এস.ডি. বাবুঃ ৭১ এর মা-জননী কোথায় তোমার মুক্তি সেনার দল? বিভিন্ন গানে, গল্পে ও কবিতায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করলেও বাস্তবে তাদের কতটুকু খোঁজ-খবর রাখা হয়। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিপক্ষে বাংলার যে সকল দামাল ছেলেরা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিল, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ সোনার বাংলা পেয়েছি-সেইসব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শুধুমাত্র ২৬শে মার্চ কিংবা ১৬ই ডিসেম্বর এলেই তাদেরকে শ্রদ্ধাভারে স্মরণ করি। কিন্তু বাস্তবে তাঁদের অসহায় জীবন-যাপনের কতটুকুই বা খোঁজ-খবর রাখি। মানিকগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আলী। তিনি একসময় বাংলাদেশে স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে অকুতোভয়ে যুদ্ধ করেছে। বর্তমানে তিনি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে অসহায় ও মানবেতরভাবে দুর্বিসহ জীবন-যাপন করছে। তিনি ১৯৮১ইং সালে মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সেক্রেটারী থাকাকালীন সময়ে দন্ডপ্রাপ্ত ৩১৯০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সাধারণ ক্ষমা করে দিয়ে তাদেরকে মুক্ত করার নেপথ্যে প্রধান কারিগর ছিলেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আলী। এজন্য তিনি কারও নিকট থেকে কোন পারিশ্রমিক নেননি। দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে তিনি মহৎ কাজটি করেছেন।
অথচ ক্ষমাপ্রাপ্ত ঐসকল বীর মুক্তিযোদ্ধারা একদিনের জন্য তার কোন খোঁজ-খবর নেননি। বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আলী, সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসাইন মোঃ এরশাদ এর সাথে ১৯টি দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে সফর করেছেন। অথচ জাতীয় পার্টির কোন নেতা অদ্যবধি তাঁর কোন খোঁজ-খবর নেয়নি। শুধুমাত্র মুক্তিযোদ্ধা ভাতা দিয়ে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আলীর জীবন কোনরকমে অতিবাহিত হচ্ছে। ১৯৭৯ইং সালে তার স্ত্রী মারা যান।
৩ সন্তানের মধ্যে ছোট সন্তানের বয়স ছিল তখন মাত্র দেড় মাস। তিনি সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পরবর্তীতে আর বিয়ে করেননি। বর্তমানে তিনি তাঁর একমাত্র ছেলে সন্তান শাহিনূর ইসলাম শাহীনের সাথে বসবাস করছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আলী দেশের স্বাধীনতার জন্য যে শক্ত হাতে অস্ত্র ধরেছিল আজ সেই হাত ধরার মতো নাতি মোঃ নাজমুল ছাড়া আর কেউ নেই। এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আলীর চোঁখ কান্নায় ছলছল করছিল। দেশের মানুষের কাছে তাঁর অসহায় আর্তি-কেউ আমার খোঁজ-খবর রাখুক আর নাই রাখুক, আমি বাংলাদেশ এবং এদেশের মানুষকে ভালবাসি।

