মেয়ে সেজে কখনো সে নাম নিতে স্যান্ড্রা কখনো হেনরিয়েটা

0
648

নরওয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনা ফাঁস করেছে দেশটির পুলিশ। যার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে তিনি একজন ফুটবল রেফারি। ২৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তি তিন শ’র বেশি কিশোরকে যৌন হেনস্থা করেছেন।

Advertisement

 

কয়েক বছর ধরে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আইনজীবীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য মতে, মূলত ইন্টারনেটকে ব্যবহার করে এই ব্যক্তি নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্কের কিশোরদের টার্গেট করতেন। তবে, অনেক কিশোর অভিযুক্ত সেই ব্যক্তির সাথে সরাসরি সাক্ষাতও করেছে। নরওয়ে থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত এই ব্যক্তি মেয়ে সেজে বিভিন্ন চ্যাটিং ফোরামে ছেলেদের সাথে কথা বলতো। মেয়ে সেজে কখনো সে নাম নিতে স্যান্ড্রা কখনো হেনরিয়েটা। ফোরামে কথা বলার মাধ্যমে সে প্রথমে ছেলেদের বিশ্বাস অর্জন করতো। তারপর সেই ছেলেদেরকে প্ররোচিত করতো নিজেদের নগ্ন ছবি ও ভিডিও পাঠাতে। স্থানীয় পত্রিকাগুলো জানাচ্ছে, নগ্ন ছবি ও ভিডিও পাঠানোর জন্য সে কখনো-কখনো এই কিশোরদেরকে অর্থের প্রলোভনও দেখাত। কিন্তু এইসব কিশোরেরা স্যান্ড্রা বা হেনরিয়েটা নামে এই ছদ্মব্যক্তির কাছ একবার যেই না নগ্ন ছবি ও ভিডিও পাঠিয়েছে তাকেই সে ব্ল্যাকমেইল করে ফেলেছে। নগ্ন ছবি ফাঁস করে দেবার ভয় দেখিয়ে কিশোরদেরকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ এই ব্যক্তি তখন আরো নগ্ন ছবি ও ভিডিও আদায় করেছে। নরওয়ের সরকারি কৌঁসুলী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত এই ব্যক্তি ১৬ হাজারের বেশি ভিডিও সংগ্রহ করেছে। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের যেসব অভিযোগ উঠেছে সেগুলোও নগ্ন ছবি ও ভিডিও অনলাইনে প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে করা হয়েছিল বলে বলা হচ্ছে। যারা এই ব্যক্তির সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করেছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ এনেছেন। নরওয়ের সরকারি কৌঁসুলী গুরো হ্যানসন বুল বলেছেন, এটিই হচ্ছে নরওয়ের ইতিহাসে সবচে’ বড় যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনা। যারা এই ব্যক্তির কাছে যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছেন সেইসব মানুষের বয়স ৯ থেকে ২১ বছর বয়স। ১৫ জনের একটি তদন্ত দল এই বিষয়টি নিয়ে খতিয়ে দেখতে গিয়ে সব ছবি, ভিডিও ও চ্যাট ফাইল ঘেঁটে দেখছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রথমে ২০১৬ সালে একবার গ্রেফতার হয়েছিল। কিন্তু তখন ছাড়া পেয়ে যায়। তবে, বর্তমানে সে অসলোর একটি জেলে বন্দী রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত এই ব্যক্তির পক্ষে আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন গুনহিল্ড লেরাম। লেরাম নিজেই এখন থেরাপি নিচ্ছেন। এই কৌঁসুলী বলেছেন, তার মক্কেল আসলে একটা ‘ডাবল লাইফ’ বা ‘দ্বৈত জীবন’ কাটিয়েছে এবং তার ছিল অনলাইনে অবৈধ পন্থায় নিজের অস্তিত্ব জারি রাখার আসক্তি।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here