আব্দুর রহিম দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর যাবত সৌদী আরবের জমজম টাওয়ারে চাকরি করেন। ইতিমধ্যে নানা কারণে তার স্ত্রী রাশিদা বেগমকে দুই দফা তালাক দিয়েছেন। সর্বশেষ গত প্রায় তিন বছর আগে তালাক দেওয়ার পর রাশিদার সাথে তার কোন ধরণের যোগাযোগ নেই। বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে তিনি বর্তমানে সেদেশে আর্থিক অনটনে খুব কষ্টে দিনাতিপাত করছেন।

Advertisement

 ফলে দেশে তার একটি বাড়ি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। ইতিমধ্যে স্বজনদের মাধ্যমে খাইলকুর এলাকায় আধাপাকা একটি বাড়ি বিক্রি করে ৫ লাখ টাকা অগ্রিম গ্রহণ করেন। এলাকার একটি স্বার্থান্বেষী মহল বাড়ি বিক্রিতে সুবিধা নিতে না পরায় তারা আব্দুর রহিমের  তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে দিয়ে গত ১ জানুয়ারি বাড়িটি জবর দখল করে। দখলের সময় প্রবাসীর স্বজনরা পুলিশের জরুরী সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জবর দখলকারীদের পক্ষ নেয়। পরে উভয়পক্ষকে থানায় ডেকে নিয়ে প্রবাসীর স্বজনদেরকে শাঁসিয়ে দেয়া হয় এবং তালাকপ্রাপ্তা ওই নারীকে বাড়িতে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়।

 প্রবাসী হাজী আব্দুর রহিমের দ্বিতীয় স্ত্রী ঝুমুর বলেন, গাছা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নন্দলাল থানায় তার অফিস কক্ষে আমাদেরকে ডেকে নিয়ে চরম দুর্বব্যহার করেন এবং রহস্যজনক কারণে আমার স্বামীর তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী রাশিদার পক্ষাবলম্বন করেন। আমার স্বামী বিদেশ থেকে আসার পর তাকে (নন্দলালকে) না জানিয়ে বাড়িটির সাফ কবলা দলিল যাতে না করেন সেজন্য ক্রেতা সফিকুল ইসলামকে হুঁশিয়ার করে দেন।

এদিকে এব্যাপারে রাশিদার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার টাকায় এই জায়গা কিনে তার (হাজী আব্দুর রহিম) এর নামে রেজিস্ট্রি করেছিল, বাড়িটিও আমার টাকায় করেছে। সে বর্তমানে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করে। আমার দুটি মেয়ের কোন খোঁজ খবর নেয় না। আমি দুটি মেয়েকে নিয়ে খুব কষ্টে ভাড়া বাসায় ছিলাম। বাড়িটি বিক্রির খবর পেয়ে আমি এখানে এসে উঠেছি। রাশিদা তালাকের কোন নোটিশ পাননি বলেও দাবী করেন।

এব্যাপারে গাছা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নন্দলালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রবাসী হাজী আব্দুর রহিম দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সংসার করলেও প্রথম স্ত্রী ও আগের দুই মেয়ে সন্তানের কোন খবর নেয় না। ফলে সে দেশে আসার আগ পর্যন্ত আমরা প্রথম স্ত্রী রাশিদাকে ওই বাড়িতে বসবাস করার জন্য বলেছি। পরবর্তীতে হাজী আব্দুর রহিম দেশে ফিরলে উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে বিষয়টি সুরাহা করা হবে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here